১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ , ৫:০২ অপরাহ্ণ

তাঁরা ব্যস্ত স্বপদ নিয়ে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১১ পিএম, ১২ মে ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৮:২৪ পিএম, ১৪ মে ২০১৮ সোমবার


তাঁরা ব্যস্ত স্বপদ নিয়ে

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠনগুলোতে বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টি না করার দায় বর্তমানে থাকা নেতাদের উপর বর্তানো হচ্ছে। তাদের অনেকের অভিযোগ এ ব্যর্থতার কারণেই এখনো শামীম ওসমানের বিকল্প হিসেবে কেউ নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছে না। সে কারণেই সবশেষ ছাত্রলীগের জেলা ও মহানগর কমিটিতে সভাপতি ও সেক্রেটারী দুইজনই আসে শামীম ওসমানের সুপারিশে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, শামীম ওসমানের যারা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ বিরোধীতা করে আসছেন তারা নিজেরাই এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আসীন হয়েছেন। কিন্তু সহযোগি সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিপরীতে এসব সংগঠনে শামীম ওসমানের অনুগামীদের প্রজন্ম কেন্দ্রীক নেতৃত্ব গড়ে উঠায় নতুন নেতৃত্বও থাকছে তাঁর কব্জাতেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির রাজনীতিতে শামীম ওসমান বিরোধী হিসেবেই পরিচিত। তাঁর ছেলে মিনহাজুল কাদির মিমন মহানগর ছাত্রলীগের বিগত কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারীর তালিকাতে তার নাম নাই। তাছাড়া আবদুল কাদির নিজেও যুবলীগে নেতৃত্ব দেওয়ার মত কোন নেতা তৈরি করতে পারেনি।

শহর যুবলীগের সভাপতি আছেন শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজুন যিনি শামীম ওসমানের পক্ষের। আর সেক্রেটারী আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল হলেন মেয়র আইভীর ছোট ভাই। তবে সামনে যদি উজ্জলকে কখনো জেলা আওয়ামী লীগ কিংবা মহানগরের কমিটিতে আনা হয় সে ক্ষেত্রে উজ্জ্বলের অনুগামী হয়ে যুবলীগে হাল ধরবে এ ধরনের নেতৃত্বও দেখা যাচ্ছে না। অপরদিকে সাজনু নিজে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছেন।

জেলা ছাত্রলীগের এক সময়ে সভাপতি ছিলেন এহসান হাসান নিপু ও জিএম আরাফাত। তার মধ্যে নিপু এখন যুবলীগের রাজনীতি করতে যাচ্ছেন। আর আরাফাত হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে আরাফাতের সঙ্গে রাজনীতি করে ছাত্রলীগে হাল ধরতে পারবেন এমন কোন নেতৃত্ব দেখা যায়নি। বরং আরাফাত আওয়ামী লীগের মূল পদে ঠাঁই নিয়েই সন্তোষ। যদিও এক সময়ে জামির হোসেন রনি সহ আরো কয়েকজন ছিল ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা যারা আরাফাতের অনুগামী। কিন্তু এখন নতুন করে নেতৃত্ব দেওয়ার মত কেউ নাই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক নিজামউদ্দিন মূলত সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর খালু। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি এ পদে আছেন। ভবিষ্যৎ কমিটির জন্যও তিনি কোন নেতা তৈরি করে যেতে পারেনি।

এর আগে বিলুপ্ত শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল ও সেক্রেটারী জুয়েল হোসেন দুইজনই ছিলেন শামীম ওসমানের অনুগামী। তাঁদের মধ্যে সজল এখন হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। এছাড়া তিনি ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আর জুয়েল হোসেন এখন নব গঠিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। এতে সেক্রেটারী সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলালও শামীম ওসমানের অনুগামী। জুয়েল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল ও শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজুনর ‘ভাগ্নে’। রাজনৈতিক অঙ্গনে জুয়েল ‘ভাগ্নে জুয়েল’ হিসেবেই পরিচিত।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ