১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শুক্রবার ২৫ মে ২০১৮ , ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

না.গঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৬ পিএম, ১৩ মে ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৩:১৬ পিএম, ১৩ মে ২০১৮ রবিবার


না.গঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি দলে থেকেও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম চলছে এক যুগেরও বেশি সময় আগের করা কমিটি দিয়ে। ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অধিকাংশ নেতাই মৃত্যুজনিত অথবা নিস্ক্রিয়তার কারণে হারিয়ে গেছেন। অথচ জেলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগ।

ইতোমধ্যে থানা কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা সাহাবউদ্দিন মন্ডল ইন্তেকাল করেছেন। সভাপতির মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১৫ মে আয়োজন করা হয়েছে স্মরণ সভার। তবে এ সভা নিয়ে সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ যথার্থ সমন্বয় করা হয়নি।

এদিকে সভাপতি মৃত্যুর পরপরই কমিটির পদ বাগাতে নেতাকর্মীদের বাড়ছে দৌড়ঝাঁপ। প্রভাবশালী নেতাদের কাছে ধর্না দেয়া হচ্ছে বারবার।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই ঘোষণার এক বছর পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটির ঘোষণার পর থেকেই দাবী উঠে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থানা কমিটি ঘোষণা করার জন্য। কয়েকটি থানা কমিটির ঘোষণার জন্য প্রদক্ষেপও নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন, বর্তমান সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও সদর থানা যুবলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন এবং বর্তমান থানা কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জসিমউদ্দিন, কৃষকলীগের জেলার দফতর সম্পাদত সওদাগর খান।।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, এদের আল মামুনের জনপ্রিয়তা রয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। যদিও তাদের কমিটির দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় থানা আওয়ামীলীগের চোখে পড়ার মতো কোনো কার্যক্রম ছিল না। দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের ভূমিকা থাকতো নিরব। তবে তিনি বর্তমানে থানা কমিটিকে গুছিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও সদর থানা যুবলীগের সভাপতি সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তিনি সুযোগ সন্ধানী নেতা, সুযোগ বুঝে দলের কথা বলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর সদর থানা যুবলীগের দায়িত্বে থেকেও কোন মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ নেই তার।

অন্যদিকে সদর থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে অনেক অভিযোগ। সভাপতির অনুরোধে সদর থানা কমিটিতে ঠাঁই পেলেও আওয়ামীলীগের কোন মিছিল মিটিংয়ে তিনি অংশগ্রহণ করতেন না।

প্রসঙ্গত ২০০৩ সালের ডিস্বেম্বর মাসে সাহাবউদ্দিন আহমেদ মন্ডলকে সভাপতি ও মো. হায়দার আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মো. হায়দার আলী দলীয় কর্মকান্ডে নিস্ক্রীয় হয়ে যাওয়ার অভিযোগে আল মামুনকে ২০০৬ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তাকে ভারমুক্ত করে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

জেলা কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক সওদাগর খান বলেন, অনেকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নেই। কমিটির অনেক নেতাই নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে। দলের মধ্যে বাসা বেধেছে অন্তঃকোন্দল, দ্বিধা-বিভক্তি। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ভারমুক্ত হয়েছেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। এসব বিষয় বিবেচনা করে নতুন কিমিটি গঠন করাটা খুবই জরুরী।  

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ