মেরেছিলেন কবরী নূর হোসেন ও তোফাজ্জল, পলাশ নিবেন চামড়া!

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৩:১৫ অপরাহ্ণ

মেরেছিলেন কবরী নূর হোসেন ও তোফাজ্জল, পলাশ নিবেন চামড়া!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৩ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০১:৪৩ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার


মেরেছিলেন কবরী নূর হোসেন ও তোফাজ্জল, পলাশ নিবেন চামড়া!

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ছিলেন সারাহ বেগম কবরী। তখন তাঁর মাসলম্যান হিসেবেই পরিচিত ছিলেন শ্রমিক লীগের নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। ওই সময়ে কবরীর সঙ্গে সর্বদা দেখা যেত পলাশকে। তবে এক পর্যায়ে পলাশের সঙ্গে কবরী ও তার লোকজনদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ফতুল্লা গোলাগুলির ঘটনা যেমন ঘটে তেমনি আবার সড়ক অবরোধও হয়।

এমপি থাকা সময়ে দৈনিক শীতলক্ষার ফটো সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম সেন্টুকে চপেটাঘাতের অভিযোগ উঠেছিল কবরীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে তুলকালাম কান্ডও ঘটেছিল।

কবরী যেমন সাংবাদিককে চপেটাঘাত করেছিলেন তেমনি ওই এলাকাতে মানুষ হত্যা করেও আলোচনায় উঠে এসেছিলেন পাগলার তোফাজ্জল হোসেন শিকদার। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মধ্যে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত নূর হোসেন ইতোমধ্যে ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী হয়ে এখন ফাঁসির দড়িতে ঝুলার অপেক্ষায় আছেন। আদালতের বিচারে প্রমাণিত তিনি এ হত্যাকান্ডে জড়িত সম্পৃক্ত।

কবরী যেমন সাংবাদিককে চড় দিয়েছেন, নূর হোসেন ও তোফাজ্জল যেমন মানুষ হত্যা করেছেন তেমনি এবার সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আলীগঞ্জ, পাগলা ও ফতুল্লা এলাকার একদল মানুষ যারা মূলত শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের অনুগামী। এসব মিছিলকারীদের সব সময়ে পলাশের আশেপাশেই দেখা যায়। পলাশের ঘনিষ্ট লোক হিসেবেই পরিচিত।

শুধু সাংবাদিকদের চামড়া তুলে না সঙ্গে চামড়া উঠিয়ে হাত পা গুড়িয়ে দেওয়ারও প্রকাশ্য ঘোষণা এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে কী কবরী, নূর হোসেন আর তোফাজ্জলের পথেই যাচ্ছেন পলাশের লোককজন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে পাগলায় ওয়াসার লেগুনে মানুষ হত্যা করে মাগুর মাছ দিয়ে লাশ খাওয়ানোর সময় গুলি করে উল্লাস করতো নিহত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আশিকুর রহমান শিকদার ওরফে তোফাজ্জল হোসেন শিকদার (৪৫)। অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে খুন হন তিনি। আর সিদ্ধিরগঞ্জে একক রাজত্ব ছিল নূর হোসেনের। সাত খুনের মত মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন এখন ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে। এসব নিয়ে যখন নারায়ণগঞ্জে আলোচনা তখন পাগলার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের পক্ষে বের হওয়া এক মিছিল থেকে অনুগামীরা একজন সাংবাদিকের চামড়া তুলে নেওয়ার হুংকার সহ হাত পা গুড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোন মানুষের চামড়া খুলে নিতে হলে তাকে হত্যা করতে হবে। প্রকাশ্যে পলাশের অনুসারীরা যেভাবে এ ধরনের হুংকার দিয়েছে তাতে করে আবারও লোকজন সেই নূর হোসেন ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী তোফাজ্জল হোসেন শিকদারের সেই ভয়ংকর কথাই স্মরণ করছে। কারণ একজন মানুষের চামড়া তুলে নেওয়া মানে আইন হাতে তুলে নেওয়া। সেই কাজটিই করার ঘোষণা এসেছে পলাশের লোকজনদের পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকবার সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে। হুমকি ধমকি প্রতিনিয়ত হয়েছে। তবে একজন রাজনীতিক এর পক্ষে রাজপথে দাঁড়িয়ে সমাবেশ করে সাংবাদিককে প্রকাশ্য হুমকি এবারই প্রথম। যা ঘটেছে ফতুল্লা থানা পুলিশের একেবারেই সামনে। ক্ষমতার দাপটে এমনটা করতে পারলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়ে এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছে দল এবং দলের বাইরে অনেকেই।

৪ এপ্রিল বুধবার বিকেলে ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ এলাকা থেকে ওই মিছিল বের হয়। মিছিলের সকলেই পাগলা, আলীগঞ্জ ও ফতুল্লার বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ওই মিছিল থেকে প্রকাশ্যে সাংবাদিকের হাত পা গুড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধান জানান, আমার নাম উচ্চারণ করে চামড়া খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ৪ এপ্রিল রাতেই ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেছি। আমি ওই ঘটনায় আতংকিত। কারণ আমার আশংকা পলাশের লোকজন আমার উপর হামলা করতে পারে। কোন মানুষের চামড়া তুলে নিতে হলে তাকে নির্ঘাত হত্যা করতে হবে, এ ধরনের হুমকি সন্ত্রাসীদের মুখেই মানায়।

তোফাজ্জল
২০০৯ সালের ২৩ অক্টোবর খুন হন তোফাজ্জল। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা ও শ্যামপুর সহ বিভিন্ন থানায় ৪টি জোড়া খুনসহ, চাঁদাবাজি, হুমকি, ধর্ষণ, লুটপাট, সহ বিভিন্ন আইনে ২০টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৭টি মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনায় আখ্যায়িত করে প্রত্যাহারের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন তোফাজ্জল।

তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্ট সহ সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর মহড়া, প্রতিপক্ষ লোকজনের ওপর হামলা, অত্যাচার, নববধূকে ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও জেলা পুলিশ প্রশাসন ছিল কার্যত নীরব। হত্যাকান্ডের প্রায় এক মাস আগে থেকেই তোফাজ্জল এলাকার বাইরে অবস্থান শুরু করে। তবে তার অনুপস্থিতিতে বিশাল সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী প্রতিদিন পাগলা ও এর আশপাশ এলাকায় মহড়া দিত।

সন্ত্রাসী তোফাজ্জলের উত্থান
১৯৯০ সালে পাগলা রসুলপুর এলাকায় শাহজাহান ও দেলোয়ারকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে তোফাজ্জল বাহিনী। ১৯৯৫ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পাগলা শাহি বাজার এলাকায় একই কায়দায় হত্যা করে কবির ও ভুট্টু নামে দুই যুবককে। মূলত এই দুটি জোড়া হত্যাকান্ডের পরই তোফাজ্জল বাহিনী পাগলা রসুলপুর এলাকায় একচ্ছত্র মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়। এর পর খুন হয় শফিক ও সাইফুল। এসব যুবকদের হত্যা করে অধিকাংশ সময়েই পাগলায় ওয়াসার লেগুনে ফেলে মাগুর মাছ দিয়ে খাওয়ানোর সময় ফাঁকা গুলি করে উল্লাস করতো তোফাজ্জল। জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটটপাট, অগ্নি সংযোগসহ নানা অপকর্ম শুরু করে তোফাজ্জল বাহিনী। এলাকায় সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দুই যুবক ইদু ও ফালু ওই বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে অধিবাসীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালালে একই কায়দায় এদের দুজনকেও প্রাণ দিতে হয়। ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে তোফাজ্জলের ওপর প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলে সে আওয়ামীলীগে যোগ দেওয়ায় সে সময়ে পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েই পাগলা রসুলপুর এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করে তোফাজ্জল ও তার ভাই মেছের বাহিনী। এ দুই ও তাদের বাহিনী আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে তাদের বড় ভাই গোলাম রসুল শিকদার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ঢাকার তৎকালীন এমপি হাজী সেলিমের ১৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে তোফাজ্জল ও তার বাহিনী। বিষয়টি সেসময়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট হয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মেছেরের বিরুদ্ধে নালিশ জানায়। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ সরকারের মাঝামাঝি সময়ে মেছের ঢাকার মগবাজার কাঁচা বাজার এলাকায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়। এরপর মেছের বাহিনীর দায়িত্ব নেয় তোফাজ্জল। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতে আশ্রয় নেয় তোফাজ্জল। দীর্ঘ ছয় বছর পালিয়ে থাকার পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর র‌্যাবের একটি গোয়েন্দা টিম তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি জার্মানীর তৈরী ৫ রাউন্ড গুলি ভর্তি পিস্তল। ২০০৯ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে জামিনে বেরিয়ে বিশাল সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। এ নিয়ে তোফাজ্জল বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, পাগলার আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন, আলী হোসেন, জসিমউদ্দিন, সজল বাহিনীর সঙ্গে বিরোধ বাধে। এক পর্যায়ে ১৯ জুন পুলিশের উপস্থিতিতে পাগলার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ তোফাজ্জলকে সংবর্ধনা দেয়। ওই দিন বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে রীতিমত আতঙ্কের সৃষ্টি করে তোফাজ্জল বাহিনী। এর আগে ১৭ এপ্রিল তোফাজ্জল বাহিনীর ক্যাডারদের হাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীরু গুলিবিদ্ধ হয়। ১৭ মে ফতুল্লার পাগলায় ট্রাক শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের পাগলা বাজারস্থ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক সমিতির অফিসে হামলা চালায় তোফাজ্জল বাহিনীর ক্যাডাররা। ৪ সেপ্টেম্বর তুচ্ছ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন ও আলী হোসেনের সঙ্গে তোফাজ্জল বাহিনীর বাগবিত-ার এক পর্যায়ে  দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়। এসময় এলাকাবাসীও একত্রিত হয়ে তোফাজ্জল বাহিনীকে ধাওয়া দেয়। তখন তোফাজ্জল ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তোফাজ্জলে নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন ক্যাডার পাগলা শাহীবাজার এলাকায় এসেই ফাঁকা গুলি করতে থাকে। মহড়ার সময় প্রত্যেক ক্যাডারের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছাড়াও দেশীয় অনেক ধারালো অস্ত্র ছিল। তোফাজ্জল বাহিনীর তা-বের খবরে বিক্ষুদ্ধ শত শত এলাকাবাসী ক্যাডার বাহিনীকে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী মসজিদের মাইকে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এ মাসের শুরুর দিকে তোফাজ্জল প্রতিপক্ষ আলাউদ্দিন গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা করে। ৩ অক্টোবর তোফাজ্জলের বড় ভাই অপর সন্ত্রাসী আবদুল হক ওরফে হক্কা এক নববধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এছাড়া পাগলা এলাকায় ভাই ও বোনকে গুলি করে তোফাজ্জল বাহিনীর লোকজন।

নূর হোসেন
উত্থান ঘটে নূর হোসেনের। ট্রাকের হেলপার থেকে ১৯৮৭ সালে ট্রাক ড্রাইভার। পরে ১৯৯১ সাল নাগাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটির কাউন্সিলর। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল একই এলাকার আরেক কাউন্সিলরসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনার পর সারা দেশে যার ব্যাপক পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে তিনি নূর হোসেন। এই রাতারাতি উত্থানে গড়ে তুলেছেন সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

প্রসঙ্গত ভিন্ন এক রাজ্যের রাজা ছিলেন আলোচিত ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নাসিকের বরখাস্তকৃত ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সহ সভাপতি নূর হোসেন চেয়ারম্যান। তার সা¤্রাজ্যে হাত বাড়ালেই মিলতো মাদক। কাউন্টার বসিয়ে বিকিকিনি হতো ফেনসিডিল, বিয়ার, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। ছিল মিনি পতিতালয়ও। কয়েকটি জলসাঘরে ছিল প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জনের সবধরনের ব্যবস্থা। চলতো জুয়ার আসর সঙ্গে যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য। তাকে চাঁদা না দিয়ে ঘুরতো না কোন গাড়ির চাকা। চাঁদা নিয়ে লুকোচুরি হলে পরিবহন মালিকদের দেয়া হতো দন্ড। ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান এমনকি খাবার হোটেল থেকেও চলতো নিয়মিত চাঁদা আদায়। তার চলাফেরাও ছিল অনেকটা রাজকীয় স্টাইলে। নূর হোসেন যেখানেই যেতো সঙ্গে থাকতো তার বিশাল গাড়িবহর। যাতে থাকতো অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি। সঙ্গে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার। নিজের অনুগত ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষিত গানম্যানতো থাকতোই। জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের লোকজন ছিল তার পকেটের লোক। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, ট্রাক স্ট্যান্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, কাঁচপুরের বালুমহাল, মৌচাক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল নূরের সা¤্রাজ্য।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ