নারায়ণগঞ্জে বিএনপিতে ১২ কুতুবের ছোবল

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ১:১৮ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপিতে ১২ কুতুবের ছোবল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৬ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০২:০৬ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ শনিবার


নারায়ণগঞ্জে বিএনপিতে ১২ কুতুবের ছোবল

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে বিএনপি একটি দল হলেও এখানে গ্রুপ রয়েছে ১২টি। দলের চেয়ে তাদের অনুসারি নেতাকর্মীরা তাদের এসব গ্রুপ প্রধান নেতাদেরকেই বেশি প্রাধান্য দেন এখানে।

গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের ২৬ জন নেতাকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর এ আংশিক কমিটির ২৬ জন নেতার পিছনে জেলার বেশ কজন নেতার পরোক্ষ হাত রয়েছে। যে কারণে কর্মীরা বলছেন জেলা বিএনপিতে ১২ নেতার ছোবল পড়েছে। কমিটি গঠনের পর ইতিমধ্যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেছে। জেলা বিএনপির নতুন কমিটির প্রথম সভাটি বেশকজন নেতাদের অনুুপস্থিতিতে রূপগঞ্জে সভাপতির কারখানায় হওয়ার পর থেকে বিশৃঙ্খলা ধানা বাধতে শুরু করেছিল।

কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও সেটা করতে পারেনি এক বছরেও। কারন জেলা বিএনপির কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা কোন না কোন নেতার অনুগত অনুসারি। যে কারণে তাদের পিছন থেকে যা নির্দেশ দেয় তাদের নেতারা সেই নির্দেশে কমিটির নেতারা চলেন। সকল নেতারা একসঙ্গেও হতে পারেননি। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর জেলা বিএনপির সকল নেতাদের একসঙ্গে আন্দোলনে দেখা যায়নি।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ৩০ দিনের মধ্যে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি কাজী মনির”জ্জামান মনির যিনি বিগত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে যিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব। কাজী মনির নিজেই একটি বলয়। তার লক্ষ্য রূপগঞ্জ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ হলেন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের লোক হিসেবে পরিচিত। ফলে এ কমিটিতে কাজী মনির ও রেজাউল করিমের ছোবল রয়েছে। কারণ রেজাউল করিমের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মামুন মাহামুদ জেলা যুবদলের সভাপতির পদ হারিয়েছিলেন।

এদিকে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এবারও রয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। শাহআলমের লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া। তবে জেলা বিএনপির কমিটিতে দুএকজন বাদে সকলেই কাজী মনির ও শাহআলমের অনুগত চাটুকার শ্রেণির কর্মীদের বড় বড় পদ দিয়ে কমিটি বানানো হয়েছে। কমিটির ধরণ থেকে কেউ কেউ প্যাকেজ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

কমিটিতে সহ-সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও জান্নাতুল ফেরদৌস হলেন মুলত সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীনের লোক। তারা গিয়াসউদ্দীনের পারপাস সার্ব করার লক্ষ্যেই কাজ করবেন। সহ-সভাপতি শাসমসুজ্জামান হলেন কাজী মনিরের চাটুকর। সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস হলেন শাহআলমের চাটুকার। সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজেই একটি বলয়। সহ-সভাপতি আবদুল হাই রাজু গিয়াসউদ্দীনের লোক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি এখন নিজেই বলয় সৃষ্টি করছেন। সহ-সভাপতি মনির”ল ইসলাম রবি ও পারভেজ আহমেদ এক সময় তৈমূর আলম খন্দকারের লোক ছিলেন। লুৎফর রহমান আবদু হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের লোক। যুগ্ম  সম্পাদক লৎফর রহমান খোকা ও এমএ আকবর হলেন শাহআলমের চাটুকার।

সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পান্না হলেন শাহআলমের চাটুকার। সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন হলেন কাজী মনিরের লোক এবং অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান ও রুহুল আমিন হলেন শাহআলমের চাটুকার।

কমিটিতে সদস্য পদে সাবেক এমপি রেজাউল করীম, গিয়াসউদ্দিন, বদরুজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া। এরা প্রত্যেকেই একটি করে বলয়। এসব কারনে নেতাকর্মীরা মনে করছেন বর্তমান কমিটিতে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কারন এ কমিটিতে রয়েছে ১২ কুতুবের ছোবল। যার যার নিজস্ব বলয় পোক্ত করতে গ্রুপিং শুরু করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যার যার লক্ষ্যমাত্র নির্দিষ্ট আসন এলাকায় পোক্ত হতে গ্রুপিং ও বলয় পোক্ত করছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ