১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, সোমবার ২৮ মে ২০১৮ , ৪:০৫ অপরাহ্ণ

বিএনপি ছেড়ে মহাজোটে দ্বন্দ্ব বিভক্তি স্পষ্ট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৬ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৩:২৬ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার


বিএনপি ছেড়ে মহাজোটে দ্বন্দ্ব বিভক্তি স্পষ্ট

নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকে ছেড়ে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি দলের নেতারা পরস্পরের বিরোধীতা করে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়ায় রাজনৈতিক প্রাঙ্গন উত্তপ্ত আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে নৌকা লাঙলের এই বাকযুদ্ধ টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামীলীগ ও জাপার নেতাদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্য দিয়ে মহাজোটের ভাঙন অনেকটা নিশ্চিত হতে চলেছে।

এদিকে মামলা, ধরপাকড়, জেলা-হাজতের মধ্য দিয়ে জর্জরিত বিএনপি আগে থেকেই অনেকটা কোনঠাসা পরিস্থিতিতে নিশ্চুপ অবস্থানে রয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মাইনাসের ফর্মূলা অনুসারে বিএনপিকে ছেড়ে ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামীলীগ ও জাপা নেতারা পরস্পরের বিরোধীতা শুরু করে সমালোচনা করছেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বচন ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হলে রাজনীতিক নেতাদের হতে আর সময় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের এখনই উপযুক্ত সময় নির্বাচনী মাঠ গরম করে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়া। যদিও নিজ দলের ভেতরে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকার অনেক ঘটনাও অতীতে দেখা গেছে। আর এই নির্বাচনেও প্রত্যেক দলের একই আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরোধীতা করলে নিজ দল অনেকটা বিতর্কের সম্মুখিন হবেন। এছাড়া দলকে বিতর্কিত অবস্থান ফেলার কারণে নিজ দলের নেতারাও দল থেকে ছিটকে পড়বেন। তাই মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান শক্ত করে অন্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিয়োগের জন্য নৌকার মনোনয়নের দাবি করে আসছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। আর এই সময়ে যখন বিএনপির চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া জেলে রয়েছেন আর তার দলের নেতাকর্মীরা মামলা, জেলা-হাজতের মধ্য দিয়ে কোনঠাসা অবস্থান রয়েছে। তাই বিএনপিকে ছেড়ে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন মনোনয়ন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন তখনই আওয়ামীলীগ ও জাপা নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

গত ১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের ২ নং রেল গেইট সংলগ্ন আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় জেলার আওয়ামীলীগের নেতারা একে একে মুখ খুলতে শুরু করলে মহাজোটের শিবিরে ক্রমশ ফাটল দৃশ্যমান হতে থাকে।

ওই দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ‘ছাড় দিবেন অন্য জেলায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনে নৌকা দিতে হবে। লাঙ্গলের প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অবহেলিত। তাদের দুঃখ কষ্ট শোনার কেউ নেই। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিতে হবে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি করে বলেন, ‘কোন গার্মেন্টে বসে আর কাউকে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দলের মধ্যে বেটে ইঁদুর যাতে ঢুকতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা মুখে বলি নৌকা কিন্তু কাজে দেখাই লাঙল। মনে রাখতে হবে, বাইট্টা ইন্দুর কিন্তু ঘরের বান কাটে। তাদের থেকে সাবধান। তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। আমরা এই আসনে অনেক বছর ধরে নৌকায় ভোট দিতে পারিনা। তবে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারছিনা। আমরা নারায়ণগঞ্জে-৫ টি আসনে নৌকা চাই। আর এই ৫ টি আসনে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে নৌকার বিজয় শেখ হাসিনাকে উপহার দিবো। যতদিন অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাসী থাকবে ততদিন তার বিরুদ্ধে কথা বলবোই। তাই সবাইকে সন্ত্রাস, মাদক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন সন্ত্রাস ও বেটে ইঁদুরের বিরুদ্ধে কথা বলবোই। কিছু কিছু লোকের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই এখন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তির খুবই প্রয়োজন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকার মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষ হয়ে ঝাপিয়ে পড়বো।

পরের দিন ১৮ এপ্রিল তাঁদের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেলিম ওসমান বলেন, উনারা দু’জন (আব্দুল হাই ও বাদল) উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা জানেন না। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ছিলেন মরহুম শামসুজ্জোহার শিষ্য। আর আমি মরহুম শামসুজ্জোহার ছেলে এবং খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা উনারা (আব্দুল হাই ও বাদল) জানেনই না। উনারা শুধু মাইক হাতে পেলে অন্যের গীবত গাইতে শুরু করেন। আমার বড় ভাই আব্দুল হাই যদি উন্নয়ন করতে জানতেন তাহলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য বিশাল অংকের সরকারী টাকা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে এফডিআর করে রাখতেন না। জনগনের সেই টাকা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করতেন। সেটা না করে ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে রেখে তিনি নারায়ণগঞ্জের জনগনকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছেন। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে মার্কা নৌকা না লাঙ্গল সেটা বড় কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটাই বড় কথা। আব্দুল হাই ভাইয়ের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আমি বলবো ‘এই দোষ না সেই দোষ চিৎ হয়ে শুলেও দোষ’।

অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল এর করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে সেলিম ওসমান শহীদ বাদলকে স্নেহের বাদল উল্লেখ করে বলেন, আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী প্রায়শই একটি কথা বলতেন। আমার দাদার সেই কথাটিই বলছি ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’। ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমার উপনির্বাচনের সময় বাদল অনেক পরিশ্রম করেছিল। তিনিও দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে থেকে তাঁর কাছ থেকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারেনি। তিনি দলে বিভেদ সৃষ্টি করার রাজনীতি শিখেছেন। আমি মনে করি বাদলকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া দরকার। যে প্রতিষ্ঠানটিতে উনি দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি সরকারী তোলারাম কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানের থেকেও ভিপি বাদলের যাতায়াত বেশি ছিল। উইজডমে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম করা যাবে না সংবিধানে এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কোন দলীয় কার্যালয় নাই। তাই উইজডম অ্যাটায়ার্স সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়েও শহরে কোথাও জমি দখল করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় বানাই নাই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান। আমার পৈত্রিক নিবাস বাইতুল আমানে আওয়ামীলীগের জন্ম। আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের রক্তে প্রবাহিত।  যে কারনে আমি নিজেও বলেছি নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। তারপরেও আমি তাদের দলীয় কোন্দল থামতে দেখি নাই। নিজেরা একে অপরের গীবত নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মার্কাটা বড় কথা নাকি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটা বড় কথা? দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে শহরে রেলওয়ের জমি দখল করে আওয়ামীলীগ অফিস বানিয়ে পরসমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তি করার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। স্নেহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তামনে কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ বুঝবে রূপগঞ্জ আর মতলবীরা কখনোই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কথা ভাবতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করতে হলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। তাই পরিশেষে বলবো নির্বাচনে মার্কা নৌকা বা লাঙ্গল না ভেবে উন্নয়ন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষন। সময় হলে উনিই সিদ্ধান্ত দিবেন।

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আসলেও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলের কোন প্রতিক্রিয়া এখনো দেখা যায়নি।

সেলিম ওসমানের প্রতিক্রিয়ার পাল্টা জবাবে ১৯ এপ্রিল আবদুল হাই বলেছেন, ‘আমি শামসুজ্জোহা সাহেবের শিষ্য ছিলাম এটা সত্য। তিনি আমাদের আদর করতেন।’এফডিআর প্রসঙ্গে আবদুল হাই বলেন, ‘আমি যখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তখন ২০১৪ সালে জেলার ৫জন এমপিকে আমন্ত্রন করেছিলাম। তখন জেলা পরিষদের এক সভায় সকল এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা পরিষদে ১২০ কোটি টাকা এফডিআর করে ব্যাংকে রাখা ছিল। মূলত এ টাকা দিয়ে জেলা পরিষদের ৩৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী সহ প্রতিষ্ঠানটির খরচ বহন করা হতো। সরকার থেকে এসব খরচ দেওয়া হতো না। এ টাকা এখন দেড়শ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আমরা এফডিআর করেছিলাম ঠিকই কিন্তু সেটা ভাঙানোর ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আমরা তখন বিষয়টি এমপিদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু এমপিরা আমাদের কাছ থেকে তাদের স্ব স্ব এলাকার উন্নয়নের জন্য টাকাগুলো চেয়েছিল। তখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে লিখিত চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি সে চিঠির আবেদন প্রত্যাখান করেছিল। এখানে আমার কোন হাত নাই। কিন্তু এমপিরা তখন ক্ষুব্ধ ছিল। আর সে কারণেই হয়তো সে ক্ষোভ মেটানো হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে হাই বলেন, ‘আমি ৫টি আসনের পক্ষে আছি থাকবো। অচিরেই আমি দলের নীতি নির্ধারক ও সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করে ৫টি আসনে কেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হবে না সেটাও জানতে চাইবো।’

এদিকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭ টি থানাতে মোট ১৩ টি মামলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এতে মামলা, জেলা-হাজত ও ধারপাকড়ের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে আছে। এতে করে অনেক নেতা জেলে আবার অনেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। তবে জামিনে বাইরে থাকলেও কোনঠাসা অবস্থান অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বচন নিয়ে তাদেরকে এই মুহূর্তে তেমন কোন শোরগোল করতে দেখা যাচ্ছেনা। আর দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কিংবা তারেক জিয়া ছাড়া তারা নির্বাচনের কথা ভাবতেই পারেনা। আর যেহেতু তারেক জিয়া বিদেশে এবং খালেদা জিয়া জেলে রয়েছে তাই তার মুক্তি ব্যতীত নির্বাচনের কথা ভাবাই যায়না। তবে দলের নির্দেশনা আসলে অবশ্যই নির্বচনের জন্য প্রস্তুত হব।

রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটা বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এখানে বিগত দিনগুলোতে আওয়ামীলীগের বিরোধী হিসেবে বিএনপিকে সব সময় দেখা যেত আর জাতীয় পার্টিকে বিগত কয়েক বছরে অনেকটা নিরব দেখা গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে দৃশ্যপঠ পাল্টে যায়। মনোনয়ন ইস্যুতে মহাজোটের দুটি দলের নেতারা একজন আরেকজনকে মাইনাস ফর্মূলায় বাদ দিয়ে এগিয়ে থাকতে চায়। সেকারণেই নিরব থাকা বিএনপিকে বাদ দিয়ে মহাজোটের এই দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে বিরোধীতা শুরু করেছে। আর এসব বিরোধীতার কারণে মহাজোটের মধ্যে ফাটল দৃশ্যমান হচ্ছে যা একটা পর্যায়ে ভাঙনে পরিণত হবে। তবে যেভাবে এই ফাটল ক্রমণ তীব্র গতিতে এগোচ্ছে তা আচিরেই ভাঙনে পরিণত হবে। আর এসব দ্বন্দ্বে কারণে বিভক্ত হওয়া মহাজোটের সুযোগ নিতে চাইলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ