শান্ত খোকা, সেলিম ওসমানের জবাব

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৩:১৭ অপরাহ্ণ

শান্ত খোকা, সেলিম ওসমানের জবাব


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৩৬ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার


শান্ত খোকা, সেলিম ওসমানের জবাব

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই রয়েছে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির এমপি। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে এহেন ভাষা নয়, যে যেভাবেই পেরেছে সেভাবেই জাতীয় পার্টিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করে বক্তব্য রেখে চলেছেন। এমনকি গত বছর এক অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদা মালা তাঁর বক্তব্যে জাতীয় পার্টিকে তেলাপোকার সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। মালা বলেছিলেন, তেলাপোকাও পাখি আর জাতীয়পার্টিও একটা পার্টি। দুটি আসনের জাতীয়পার্টির এমপিদের নিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ও জেলার শীর্ষ নেতারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করে বক্তব্য রেখে আসছিলেন যেখানে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা এখনও রয়েছেন শান্ত। এমন সময় আওয়ামীলীগকে কঠিন জবাব দিলেন জাতীয় পার্টির অপর এমপি একেএম সেলিম ওসমান।

যদিও জানা গেছে, মাহামুদা মালার ওই বক্তব্যের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সেলিম ওসমান অনেকটা নমনীয়ভাবেই। গত বছর সোনারগাঁয়ে লিয়াকত হোসেন খোকাও একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। কায়সার হাসনাতের একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের রেশ ধরেই খোকা বলেছিলেন, নিলু কামাল জামাল নান্নু এসব ত্যাগ না করলে কায়সারের রাজনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। কিছুদিন ওই ঘটনা নিয়ে সোনারগাঁয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তার আগে পরে সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের নেতারা জাতীয়পার্টির বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রেখে চলেছেন। এখানে বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামীলীগের তেমন ভাবনা দেখা যায়নি।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন, জাতীয় পার্টি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিভেদ বিবাদ চায়না জাতীয় পার্টি। কিন্তু গত ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের দিন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মুহাম্মদ শহীদ বাদলের বক্তব্য শুনে চুপ থাকতে পারেননি সেলিম ওসমান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাইল্যান্ড থেকেও আবদুল হাই ও শহীদ বাদলের বক্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেলিম ওসমান বলেছেন ‘এই দোষ না সেই দোষ চিৎ হয়ে শুলেও দোষ’। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতে বাদলকে স্নেহের বাদল দাবি করে সেলিম ওসমান বলেন ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’।

প্রসঙ্গত ১৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে মুজিবনগর দিবসে আলোচনা সভায় আব্দুল হাই বলেন, ‘ছাড় দিবেন অন্য জেলায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনে নৌকা দিতে হবে। লাঙলের প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অবহেলিত। তাদের দুঃখ কষ্ট শোনার কেউ নেই। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিতে হবে। জাতীয় পার্টিকে স্থান দেওয়া যাবে না।’ আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি করে বলেছেন, ‘কোন গার্মেন্টে বসে আর কাউকে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।’

আওয়ামীলীগের এ দুই নেতার বক্তব্যের বিষয়ে একেএম সেলিম ওসমান বলেন, উনারা দু’জন উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা জানেন না। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ছিলেন মরহুম শামসুজ্জোহার শিষ্য। আর আমি মরহুম শামসুজ্জোহার ছেলে এবং খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা উনারা জানেনই না। উনারা শুধু মাইক হাতে পেলে অন্যের গীবত গাইতে শুরু করেন। আমার বড় ভাই আব্দুল হাই যদি উন্নয়ন করতে জানতেন তাহলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য বিশাল অংকের সরকারী টাকা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে এফডিআর করে রাখতেন না। জনগনের সেই টাকা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করতেন। সেটা না করে ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে রেখে তিনি নারায়ণগঞ্জের জনগনকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছেন। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে মার্কা নৌকা না লাঙ্গল সেটা বড় কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটাই বড় কথা।

শহীদ বাদল প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমার উপ-নির্বাচনের সময় বাদল অনেক পরিশ্রম করেছিল। তিনিও দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে থেকে তাঁর কাছ থেকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারেনি। তিনি দলে বিভেদ সৃষ্টি করার রাজনীতি শিখেছেন। আমি মনে করি বাদলকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া দরকার। যে প্রতিষ্ঠানটিতে উনি দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি সরকারী তোলারাম কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানের থেকেও ভিপি বাদলের যাতায়াত বেশি ছিল। উইজডমে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম করা যাবে না সংবিধানে এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কোন দলীয় কার্যালয় নাই। তাই উইজডম অ্যাটায়ার্স সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়েও শহরে কোথাও জমি দখল করে জাতীয়পার্টির কার্যালয় বানাই নাই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান। আমার পৈত্রিক নিবাস বাইতুল আমানে আওয়ামীলীগের জন্ম। আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের রক্তে প্রবাহিত। যে কারনে আমি নিজেও বলেছি নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। তারপরেও আমি তাদের দলীয় কোন্দল থামতে দেখি নাই। নিজেরা একে অপরের গীবত নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মার্কাটা বড় কথা নাকি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটা বড় কথা? দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে শহরে রেলওয়ের জমি দখল করে আওয়ামীলীগ অফিস বানিয়ে পরসমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তি করার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। স্নেহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তামনে কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ বুঝবে রূপগঞ্জ আর মতলবীরা কখনোই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কথা ভাবতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করতে হলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। তাই পরিশেষে বলবো নির্বাচনে মার্কা নৌকা বা লাঙ্গল না ভেবে উন্নয়ন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষন। সময় হলে উনিই সিদ্ধান্ত দিবেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ