২৮ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

UMo

বিএনপিতে নিয়ন্ত্রন হারাতে যাচ্ছেন তাঁরা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৫ পিএম, ১০ জুন ২০১৮ রবিবার


বিএনপিতে নিয়ন্ত্রন হারাতে যাচ্ছেন তাঁরা!

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে না থাকলেও এখনও বিএনপির ৭টি সংগঠন নিয়ন্ত্রন করছেন তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু চলতি গঠিত ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনে নিয়ন্ত্রন রাখতে পারেননি তিনি। একইভাবে কমিটির নিয়ন্ত্রন নিতে দুর্বলতা দেখা গেলে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীলকে। যে কারনে তাদের অনুসারিরা রাজনীতি করেও কমিটিগুলোতে তাদের কোন অনুসারি পদ পায়নি। অথচ তারা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এক সময়কার প্রভাবশালী। সেই প্রভাব তাদের আর থাকছে না।

নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন রেজাউল করিম। বেশ ক’ বার এমপি সহ হয়েছিলেন তিনি বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। নারায়ণগঞ্জে এক সময় দাপটের সাথে তিনি রাজনীতি করেছেন। জোট সরকার আমলে তিনি সভাপতি ছিলেন। ওই সময় কমিটিতে সেক্রেটারি পদে আসেন তৈমূর আলম খন্দকার। এক এগারোার সময় সংস্কারবাদীদের সঙ্গে যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে তার প্রভাব ক্ষুন্ন হতে থাকে।

এদিকে তৈমূর আলম খন্দকারের দাপট বাড়তে থাকে অন্যদিকে রেজাউল করিমের দাপট কমতে থাকে। ২০০৯ সালে তৈমূর আলম খন্দকার জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই কমিটিতে সেক্রেটারি পদে আসেন বর্তমান সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। রেজাউল করিম নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামেন। গণসংযোগ করেন। দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম তিনি কখনই করেননি। করতে চেষ্টাও করেনি। যদিও তিনি গত ৮ জানুয়ারির ঘটনা নিয়ে সোনারগাঁও থানার একটি মামলায় আসামী হন তিনি।

২০০৯ সাল থেকে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম সহ বিএনপির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির নতুন কমিটি হলে তাকে সভাপতি পদে আবারো রাখা হয়নি। যদিও এর আগেই তাকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদে রাখা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতির পদ হারালেও তিনি এখনও শ্রমিকদল, মহিলা দল, জেলা ও মহানগর যুবদল, মৎস্যজীবী দল, ওলামাদলের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রক। কিন্তু গত ৫ মে গঠিত হওয়া জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে তার অনুসারি একজনও নেই।

কিন্তু তৈমূর আলম খন্দকার কমিটিতে নতুন করে নিয়ন্ত্রন না নিতে পারলেও অনেকগুলো কমিটির অধিকাংশ নেতারা তার নিয়ন্ত্রন রয়েছেন। এক্ষেত্রে রেজাউল করিম একেবারেই জিরো। কারণ তার কোন প্রভাব টিকছে না। এমনকি তার নিজ এলাকা সোনারগাঁয়ে তার অনুসারিরাও ধীরে ধীরে আজহারুল ইসলাম মান্নানের দিকে ঝুকছেন।

একইভাবে জোট সরকার আমলে জেলার প্রভাবশালী এমপিদের একজন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। ওই সময় তিনি বিএনপির নেতাদের নিয়ন্ত্রন নিতে সবকিছুই করেছিলেন। তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনে বিএনপি নেতাদের নির্যাতনও করেছিলেন। অনেকগুলো কমিটিও নিয়ন্ত্রন করতেন। কিন্তু নতুন করে গঠিত হওয়া তিনটি কমিটিতে তার একজন কর্মীও ঠাই পায়নি।

এছাড়াও বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের দশাও একই। তিনিও জোট সরকার আমলে এমপি ছিলেন। তিনি পরবর্তীতে সংস্কারবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হন। তাকে জেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদে রাখা হয়। মাঝেমধ্যে তাকে দলের কর্মসূচিতে বর্তমানে দেখাও যায়। তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করছেন। কিন্তু নতুন কমিটিগুলোতে তারও কোন নেতা কোন পদে ঠাই পায়নি।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ