৬ আষাঢ় ১৪২৫, বুধবার ২০ জুন ২০১৮ , ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

ধনাঢ্যদের নিয়ন্ত্রনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি : গরীবদের ঠাঁই নাই


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ৭ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:৩৬ পিএম, ৯ জুন ২০১৮ শনিবার


ধনাঢ্যদের নিয়ন্ত্রনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি : গরীবদের ঠাঁই নাই

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটিগুলো এখন পুরোপুরি শিল্পপতি ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যেমনটা পরিলক্ষিত হয়েছিল ঠিক তেমনি দেখা গেল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। বিএনপির কমিটি গঠনের পর নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছিলেন ঢাকায় ‘রায় এন্ড সন্স’ নামক দোকান থেকে জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি কিনে আনা হয়েছে। এবার একই অভিযোগ জেলা ছাত্রদলের কমিটির ক্ষেত্রেও।

গত ৫ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে যারা ঠাঁই পেয়েছেন তাদের অধিকাংশরাই শিল্পপতি কিংবা ধনাঢ্য বিএনপি নেতাদের বলয়ে রাজনীতি করেন। আর যারা দীর্ঘদিন মাঠে থেকে রাজনীতি করে হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তাদের কমিটিতে ঠাঁই হয়নি। কমিটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা গেল কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলমের। এর আগে জেলা বিএনপির কমিটিতেও তার এলাকার লোকজনের ভাগ্যেই জুটেছিল বড় বড় পদ। জেলা বিএনপির কমিটিতে ফতুল্লা থেকেই ছিলেন প্রায় অর্ধেক নেতা। এমনকি একই ইউনিয়ন থেকে জেলা বিএনপির শীর্ষ তিনটি পদে তিন নেতা পদ পান যারা শাহআলমের অনুসারি। যে কারণে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন তাহলে কি বিএনপিতে গরীবদের ঠাঁই নাই।

নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে জেলা বিএনপির শিল্পপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারিরাই ঠাঁই পেয়েছেন।

জানাগেছে, সোমবার ৫ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ১২ সদস্য বিশিষ্ট ও মহানগর ছাত্রদলের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আকরামুল হাসান। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের নেতাদের হাতে কমিটির কাগজ তুলে দেয়া হলে নারায়ণগঞ্জে প্রকাশিত হয়।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান রনি। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলমের বলয়ে রাজনীতি করেন।

সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁয়ের খায়রুল ইসলাম সজীব। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি ধনাঢ্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে।

সিনিয়র সহ-সভাপতি আড়াইহাজারের মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের বলয়ে রাজনীতি করেন। সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান মানিক তিনি শাহআলমের বলয়ে রাজনীতি করেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ইসমাঈল মামুন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর অনুগামী। মেহেদী হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের বলয়ে রাজনীতি করেন।

এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসা মঈনুল হাসান রবিন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলয়ে রাজনীতি করেন। আর রাজীব রাজনীতি করেন নজরুল ইসলাম আজাদের বলয়ে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আরও রয়েছেন নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত, রফিকুল ইসলাম রফিক ও রাকিব হাসান রাজ।

এদের মধ্যে রাকিব হাসান রাজ নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের অনুগামী হিসেবে রাজনীতি করেন। বাকিরা আজাদের অনুসারিা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে সভাপতি পদে ঠাঁই পেয়েছেন সাহেদ আহমেদ। তিনি আন্দোলনের সংগ্রামের মাধ্যমে এসেছেন।

এছাড়াও সেক্রেটারি পদে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের মমিনুর রহমান বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রাফিউদ্দীন রিয়াদ, সহ-সভাপতি পদে শাকিল মিয়া, নাজিম পারভেজ অন্তু, রফিকুল ইসলাম শফিক, আলতাফ হোসেন ইব্রাহীম, সিরাজ উদ্দীন প্রধান দর্পন, হামিদুর রহমান সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আল আমিন প্রধান, শাহ  মোয়েজ্জেম হোসেন লিংরাজ খান, রাকিবুল হাসান সাগর, সাজ্জাদ হোসেন, ইব্রাহীম বাবু ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শেখ ফাগফুর ইসলাম পাপন।

এদের মধ্যে লিংরাজ খান জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের অনুসারি। আল আমিন প্রধান ও ইব্রাহীম বাবু অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারি। বাকিদের প্রায় সবাই আজাদের অনুসারি। এদের মধ্যে বেশকজন আবুল কালামের সঙ্গে রাজনীতি করলেও তারা নজরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে লিয়োজো করেই পদ ভাগিয়ে আনেন। আবুল কালাম বলয় থেকে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সাবেক জিএস কামাল উদ্দীন মির্জা জনির জন্য সেক্রেটারি পদে চেষ্টা করলেও আবুল কালামের লোক হওয়ার কারণে রহস্যজনক ভাবে তাকে পদেই রাখা হয়নি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ