কুলিয়ে ওঠতে পারছেনা বাবা ছেলের রাজনীতি

৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮ , ১:২০ অপরাহ্ণ

কুলিয়ে ওঠতে পারছেনা বাবা ছেলের রাজনীতি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৪৫ পিএম, ১৮ মে ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৪৭ পিএম, ২০ মে ২০১৮ রবিবার


কুলিয়ে ওঠতে পারছেনা বাবা ছেলের রাজনীতি

আওয়ামীলীগ পরিবারে উত্থান বাবা ছেলে রাজনীতিতে কুলিয়ে ওঠতে পারছেন না। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান রাজনীতিতে যেনো পিছিয়ে পড়েছেন তারা। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সেক্রেটারি পদ থেকে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হয়ে গেছেন অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। কিন্তু সভাপতি পদে থেকে আবদুল কাদির হয়েছেন সহ-সভাপতি। তারই ছেলে মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে ঠাই পাননি।

জানা গেছে, আবদুল কাদির বিএনপির জোট সরকার আমলে জেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগেও তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে পদার্পন ঘটান। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ছাত্রলীগের তৃনমুল থেকে ওঠা আসা একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ আবদুল কাদির। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তিনি সেক্রেটারি পদে আসতে চেয়েছিলেন। আশা করেছিলেন তাকে সেক্রেটারি করা হবে। কিন্তু এ পদে আসেন তার যুবলীগের সেক্রেটারি শহীদ বাদল।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ভগ্নিপতি আবদুল কাদির এক সময় এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। বিএনপির ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে জেলা যুবলীগের সম্মেলনে আবদুল কাদিরের পক্ষ নিয়েছিলেন শামীম ওসমান। ওই সময় সভাপতি প্রার্থী জাকিরুল আলম হেলালের পক্ষ নেন আইভী। হেলাল এখন শামীম ওসমানের সঙ্গে এবং আবদুল কাদির এখন আইভীর সঙ্গে রাজনীতি করছেন।

আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন আবদুল কাদির। একইভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন শহীদ বাদল ও বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও। প্রথমে নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বর্তমান মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রোকনউদ্দীন নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন করেন।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবদুল কাদির মাঠে নেমেছেন। কিন্তু তিনি সুবিধা করতে পারছেন না। জোরালো গণসংযোগে তাকে দেখা গেলেও হটাত তিনি চুুপসে রয়েছেন। এমনকি অঙ্গ সংগঠনের কোন নিয়ন্ত্রন নেয়ারও চেষ্টা করছেন না। এখন হারিয়ে গেল তার ছেলের মহানগর ছাত্রলীগের পদটিও।

কাদিরের ছেলে মিনহাজুল কাদির মিমন। তাকে ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের গঠিত ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ৪নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কমিটি গঠনের পর ছাত্রলীগের কোন কর্মকান্ডই করতে পারেননি মিমন। এমনকি ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৭নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেও পরাজিত হন মিমন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন খালার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মিমন জয়ে হবেন। এদিকে ২৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয় যেখানে সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সেক্রেটারি হন হাসনাত রহমান বিন্দু। মহানগর কমিটিতে রিয়াদ আহ্বায়ক ও বিন্দু যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু মিমনকে এ কমিটিতে রাখা হয়নি।

এর আগে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজ নিখোজের ঘটনায় গুমের অভিযোগে করা মামলায় আসামি হয়েছিলেন আবদুল কাদিরের চেলে মিনহাজুল কাদির মিমন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ