কারাগারে খোরশেদ : নাগরিক সেবা বঞ্চিত ১৩নং ওয়ার্ডবাসী

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ১:১৬ অপরাহ্ণ

কারাগারে খোরশেদ : নাগরিক সেবা বঞ্চিত ১৩নং ওয়ার্ডবাসী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৬ পিএম, ৯ জুন ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৩:৪৬ পিএম, ৯ জুন ২০১৮ শনিবার


কারাগারে খোরশেদ : নাগরিক সেবা বঞ্চিত ১৩নং ওয়ার্ডবাসী

‘পারিবারিক সমস্যা নিয়ে শহরের মাসদাইর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মো. খসরু। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রাজনৈতিক মামলায় কাউন্সিলর খোরশেদ আড়াইমাস ধরে কারাবন্দি। কবে জামিন পাবেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলতে পারেননি সেখানে থাকা কাউন্সিলর অফিসের কর্মকর্তা।

জন্মনিবন্ধন, কাউন্সিলরের স্বাক্ষর, এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য এমনিভাবে প্রতিদিনই কেউ না কেউ ফিরে আসছেন নিজেদের সমস্যা সামাধান ছাড়াই। এতে করে ভোগান্তিতে রয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

সরেজমিনে মাসদাইর এলাকার কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আলম হোসেন পাসপোর্টের ফরমে স্বাক্ষরের জন্য কাউন্সিলর অফিসে যান। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন কাউন্সিলর খোরশেদ কারাবন্দি।’

আলম হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পাসপোর্ট করবো এজন্য ফর্মে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের স্বাক্ষর প্রয়োজন। আগে জানতাম না ওনি কারাগারে।’

কুড়িপাড়া এলাকার বাদশা মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিতে আমাদের রাস্তা ও আশা পাশের বাড়িতে ঢুকে গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার ও রাস্তার পানি বৃষ্টি শেষে সরে গেলেও আমাদের রাস্তায় ৪দিন থেকে ৫ দিন পানি জমে থাকে। ড্রেনের ময়লা ও নোংরা পানি মিশে দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। আর পানিতে চলাচল করলে চুলকানি হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে যার কাছে সমাধানের জন্য বলবো তিনিও কারাগারে বন্দি। রাজনৈতিক মামলায় দুই মাস হলে জেলে। এতো মানুষের জামিন দেয় আমাদের কাউন্সিলর জেলে। আর আমরা এ কষ্টের মধ্যে। কেউ খোঁজ খবরও নেয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ মাসদাইর এলাকার আদর্শ স্কুলে সরকার কর্তৃক নির্বাচন কমিশনের অধীনে ১৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে জাতীয় পরিচয় পত্র বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে আটক করে ফতুল্লা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। পরে সেখান বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় জেলা বিভিন্ন থানার রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এখনও পর্যন্ত মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কারগারে বন্দি আছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, কাউন্সিলর খোরশেদ একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক এবং মাঠ পর্যায়ের সক্রিয় কমী। যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। জেলার কোথাও কোন কর্মসূচি পালন না করা হলেও তিনি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের কিংবা এর আশে পাশের রাস্তায় মিছিল বা সমাবেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। এর কারণে তাকে ধমিয়ে রাখতে কোন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড না থাকায় রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যাতে করে নগরীতে কোন কর্মসূচি পালন কারতে না পারে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলর খোরশেদ রাজনীতি করলেও সাধারণ মানুষের সব সময় উপকার করেন। গরিব পরিবারের সন্তানদের পড়ালেখা ও মেয়ে বিয়ে সহ যেকোন সমস্যায় পাশে থাকেন। কুমুদিনী বাগান সহ বিভিন্ন এলাকার পথ শিশুদের জন্য স্কুল ও শিক্ষাসামগ্রী ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কাউন্সিলর খোরশেদ যেসব কাজ করছেন সেগুলোও সরকারের কাজের অংশ। যেমন মানুষকে জন্ম নিবন্ধন, কোন কাগজে স্বাক্ষর দেওয়া, মাদক মুক্ত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানুষের পরিবারের সমস্যা সমাধান এসব কাজগুলো তো সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু তিনি জেলে থাকায় এসব শিশু ও এলাকাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয়ের সদস্য সচিব আলী সাবাব টিপু বলেন, ‘কাউন্সিলরের স্বাক্ষর ছাড়া জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজে সিল দিয়ে সব কাজ হয় না। তাই প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ জন বাসিন্দা এসে ফিরে যাচ্ছেন। তাদের সুবিধার্থে প্রতিনিয়ত এ আসনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের কাছে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাক্ষর বা জন্ম সনদের মতো প্রয়োজনীয় কাজগুলো নারী কাউন্সিললের মাধ্যমে সমাধান করতে পারলেও সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে এলাকার সমস্যা কারণে। জলাবদ্ধতা, পারিবারিক সমস্যা, ময়লা নিষ্কাশন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পথ শিশুদের সহযোগিতা এসকল সামাজিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কাজের জন্যও প্রতিদিন কম করে ১০ থেকে ১২ জন সমাধান ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন। ওইসব বাসিন্দারা কাউন্সিলর খোরশেদ সাহেব ছাড়া আর কোথাও যাবেন না। তাই তারা প্রতিদিনিই খোঁজ নেন কাউন্সিলর সাহেব জামিন পেয়েছেন কিনা।

জামিনের বিষয়ে কাউন্সিলর খোরশেদের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী রিটন দে বলেন, ‘কাউন্সিলর খোরেশদ সাহেবকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওইসব মামলায় বেশ কয়েকদিন বিভিন্ন থানায় রিমান্ডেও ছিলেন।’

খোরশেদের পক্ষে আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন সরকার বলেন,  রাজনৈতিক মামলায় মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ কারাগারে বন্দি। কোন ব্যক্তিগত মামলা তার বিরুদ্ধে নেই। মঙ্গলবার হাইকোট থেকে জামিনের আদেশ কারাগারে আসলেও বুধবার নারায়ণগঞ্জ সদর থানার একটি মামলায় তাকের আবার আটক করা হয়েছে। ২০১৮ সালে নতুন ৭টি মামলা সহ তার বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২২টি মামলা রয়েছে। জামিন হওয়ার পর আবার কোন কোন পুরাতন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বুধবার যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেটিতে তার নাম নেই। অজ্ঞাত আসামীদের তালিক থেকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এজন্য কবে মুক্তি পাবেন সেটা বলা যাচ্ছে না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ