২৮ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

UMo

অসহায় তৈমূর : চোখের সামনে ছোট ভাইকে বস্তার মত টেনে তুললো পুলিশ!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০২ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ রবিবার


অসহায় তৈমূর : চোখের সামনে ছোট ভাইকে বস্তার মত টেনে তুললো পুলিশ!

রবিবার (২৭ মে) সকাল থেকে এক অস্থিরতার মধ্যে কাটালেন বড় ভাই তৈমূর আলম খন্দকার। তার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে রিমান্ড শুনানি হবে তাই সকালেই আদালতে চলে এসেছেন মনে হলো অনেক আইনজীবীদের আগেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অসহায়ত্ব আর ক্ষোভ দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই করতে পারলেন না তৈমূর আলম। চোখের সামনেই যে ছোট ভাই কাউন্সিলর খোরশেদকে প্রিজন ভ্যানে বস্তার মত করে টেনে তুললো পুলিশ। এ এক অসহনীয় যন্ত্রনাবোধ হয়তো তৈমূরের ভিতরে কাজ করছিল তখন।

এদিন অন্যান্য দিনের মত করে প্রিজন ভ্যানটিতে ওঠার সুবিধাও ছিল না খোরশেদের জন্য। প্রায় তিন ফিটের উপর বেয়ে প্রিজনে ওঠতে হলো। দীর্ঘদেহি স্বাস্থ্যবান এ কাউন্সিলকে উপরে থেকে দুই পুলিশ টেনে ও নিচ থেকে আরও দুই পুলিশ সদস্য থাক্কা দিয়ে বস্তার করে প্রিজন ভ্যানে তুলে দিল। গাড়িতে ওঠার পর  খোরশেদের চোখে মুখে তীর্যক ক্ষোভ ও বুক ফাটা আর্তনাদ প্রকাশ পেল তখন। লজ্জায় হয়তো কাঁদতে পারছিলেন না তিনি। অসহায় এতিমদের চেয়েও বড় অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকলো মহানগর যুবদলের কয়েকশ নেতাকর্মীও। পুলিশের স্থলে সাধারণ জনগণও একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলরকে চোর বাটপার ছিনতাইকারী পকেটমারদের মত করে প্রিজনে তুললে হয়তো এসব নেতাকর্মীরা বারোটা বাজিয়ে ছাড়তো। কিন্তু তারাতো পুলিশ। আর যেনো না হয়, আর যেনো হয় এমনটাই পুলিশ সদস্যদের প্রতি তাদেরও আঁকুতি বারবার দেখা গেল। কিন্তু কে শুনে কার কথা তাতো পুলিশ তাই যত কষ্ট দেয়া যাবে, কষ্ট থেকে বাঁচতে হলে কিছু পকেট খরচ তো বের করা যাবে। বড় নেতা। হয়রানি বাড়িয়ে দিলে টাকা পাওয়া যাবে যে! যে কারণে পুলিশ আসামিদের আসামি হিসেবেই ব্যবহার করছেন আবার নেতা হলে একটু বেশিই করছেন বলেও নেতাকর্মীরা তখন অভিযোগ তুলেন।

প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় অসহায়ের মত করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর তৈমূর আলমের কিছুই করার ছিল না। নিজেও যে পুলিশের হাতের গলায় চিপ খেয়েছিলেন। গুলি খেয়েছেন মার খেয়েছিলেন। ২নং রেলগেটের সামনে পুলিশের আগুনে তা দেয়া লাঠির আঘাতও পিঠে নিয়েছিলেন তৈমূর। হয়তো মনে মনে ভাবছিলেন ওই নির্মমতা যেনো ছোট ভাই খোরশেদের বেলায় চোঁখের সামনে না হয়। নিজের কষ্ট মানা যায় কিন্তু চোখের সামনে ছোট ভাইয়ের কষ্ট কি মানা যাবে? রিমান্ড পুলিশ আবেদন করলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেও দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার জন্য আবারো আবেদন করেন তৈমূর। কিন্তু আদালত সেই আদেশ বহাল রাখেন।

এসব দৃশ্যগুলো ২৭ মে রোববার নারায়ণগঞ্জ আদালতের। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার একটি মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় রিমান্ড শুনানি হয় রবিবার নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে। আদালত ২ দুদিনের রিমান্ড মুঞ্জর করলে ওই আদেশটি পুনর্বিবেচনার জন্য আবারো আবেদন করে তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু আদালত তার আদেশ বহাল রাখেন। ফলে খোরশেদ এখন দুই দিনের রিমান্ডে।

এর আগে সকাল বেলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে উপস্থিত হন তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ছিলেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান। হয়েছিলেন এডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এপিলেড ডিভিশনের একজন আইনজীবী। বিএনপির রাজনীতি করে বেশকবার তিনিও কারাগারে গিয়েছিলেন। টানা ২৬ মাস জেল খাটার অভিজ্ঞতাও তার হয়েছে। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে গুলি খেয়েছিলেন। তার ভাই খোরশেদ একাধিকবার কারাগারে গিয়েছেন। ভাগিনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রশিদুর রহমান রশুও একাধিকবার কারাগারে গিয়েছেন। রাজপথে পুলিশের ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তৈমূরের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশ করায় খুনের শিকার হন।

রবিবার সকালে আদালতে শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন তৈমূর। বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন আদালত। আদালত দুই দিনের রিমান্ডে দেয় খোরশেদকে। পরে আবারো আবেদন করলেও আদালত তার আদেশ বহাল রাখেন। দুপুর দুটার দিকে নারায়ণগঞ্জ গারদ থেকে প্রিজনে খোরশেদকে কারাগারে নেয়া হয়। কারাগারে নেওয়ার সময় খোরশেদকে অনেকটা বস্তার মত করেই টেনে তুলতে হলো পুুলিশকে। ওই সময় সামনেই অসহায়ের মত দাড়িয়ে ছিলেন তৈমূর।

পরে সাংবাদিকদের কাছে তৈমূর আলম খন্দকার দাবি করেন, যে মামলায় খোরশেদকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে ওই মামলায় প্রতিটি আসামি জামিনে রয়েছেন। এ মামলায় খোরশেদ এজাহারভুক্ত আসামিও নয়। কিন্তু যারা এজাহারভুক্ত আসামি তাদের কাউকেই রিমান্ডে নেয়া হয়নি। কিন্তু অজ্ঞাত আসামি খোরশেদকে রিমান্ডে নেয়া হলো! তাহলে আমরা বিচার কোথায় পাবো? আর উচ্চ আদালত থেকে সকল মামলায় জামিনের আদেশ নারায়ণগঞ্জে আসার পরই নারায়ণগঞ্জের এসপি বুঝতে পারলেন খোরশেদকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে। তিনি হাইকোর্টের আদেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখালেন।

এদিকে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুল থেকে এলাকাবাসীর মাঝে স্মার্টকার্ড বিতরণের সময় পুলিশ খোরশেদকে গ্রেপ্তার করে। পরে সদর ও ফতুল্লা সহ বিভিন্ন থানার বেশকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই সব মামলাগুলো উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান খোরশেদ। গত বুধবার সেই মামলার জামিন আদেশ নারায়ণগঞ্জ কারাগারে আসলে কারাগার থেকে বের হলে কারাগারের সামনে সদর মডেল থানা পুুলিশ আবারো তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ