১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ , ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

একই কমিটির জাহাঙ্গীর মেয়র পদে, আরাফাতের স্বপ্ন এমপি


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১২:৫৪ পিএম, ৫ মে ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৮:০৩ পিএম, ৯ মে ২০১৮ বুধবার


একই কমিটির জাহাঙ্গীর মেয়র পদে, আরাফাতের স্বপ্ন এমপি

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত একই সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। আরাফাত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যখন সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তখন ওই কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন জাহাঙ্গীর। দুই তরুণ রাজনীতিকে এক সময়ে দোর্দান্ড দাপটে ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে করে যখন মূল দলে তখন ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেন জাহাঙ্গীর।

আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যখন জাহাঙ্গীরকে নিয়ে রীতিমত হৈ চৈ তখন সেই পথেই হাঁটার স্বপ্ন দেখছেন জিএম আরাফাত। তাঁর লক্ষ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কারণ সংশ্লিষ্টদের মতে, যেভাবে তারুণ্যের জয়গান চলছে রাজনীতিতে সেখানে আরাফাতের মত তরুণ নেতাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও আছে সুযোগ।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ও তরুণ ডাইনামিক রাজনীতিকদের কদর বাড়ছে। এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। অনেক বাঘা বাঘা প্রার্থীকে রেখে জাহাঙ্গীরের মত তরুণ রাজনীতিককে দেওয়া হয়েছে মেয়র পদে মনোনয়ন। যদিও সে আগে থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী পদে আছেন। এ পদে তাকে আসীন করাটাও ছিল রীতিমত চমক। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসার কারণেই মূলত জাহাঙ্গীরকে দেওয়া হয়েছে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদ।

অপরদিকে জাহাঙ্গীরের এ উত্থানে স্বপ্ন দেখছেন তাঁরই রাজনৈতিক সহযোদ্ধা জিএম আরাফাত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরাফাতের মত নেতারাও এগিয়ে যেতে পারেন বিভিন্ন এলাকার উদহারণস্বরূপ সেটাও উপলব্ধি করার মত। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের মধ্যে তরুণ প্রার্থী হিসেবে অগ্রভাগেই আছেন আরাফাত।

উল্লেখ্য জিএম আরাফাত ১৯৯১ সালে নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে শ্লোগানে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই তার রাজনীতি শুরু। আওয়ামী পরিবারের সন্তান প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আলম চান মুন্সীর ছেলে। ১৯৯২ সালে দেওভোগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এসএসসিতে প্রথম বিভাগে পাশ করার পর কবি নজরুল ইসলাম কলেজে লেখাপড়া শুরু করেন। ওই সময় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন প্রয়াত সাইদুল হাসান বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম (বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক)। তাদের সাথে পুরোদমে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ান তিনি। যদিও ওই সময় শহর ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেয়ার প্রক্রিয়া চললেও পরবর্তীতে বিএনপির আমলে নানা হামলা মামলা নির্যাতনের কারনে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। কারণ ১৯৯৪ সালে ৪টি রাজনৈতিক মামলায় আসামী হন জিএম আরাফাত। অনেকটা আত্মগোপনে থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করেন।

১৯৯৫ সালে গ্রেফতার হলে সাড়ে তিন মাস কারাভোগ করতে হয়েছিল তাকে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সুনজরে চলে আসেন জিএম আরাফাত। ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হলে সেখানে কারাগারে থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন লিয়াকত আলী শিকদার ও বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু হন সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় নজরুল ইসলাম বাবুর সুদৃষ্টি আসলে জিএম আরাফাত কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পরিচিত লাভ করেন।

মূলত নজরুল ইসলাম বাবুর মাধ্যমেই তার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ওই সময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন আনছার আলী ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম। পরবর্তীতে সভাপতি হন নাজমা রহমান ও সাধরণ সম্পাদক শামীম ওসমান। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রথমে মিছিলটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের নিয়ে পল্টন ময়দানে জমায়েত হয় জিএম আরাফাত। যে কারণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরেও চলে আসেন জিএম আরাফাত।

চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৩ সালের  ২৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় বঙ্গবন্ধ এভিনিউতে। সেই সম্মেলনে এহসানুল হাসান নিপুকে সভাপতি ও জিএম আরাফাত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ও আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা সহ জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকার কমিটিগুলো গঠনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে। যে কারনে তার ফলস্বরুপ সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিএম আরাফাতকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ওই সময় ৬৪ জেলার মধ্যে একমাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ট হন তিনি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিউনিউতে গ্রেনেড হামলার পরে নারায়ণগঞ্জ শহরে যে বিক্ষোভ মিছিল বের হয় তার নেতৃত্বে ছিলেন আরাফাত। ওই সময়ে বিএনপির যুবদল নেতা ইতোমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিড বাদী হয়ে মামলা করেন যেখানে আরাফাতকে প্রধান আসামী করা হয়।

ওয়ান এলিভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে মিছিল বের করে জিএম আরাফাত। সেই মিছিলের ঘটনায় জিএম আরাফাতকে জরুরী আইনের বিধিতে মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ