আইভীর বিরুদ্ধে কড়া ক্ষোভ

৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮ , ১:২০ অপরাহ্ণ

আইভীর বিরুদ্ধে কড়া ক্ষোভ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:১৭ পিএম, ১ জুন ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৫৪ পিএম, ৩ জুন ২০১৮ রবিবার


আইভীর বিরুদ্ধে কড়া ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের সামনে সিটি কর্পোরেশনের ৪ ট্রাক ময়লা আবর্জনা রাখার ঘটনা নিয়ে চরম ক্ষোভ চলছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে। শুক্রবার এনিয়ে খোদ সরকারীদল আওয়ামীলীগ ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চলছে সরব সমালোচনা।

৩১ মে বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার বাসভবনের সামনে সারি সারি ময়লা আবর্জনার ট্রাকের ছবি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, নিজেদের কোন ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় নারায়ণগঞ্জ শহরের গৃহাস্থলীর ময়লা আবর্জনা অপসারণ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই বিপাকে পড়েছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় (মেথর খোলা) সাবেক পৌর আমল থেকেই শত বছরের ডাম্পিং স্টেশন থাকলেও সেখানে বেসরকারী পার্ক ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ময়লা ফেলার জায়গা নিঃশেষ হয়ে আসে। অস্থায়ীভাবে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়িতে ময়লা ফেলাতে স্থানীয় অধিবাসীদের আপত্তির প্রেক্ষিতে বাধা দেন সদর উপজেলা ইউএনও। সেখানে রাস্তার দু’পাশে প্রায় ২কিলোমিটার জায়গায় সিটি কর্পোরেশনের বিশাল ময়লার ভাগাড়ের কারণে আশপাশের কয়েক হাজার অধিবাসীকে অবর্ননীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। ফলে গত ২৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৪দিন সিটি কর্পোরেশনের ময়লা অপসারণ বন্ধ থাকায় সারা শহর পরিণত হয় ডাম্পিং স্টেশনে। এই অবস্থায় ময়লা ফেলার জায়গা না পাওয়ায় ৩১ মে প্রথমে শহরের ওসমানী স্টেডিয়ামের পাশে এবং পরে ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুরের একটি জায়গাতেও আবর্জনা ফেলতে গিয়ে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় অর্ধশত টন ময়লার বেশ কয়েকটি ট্রাক জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের সামনে রেখে আসেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পরলে এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র যিনি আছেন। তিনি নিজে যা ভালো মনে করেন তাই করেন। জেলা প্রশাসকের বাড়ির সামনে ময়লার ট্রাক রেখে আসার যৌক্তিকতা আমি খুঁেজ পাচ্ছিনা। সমস্যা থাকলে উনি ডিসির সাথে আলোচনা করতে পারতেন, বসতে পারতেন। কিন্তু এমন কাজ মোটেও সমীচিন নয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানিয়েছেন, একজন জেলা প্রশাসক সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তার বাড়ির সামনে ময়লার ট্রাক রেখে দেয়াটা সরকারের ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে। নারায়ণগঞ্জবাসীকে লজ্জার মধ্যে ফেলেছে। এই কাজটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলেই মনে হচ্ছে।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল জানান, মেয়র আইভী গত কয়েক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জে আসা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারদের দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে বলে আসছেন তারা বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে এখানে আসেন। ডিসি, এসপিরা জেলায় আসেন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আদেশ নির্দেশে। তাহলে সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করে কাকে খুশি করছেন।

শহীদ বাদল বলেন, যে আইভীকে নিয়ে বাঁশের কেল্লার মত জামাত-শিবিরের মুখপাত্র গুন কীর্তন করে তার ব্যপারে এর বেশী কথা বলতে চাই না।

জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের বাড়ির সামনে ময়লার ট্রাক রেখে দিয়ে মেয়র আইভী হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জবাসীকে ছোট করেছেন। পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত ময়লা নিয়ে আমাদের যে ভোগান্তি তার সকল ব্যর্থতার দায়ভার মেয়রের। কোন সভ্য দেশ হলে সেই কর্পোরেশনের মেয়র অনেক আগেই পদত্যাগ করতেন।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যাই সমাধান হয়। কোন শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষের পক্ষে ডিসির বাসভবনের সামনে ময়লার ট্রাক রেখে দেয়ার ঘটনা সম্ভব নয় বলে আমার বিশ্বাস। এটি অত্যন্ত নোংরা একটি কাজ হয়েছে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিরিন বেগম  জানান, যে মেয়র শত বছরের নারী শিক্ষার অগ্রদূত মর্গ্যান স্কুল ভেঙে ফেলতে পারেন তার কাছে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনাই আশা করি আমরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর টিটু জানিয়েছেন, এভাবে একজন জেলা প্রশাসককে হেনস্তা করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সরকার ও প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে চপেটাঘাত করেছে। সিটি মেয়র ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বলেই তার পক্ষে এমন নোংরামি সম্ভব।

এদিকে বাসভসনের সামনে ময়লার ট্রাক রাখার ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া জানান, সিটি কর্পোরেশন ময়লা ফেলার ডাম্পিং জোনের জায়গা চেয়ে সিটি কর্পোরেশন আবেদন করেছে। আবেদনটি বিবেচনা করে জমি বরাদ্দের জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি কাজে নিয়মনীতির পাশাপাশি সময়ের প্রয়োজনও রয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ময়লা ফেলার কারণে এলাকাবাসী ও পরিবহন যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। এ কারনে ময়লা ফেলতে নিষেধ করা হয়েছিলো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ