২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

বিএনপির কাছে নিগৃহীত হয়ে পরপারে জাহাঙ্গীর আলম


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৯ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার


বিএনপির কাছে নিগৃহীত হয়ে পরপারে জাহাঙ্গীর আলম

বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে রাজনীতিতে আসেন জাহাঙ্গীর আলম। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে কয়েক ডজন মামলার আসামি হয়েছিলেন তিনি। কারাগারেও গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু যে দলের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সেই দলই তাকে মূল্যায়ন করেনি। উল্টো দলের কাছে তিনি হয়েছেন নিগৃহীত অপমানিত অসম্মানিত। সেই জাহাঙ্গীর আলম এখন আর বেচে নেই। তবে রয়েছে গেছে দলের প্রতি তার অবদান।

জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আমি আমার দক্ষিন হস্ত হারালাম। জাহাঙ্গীর আলমকে আমরা সম্মান করতে পারিনি। উল্টো সে দলের দ্বারাই অসম্মানিত হয়েছিলেন। দলের দ্বারা তিনি নিগৃহিত হয়েছিলেন। এ আক্ষেপ মুছবার নয়। যে দলের জন্য কাজ  করেছিল সেই জাহাঙ্গীর আলম দলের দ্বারাই বেশি নির্যাতিত হয়েছিলেন।

জানা গেছে, বিএনপির যুবদলের রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর সম্পৃক্ত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন সাতজন কমিশনার প্রার্থী। ওই নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। মজার বিষয় ওই নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নির্বাচনে করে তার মনোনয়ন হারিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আবুল কালাম তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু কমিশনার পদে তিনি মনোনয়ন হারান। আবুল কালাম এমপি হলেও জাহাঙ্গীর আলমের ভাগ্যে জুটেনি মহানগর বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদও।

জাহাঙ্গীর আলম মহানগর যুবদলের দীর্ঘদিন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন শহর বিএনপির সভাপতি পদেও। কিন্তু গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি মহানগর বিএনপির কমিটি  হলে সেখানে তাকে সদস্য পদেও রাখা হয়নি। এমনকি তার ছেলে ছাত্রদল নেতা জোবায়ের হোসেন ঝলক ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতেও তাকে রাখা হয়নি।

জোট সরকার আমলেই জাহাঙ্গীর আলম চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। জনসম্মুখে তাকে অমানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিলেন। সেই নির্যাতনের পর তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপরও বিএনপির রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। গত বছর মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের আগেও কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। সেই জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপারসনের বর্তমান উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারের এক সময়ের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তৈমূরের আস্থাভাজনদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। বয়য়ে জাহাঙ্গীর ছোট হলেও তৈমূরের আগেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর সে কারণে জাহাঙ্গীরের জানাযার নামাজে চোখের পানিও ঝরিয়েছেন তৈমূর।

রোববার (১০ জুন) বাদ জোহর শহরের ডিআইটি মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রধান সড়কে মরহুমের জানাযার নামাজ শেষে পাইকপাড়া সিটি কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

জানাযার সময়ে বক্তব্যে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতি করছেন। এই রাজনীতি করতে গিয়ে মামলার ঘানি টানতে টানতেই সে না ফেরার দেশে চলে গেছে। সেই চাষাঢ়া বোমা হামলার মামলা থেকে তার মামলা খাওয়া শুরু। এরপরে অসংখ্য মামলায় জর্জরিত হয়ে কারাগারে থাকতে হয়েছে। আপনারা দয়া করে তাকে মাফ করে দিবেন বলে তিনি কান্না করতে থাকেন। তিনি ছিল আমার দক্ষিণহস্ত। যে দলের জন্য তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছে দলের কাছেই তিনি নিগৃহীত হয়ে আমাদের কাছ থেকে চলে গেল।

এসময় তৈমূরের কান্নায় আবেগ্লাপুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং টানবাজার বাইতুন নূর জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। শনিবার ৯ জুন রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ