২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগে উচ্চ শিক্ষিত, ছাত্রদলে নাজেহাল


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৯ পিএম, ৭ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগে উচ্চ শিক্ষিত, ছাত্রদলে নাজেহাল

গত ২৯ এপ্রিল ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। দুটি কমিটিতেই সভাপতি ও সেক্রেটারি পদে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দুটি কমিটিকেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি পদ পাওয়া ৪ জন নেতাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। অন্যদিকে ৫ মে গঠন করা হয় নারায়ণগঞ্জ ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি। ১২ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ও ১৫ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এ দুটি কমিটিতে দুএকজন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও প্রায় অধিকাংশদেরই ছাত্রত্ব নেই। বিয়ে করে সংসার করছেন অধিকাংশরা। আবার রয়েছে স্বশিক্ষিত আন্ডার মেট্রিক। আড়াইহাজার থেকে একজন পদ পাওয়া নেতা মোবাইলে ফোন নাম্বারও সেভ করে কারো নাম লিখতে জানেন না এমন নেতাও ছাত্রদলের বড় পদ পেয়েছেন। ফলে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতকির্ত হয়েছে এ কমিটি।

২৯ এপ্রিল গঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। সেক্রেটারি আশরাফুল ইসমাঈল রাফেল প্রধান তোলারাম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে এলএলবিতে এডমিশন নিয়েছেন। মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রধান নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত এবং এ বছর তিনি নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে এডমিশন নিয়েছেন।

অন্যদিকে পুুরোপুরি উল্টো চিত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রত্ব নেই দুএকজন বাদে কারোরই। এ দুএকজননের নামকাওয়াস্তে ছাত্রত্ব থাকলেও বাকিদের অবস্থা নাজেহাল। বিয়ে করেছেন দুএকজন বাদে সবাই। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন তাদের দিয়ে ছাত্রদল নয় শ্রমিকদলের কমিটি গঠন সমুচিন ছিল। তবে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের এমন ধরনের কমিটি গঠন নতুন কিছু নয়। ছাত্রলীগের শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি বয়সের সীমা ২৯ বছর বেধে দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ছাত্রদলের কোন বয়সের নির্দিষ্টতা নেই কিন্ত্র অন্তত লেখাাপড়া জানা হতে হবে। আর সেটাও এখণ হলো না নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের কমিটির ক্ষেত্রে।

কমিটি গঠনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সেক্রেটারি আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে মিছিল হচ্ছে। তাদের কুশপুত্তালিকাদাহ সহ নানা ধরনের কুৎসিত রাজনীতি করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যা ক্ষোবের বহিপ্রকাশ। তাদের অভিযোগ কমিটি বানিজ্য ঈদ বানিজ্যের কমিটি এই জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি।

নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কোন সম্মেলন বা কোন আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও কেন্দ্রীয়ভাবেই তদবির লবিং ও শীর্ষ নেতাদের উপটোকেনের মাধ্যমেই এমন কমিটি গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের দুটি আংশিক কমিটিতে অধিকাংশরা ঠাঁই পেয়েছেন অছাত্র স্বশিক্ষিত ও আন্ডার মেট্রিক পাস করা ব্যক্তিরাও। দুএকজনের নামকাওয়াস্তে ছাত্রত্ব থাকলেও দূরবীন দিয়েও তাদের খুজে পাওয়া যাবে না। কমিটিতে শীর্ষ পদে আসা অনেক নেতাদেরকেই মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চিনেন না বা জানেনওনা। যাদের মধ্যে অন্যতম জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসা সোহেল মিয়া। কমিটি ঘোষণার পরপরই ফেসবুকে সোহেল মিয়ার পদ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য চলছে।

তবে দুটি কমিটিতে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলে অছাত্র স্বশিক্ষিত ও আন্ডার মেট্রিক পাস করা ব্যক্তিদের সঙ্গে মাস্টার্স ও এলএলবি পাস করা মেধাবীও রয়েছেন। কিন্তু এদের ক্ষেত্রে বাকিদের বেশির ভাগই অছাত্র। যারা কমিটিতে এসেছেন মুলত তারা প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় রাজনীতি করেই এসেছেন। দুটি কমিটিতে দুএকজন ছাড়া বাকিদের অতীতের আন্দোলনে তেমন কোন ভূমিকা নেই। যাদেরই ভুমিকা ছিল তাদের চেয়ে কঠোর আন্দোলনকারী সক্রিয় নেতারাও কমিটিতে ঠাইঁ পাননি। এমন নেতাও ঠাঁই পেয়েছেন যিনি নিজের মোবাইলে কারো ফোন নম্বরও সেভ করতে পারেন না। তিনি ছাত্রদলের বড় পদে এসেছেন। আবার অছাত্র আন্ডার মেট্ট্রিক হলেও অতীতের আন্দোলনে সংগ্রাম কঠোর ভুমিকা রাখতে গিয়ে হামলা মামলার শিকার হওয়ার কারনে এ কমিটিতে তাদেরকেও ঠাঁই দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত সোমবার ৫ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ১২ সদস্য বিশিষ্ট ও মহানগর ছাত্রদলের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আকরামুল হাসান। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের নেতাদের হাতে কমিটির কাগজ তুলে দেয়া হলে নারায়ণগঞ্জে প্রকাশিত হয়।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান রনি। তিনি গত বছর সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তবে সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁয়ের খায়রুল ইসলাম সজীব যার লেখাপড়ার দৌড় বেশি দূর নয়।

সিনিয়র সহ-সভাপতি আড়াইহাজারের মোহাম্মদ উল্লাহ যার লেখাপড়াও বেশী না।  তিনি মূলত কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের লবিংয়ে পদি ভাগিয়ে নেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়ারও ছাত্রত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। রাজনীতিতেও তাদের মুখ পরিচিত নয়। এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসা মঈনুল হাসান রবিন নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে অধ্যয়নরত। ছাত্রত্ব নেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আরও রয়েছেন নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত, রফিকুল ইসলাম রফিক ও রাকিব হাসান রাজেরও।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন স্বশিক্ষিত ও আন্ডার মেট্রিক ব্যক্তিরাও।  যদিও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে সভাপতি পদে ঠাঁই পেয়েছেন বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ। তিনি ডিগ্রি পাস। সেক্রেটারি পদে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের মমিনুর রহমান বাবু। তারও ছাত্রত্ব নেই।

এছাড়াও কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রাফিউদ্দীন রিয়াদ আন্ডার মেট্রিক পাস। সহ-সভাপতি পদে শাকিল মিয়া এলএলবিতে অধ্যয়নরত। নাজিম পারভেজ অন্তু, রফিকুল ইসলাম শফিক, আলতাফ হোসেন ইব্রাহীমের ছাত্রত্ব পরিস্কার না। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আল আমিন প্রধান স্বশিক্ষিত। তিনি তার কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের সময় হলফনামায় স্বশিক্ষিত দাবি করেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ