সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পাল্টা ব্যাখা আবদুল হাইয়ের

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৩:১৫ অপরাহ্ণ

সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পাল্টা ব্যাখা আবদুল হাইয়ের


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫২ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৩৭ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার


সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পাল্টা ব্যাখা আবদুল হাইয়ের

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও এসেছে। এতে আবদুল হাই বলেছেন, ‘আমি যখন জেলা পরিষদের প্রশাসক ছিলাম তখন এফডিআর করা টাকা না দেওয়াতেই এমপিরা ক্ষুব্ধ হয়। এখন সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হচ্ছে।’

আগে ১৮ এপ্রিল সেলিম ওসমান প্রতিক্রিয়ায় আবদুল হাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আর এর আগেরদিন ১৭ এপ্রিল আবদুল হাই মুজিবনগর দিবসের আলোচনায় জেলার ৫টি আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন যে বক্তব্য তিনি গত এক বছর ধরেই দিয়ে আসছেন। ওইসব বক্তব্যে তিনি এও অভিযোগ করছেন যে, নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনে (নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩) আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবহেলিত বঞ্ছিত শোষিত।

সেলিম ওসমান প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ছিলেন মরহুম শামসুজ্জোহার শিষ্য। আর আমি মরহুম শামসুজ্জোহার ছেলে এবং খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা উনারা (আব্দুল হাই ও বাদল) জানেনই না। উনারা শুধু মাইক হাতে পেলে অন্যের গীবত গাইতে শুরু করেন। আমার বড় ভাই আব্দুল হাই যদি উন্নয়ন করতে জানতেন তাহলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য বিশাল অংকের সরকারী টাকা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে এফডিআর করে রাখতেন না। জনগনের সেই টাকা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করতেন। সেটা না করে ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে রেখে তিনি নারায়ণগঞ্জের জনগনকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছেন। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে মার্কা নৌকা না লাঙ্গল সেটা বড় কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটাই বড় কথা। আব্দুল হাই ভাইয়ের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আমি বলবো ‘এই দোষ না সেই দোষ চিৎ হয়ে শুলেও দোষ’।

এ ব্যাপারে আবদুল হাই ব্যাখা জবাবে বলেন, ‘আমি শামসুজ্জোহা সাহেবের শিষ্য ছিলাম এটা সত্য। তিনি আমাদের আদর করতেন।’

এফডিআর প্রসঙ্গে আবদুল হাই বলেন, ‘আমি যখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তখন ২০১৪ সালে জেলার ৫জন এমপিকে আমন্ত্রন করেছিলাম। তখন জেলা পরিষদের এক সভায় সকল এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা পরিষদে ১২০ কোটি টাকা এফডিআর করে ব্যাংকে রাখা ছিল। মূলত এ টাকা দিয়ে জেলা পরিষদের ৩৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী সহ প্রতিষ্ঠানটির খরচ বহন করা হতো। সরকার থেকে এসব খরচ দেওয়া হতো না। এ টাকা এখন দেড়শ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আমরা এফডিআর করেছিলাম ঠিকই কিন্তু সেটা ভাঙানোর ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আমরা তখন বিষয়টি এমপিদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু এমপিরা আমাদের কাছ থেকে তাদের স্ব স্ব এলাকার উন্নয়নের জন্য টাকাগুলো চেয়েছিল। তখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে লিখিত চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি সে চিঠির আবেদন প্রত্যাখান করেছিল। এখানে আমার কোন হাত নাই। কিন্তু এমপিরা তখন ক্ষুব্ধ ছিল। আর সে কারণেই হয়তো সে ক্ষোভ মেটানো হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে হাই বলেন, ‘আমি ৫টি আসনের পক্ষে আছি থাকবো। অচিরেই আমি দলের নীতি নির্ধারক ও সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করে ৫টি আসনে কেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হবে না সেটাও জানতে চাইবো।’

১৭ এপ্রিল ছিল মুজিবনগর দিবস। এ দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সকালে ও বিকেলে আলাদাভাবে কর্মসূচী পালন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘ছাড় দিবেন অন্য জেলায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনে নৌকা দিতে হবে। লাঙ্গলের প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অবহেলিত। তাদের দুঃখ কষ্ট শোনার কেউ নেই। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিতে হবে। জাতীয় পার্টিকে স্থান দেওয়া যাবে না।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ