জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিতর্কে বিঁধছে ছন্দ হারানো হেফাজত

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ১:১৮ অপরাহ্ণ

জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিতর্কে বিঁধছে ছন্দ হারানো হেফাজত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৮:১২ পিএম, ২৯ মে ২০১৮ মঙ্গলবার


জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিতর্কে বিঁধছে ছন্দ হারানো হেফাজত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের শো ডাউনের পরদিন ৬ মে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে হেফাজতে ইসলাম, স্থানীয় লোকজন ও হেফাজত লেবাসে থাকা জামায়াত শিবিরের ক্যাডারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে টানা সাড়ে ৫ঘণ্টার ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত সেদিন ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে এর আগেই নারায়ণগঞ্জে নানা কারণে বেশ আলোচিত ছিল হেফাজতে ইসলাম।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ, ১৩ দফা দাবীতে মহাসমাবেশ সহ, চাষাঢ়ায় রাজীব চত্বর ভাঙচুর সহ আরো কিছু কাজ করে তখন আলোচিত হয়ে উঠে হেফাজতে ইসলাম। কিন্তু গত ৫ বছরে ইসলামী আদর্শের এক সংগঠনটি নানাভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

সবশেষ তারা বিতর্কিত হলো সমালোচিত জামায়াতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে। ২৫ মে শুক্রবার জমিয়তে উলামা ইসলাম যে কমিটির নেতৃত্বে আবার হেফাজতে ইসলামের নেতারাও তাদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মাঈনউদ্দিন আহমদ যিনি সম্প্রতি নাশকতা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন।

জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধ অভিযোগে জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতার কারাদন্ড হয়েছে। এখনো কারাগারে আছে অনেকে। এসব কারণে দলটির নিবন্ধনও বাতিল হয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটে জামায়াত থাকলেও সেটা না থাকার মত। কারণ জামায়াতকে বর্তমান প্রজন্ম ও সাধারণ জনতাও এখন ভিন্ন চোখে দেখে, নাক সিটকায়। সেই জামায়াতে নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলাম নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে। হেফাজতের ভেতরগত সংগঠন জমিয়তে উলামা ইসলাম ইফতার ও আলোচনা সভা করে।

কখনো আওয়ামলীগ কখনো বিএনপির উপর ভর করে চলা এই দলকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। আর দল বদলের রাজনীতিকারী এই দলকে এখন অনেকে কিছুটা ভিন্ন চোখে দেখছে। কারণ এই দল লোভ-লালসা ও ক্ষমতার লোভে কখনো এই দল কখনো ওই দলে নোঙ্গর ফেলছে।

গত ২৫ মে জমিয়তে উলামা ইসলামের একটি ইফতার পার্টি হয় নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে জামায়াতের মহানগর কমিটির আমীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গত বছরও অনুষ্ঠিত ইফতারেও তিনি ছিলেন। মাঝে গত বছরের নভেম্বরে নাশকতার অভিযোগে তিনি সহ আরো কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হন ও পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা যখন জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে তখনই তাদের কদাচিত মিত্র বনে যাওয়া হেফাজত নেতারাই মূলত জামায়াতকে আবারও মাঠে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

সবশেষ গত ২৫ মে যে ইফতার হয়েছে সেখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তুমুল আলোচনার ঝড় তুলেন। সেই সঙ্গে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা জানান, বিএনপির সকল স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সপ্তাহের ৭দিনের মধ্যে ৪দিনই গড়ে কাটাতে হয় আদালতের বারান্দায়। বরং হেফাজতের ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে এর লংকাকান্ডের ঘটনাতেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলার আসামী হতে হয়েছিল। ওইসব মামলাতে এখনো তারা আতংকিত। হেফাজত ও জমিয়তের নেতারা এসব মামলা থেকে দূরে থাকলেও তারাই আবার জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছেন। সেখানে জামায়াতের নেতারা বক্তব্য রাখছেন। অথচ বিএনপি নারায়ণগঞ্জে গত কয়েক বছর ধরে কোনভাবেই জামায়াতকে পাশে রেখে কোন ধরনের অনুষ্ঠান করছেন না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর ‘বি’ টিম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বহুল আলোচিত হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে ওলামা ইসলাম। কতিপয় নেতাদের হাতে জিম্মী এ দুটি সংগঠন সরাসরি জামায়াতের পৃষ্ঠপোশকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে যা ক্রমশ প্রমাণিত হচ্ছে। সবখানে যেখানে জামায়াতকে এড়িয়ে চলছে সকল দল খোদ বিএনপি সহ সেখানেই নারায়ণগঞ্জে জামায়াতকে আবারও মাঠে নামার সুযোগ করে দিচ্ছে হেফাজত ও জমিয়ত। তবে আবার তারা কখনো কখনো নিজেদের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশেও থাকছে। এসব নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ