৪ কার্তিক ১৪২৫, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৮ অপরাহ্ণ

UMo

জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টায় বিএনপি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৩ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার


জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টায় বিএনপি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের মামলা, ধরপাকড়, নির্যাতন, কর্মসূচিতে বাধা সহ বিভিন্ন কর্মকা-ের জর্জরিত হওয়ার পরও শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে জনমনে সহানুভূতি দেখা দিয়েছে। এদিকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারকে গলায় চিপ দিয়ে আটকের ঘটনায় পুলিশ বিতর্কে থাকা সত্ত্বেও জেলা সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে কোমড়ে দড়ি বেঁধে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে আদালতে হাজির করার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ফের বিতর্কের তীরে বিদ্ধ হতে থাকে। আর সেই বিতর্কিত তীরের রক্তক্ষরণে বিএনপি নেতারা মানুষের মনে জায়গা করে নিতে থাকে। তবে অহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন কৌশলে বিএনপি নেতারা মানুষের জনপ্রিয়তা কুড়াচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনীতিক বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, বিগত দিনে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা হরতাল-অবরোধ করে জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতির নানা অভিযোগে উঠে বিএনপি সহ জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে। সেই দৃশ্যপটে দেশের জনগণ বিএনপি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে করে বিএনপি দলের প্রতি জনগণের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে থাকে।

বিএনপি নেতকর্মীরা বলেন, ‘আওয়ামীলীগ সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একদিকে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সবার সামনে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল। আর সেই অপরাধী কলঙ্কের তিলক মাখিয়ে মাখিয়ে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে বিএনপির সম্মান ক্ষুন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ এসব নাটক বুঝে। আরেকটি বিষয় হল, বিএনপি দলের প্রধান খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার কিংবা জেলে প্রেরণ করলে বিএনপি নেতারা মাঠে নেমে এসে আন্দোলন করবে। আর সেই আন্দোলন সংগ্রামের কারণে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি হবে যা জনগণকে দেখিয়ে বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন করে নির্বাচনী প্লাটফর্ম তৈরি করবে। কিন্তু বিএনপি এসব নাটকীয়তা বুঝতে পেরে অহিংস আন্দোলন-কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

এদিকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় সাত শতাধিক নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে আরো কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে জেলায় বিএনপির শীর্ষ নেতা সহ ৮০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা কারাগারে রয়েছেন। আবার অনেকে মুক্তি পেয়েছেন। এসব মামলা হওয়ার পর জেলার সাতটি থানার কয়েক হাজার নেতাকর্মী পলাতক। এদিকে বিপাকে পড়েছে বিএনপি নেতাদের পরিবারগুলো। দুর্বিষহ আতংকের মধ্যে রয়েছে নেতাদের পরিবার পরিজনেরা। এতে করে রাজনীতি ছাড়তে দলের নেতাকর্তীদের চাপ দিচ্ছে স্বজনরা।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার আর ধরপাকড়ের মাধ্য দিয়ে কোন রকমে এ কয়েকটা দিনে অতিবাহিত হয়েছে। তবে জেলার সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতারের পর জামিনে বের হওয়ার সময় আদালতের ফটক থেকে আবারো তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এর পর তাকে কোমড়ে দড়ি পড়িয়ে হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে আদালতে হাজির করতে দেখা যায়। এতে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নিন্দা ও ক্ষোভ দেখা যায়।

এর আগে চেয়রপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারকে আদালত পাড়া থেকে গলায় চিপ দিয় আটক করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল। এর কিছুদিন পর সেই ওসিকে পুরষ্কারও পেতে দেখা যায়। জানাগেছে, জেলা আইনজীবি সমিতিরি নির্বাচনী প্রচারণা করার সময় তাকে পুরনো মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু এভাবে গলায় চিপ দিয়ে প্রকাশ্যে গ্রেফতারকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসন বিতর্কিত হতে থাকে।

এদিকে খালেদা জিয়ার গ্রেফতার ও জেলে প্রেরণকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি করতে গেলে পুলিশ প্রশাসন তাতে বাধা দেয়। এমনকি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্যে প্রেস ক্লাস কিংবা জনবহুল স্থানগুলোতে অবস্থান করতেই দেয়নি। বিএনপি নেতাদের দলীয় কর্মসূচি করতে বাধা দিয়ে তাদেরকে বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ৫-১০ মিনিটের মধ্যে ভিততের অলিগলিতে কর্মসূচি করার অনুমতি দেয়া হয়। আর এভাবেই দলের কর্মসূচিতে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি দলের নেতারা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলের কর্মসূচি করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আমাদের বাধা দিয়ে এসেছে। দলীয় আন্দোলন কর্মসূচি এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই গণতন্ত্রকে আজ টুটি চেপে ধরা হয়েছে।
রাজনীতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘বিএনপিকে একেবারে কোনঠাসা করে দেয়ার পরও তারা বিগত দিনের মত জ্বালাও পোড়াওয়ের আন্দোলনে নামেনি। এছাড়া তাদের উপর নির্যাতন সহ দলীয় কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে যা জনগণের কাছে প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিএনপি জনপ্রিয়তা কুড়াচ্ছে। কারণ জনগণ দেখবে কে ন্যায়ের পক্ষে আছে আর অন্যায়ের পক্ষে আছে। সে হিসেবে জনগণের কাছে যখন ন্যায় অন্যায়টা স্পষ্ট হয়ে উঠতে তখন তারা অন্যায়কে বর্জন করে ন্যায়ের পক্ষ নিতে শুরু করবে এটাই স্বাভাবিক। আর এতো নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপির অহিংস আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের ধৈর্য পরীক্ষা সহ বিগত দিনের জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি থেকে সরে এসেছে বলে জনগণের কাছে গৃহীত হবে। এতে করে জনগণের কাছে তাদের অবস্থান অনেকটা পজিটিভ থাকবে। এতে করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব বিষয়ের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জনগণ ভোট বাক্স পূর্ণ করবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ