ভোটে নির্বাচিত হওয়ার স্বাদ পেলেন না তৈমূর

১ ভাদ্র ১৪২৫, শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮ , ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ভোটে নির্বাচিত হওয়ার স্বাদ পেলেন না তৈমূর


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৪ পিএম, ১৫ মে ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:১৫ পিএম, ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ভোটে নির্বাচিত হওয়ার স্বাদ পেলেন না তৈমূর

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আশা দেখেছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ভোটের মাধ্যমে কোন নির্বাচনে প্রতিনিধি হওয়ার স্বাদ পেতে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই আশা স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেল। নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু সারাদেশের ভোটে কুলিয়ে ওঠতে পারেননি তিনি। ঘটেছে বিএনপি প্রার্থীদের ভরাডুবি। সাধারণ আসনে ৭টি পদের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। গ্রুপ আসনেও একটিতে জয়ী হয়। পরাজিতদের মধ্যে তৈমূর আলম খন্দকার একজন।

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের মাত্র ৭ ঘণ্টা পূর্বে বিএনপি তাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যান। ওই সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আশা দেখেছিলেন তিনিই মেয়র পদে নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পরেও বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করে আসছেন, ওই নির্বাচনে তিনি সরে না গেলে তিনিই হতেন প্রথম মেয়র।

২০০৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন আর হয়ে ওঠেনি। পরে চলে আসে এক এগারো। এরি মধ্যে তিনি চলে যান কারাগারে। ২০০৯ সালের নির্বাচনে আর তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেননি। সর্বশেষ গত বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনেও বিএনপির প্যানেল থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এছাড়াও বিএনপিতে আসার আগেই তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নিতেও নির্বাচন করা হয়নি তার। ছিলেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান, হয়েছিলেন এডিশনাল এ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সংস্থা সহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব তিনি করেছেন। কিন্তু ভোটের মাধ্যমে তার  প্রতিনিধি হয়ে ওঠা হয়নি এখনও।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কাজ করে চলেছেন নিয়মিত। সামনের নির্বাচনে বিএনপি আবারো অংশগ্রহণ না করলেও তার নিরাশেই হয়তো জনপ্রতিনিধিত্ব স্বাদ না নিয়েই রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হবে।

এবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটেছে। এ নির্বাচনে সাধারণ আসনে বিএনপির সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও জয়ী হতে পারেননি। বিএনপির প্যানেল থেকে একজন মাত্র প্রার্থী সাধারণ আসনে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে নারাযণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী সমিতিতে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু তিনি সারাদেশের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে পারেননি।

সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট  গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জের ১ হাজার ১ ভোটের মধ্যে ৭শ ৭৬ জন আইনজীবী তাদের ভোট প্রয়োগ করেন। যার মধ্যে তৈমূর আলম খন্দকার ৫’শ ৮৩ ভোট পেয়ে এখানে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ