৬ কার্তিক ১৪২৫, রবিবার ২১ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:১৮ অপরাহ্ণ

UMo

আবারও শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রনে আওয়ামী লীগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৯ পিএম, ১০ জুন ২০১৮ রবিবার


আবারও শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রনে আওয়ামী লীগ

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই দুটি বলয় কেন্দ্রিক পরিচালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ওসমান পরিবারের বলয় আর অন্যটি হচ্ছে চুনকা পরিবারের বলয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এ দুটি বলয়ের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। ফলে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগসহ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল কমিটিতেই এই ওসমান বলয় ও চুনকা বলয়ের কর্তৃত্ব থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের কমটিগুলোতে ওসমান পরিবারের অন্যতম কর্ণধার আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রণেই হয়ে আসছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আনোয়ান হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই ঘোষণার ২বছর তিন মাস পর ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৭১সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ওই ঘোষণার ১৩ মাস পর গত বছরের ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

অন্যদিকে গত বছরের ৩ জুলাই জেলা কৃষকলীগের পূর্ণাঙ্গ এবং মহানগর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন কমিটির মধ্যে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মনোনীত হন সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস। অপরদিকে মহানগরের সভাপতি আরমান হোসেন জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন যুবলীগের নেতা জিল্লুর রহমান লিটন।

এছাড়াও গত বছরের ৩০ মে জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কমিটি ঘোষণা করে দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা পরিষদের সদস্য সাদিয়া আফরিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে শারমিন আক্তার মেঘলা ও আসমা আক্তারকে। মহানগর কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট সুইটি ইয়াসমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক মুনিরা সুলতানাকে।

সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে যথাক্রমে- হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও হাসনাত রহমান বিন্দুকে।

সূত্র মতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মূলত আওয়ামীলীগের প্রায় সকল কমিটিই নিজের করায়ত্বে আনতে সচেষ্ট হন শামীম ওসমান। সকল কমিটিই তার প্রচেষ্টায় ও প্রেসক্রিপশনেই হয়ে থাকে যা তিনি গত ৯ জুন ইফতার মাহফিলেই নিজের স্বীকার করে বলেছেন, আওয়ামীলীগে যারাই নেতৃত্বে আসেন সবাই আমার প্রেসক্রিপশনেই আসেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের গত ২৯ মে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ইফতার মাহফিল সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আয়োজন করা হয়। আর এই অভিযোগে জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মেয়র আইভীসহ তার বলয়ের লোকেরা ইফতার মাহফিল বয়কট করেন। ফলে মেয়র আইভীর পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ সভাপতি আব্দুল হাই আইভীর প্রতি কিছুটা নারাজ হয়ে যান।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল বয়কট করে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের উদ্যোগে বন্দরে গত ৪ জুন আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে মেয়র আইভীসহ তার অনুগামীরা অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলসহ জেলা আওয়ামীলীগের পদে থাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিত কম ছিলো।

এদিকে গত ৯ জুন নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের অনেক নেতাই উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার মাহফিলে শামীম ওসমান বলেন, ইফতার মাহফিল নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগকে যেভাবে কলংকিত করা হয়ে এতে আমি লজ্জিত হয়েছি। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটা মানতে হবে। যারা মানতে পারবে না তাদের কমিটিতে থাকার যোগ্যতা নেই। পাশাপাশি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির কাছ থেকে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। যদিও অর্থায়ন করবেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমানের এই প্রত্যাশাকে স্বাগত জানিয়ে সভাপতি আব্দুল হাই উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দকে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেন। তবে অনুষ্ঠানের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। ফলে সহজেই অনুমেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগও শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল আগে থেকেই শামীম ওসমানের বলয়ে ছিলেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ