৪ আষাঢ় ১৪২৫, সোমবার ১৮ জুন ২০১৮ , ৩:১৯ অপরাহ্ণ

আল জয়নালের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৫৭ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৬:৩৫ পিএম, ১৫ জুন ২০১৮ শুক্রবার


আল জয়নালের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ভূমিদস্যু ও জামায়াত বিএনপির পৃষ্ঠপোশকতা হিসেবে বেড়ে উঠা আল জয়নালের উত্থানের পেছনে নারায়ণগঞ্জের অনেক রথি মহারথীদের ইন্ধন রয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সঙ্গে সখ্যতা ছিল এ জয়নালের। পরে এমপি শামীম ওসমানকেও দেখা গেছে জয়নালের কয়েকটি অনুষ্ঠানে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোশকতায় বেড়ে উছেন জয়নাল। তাঁর বিরুদ্ধে আছে ভূমিদস্যুতার একাধিক অভিযোগ। আছে জামায়াত ও শিবিরকে পৃষ্ঠপোশকতার অভিযোগও। সেই জয়নাল এখন নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। তাঁর টার্গেট নারায়ণগঞ্জ-৫ কিংবা মুন্সিগঞ্জের কোন আসন।

জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েই সংবাদ সম্মেলনে আসেন জয়নাল। ১২ জুন মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল বলেন, গত ৩০ মে জাতীয় পার্টিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ আমাকে দেয়া হয়। দলের চেয়ারম্যান এরশাদ সাহেব আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করতে প্রস্তুত। আমাকে যে আসনেই দেয়া হোক আমি সকলকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আমার সাথে কারো কোন দ্বন্দ্ব নেই। দ্বন্দ্ব থাকতে পারে সেলিম ওসমান ও পারভীন ওসমানের সাথে। আমার সাথে নাসিম ওসমানের সাথে অনেক আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। আমি যে দরবারের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ সাহেব সে দরবারের মুরিদ।

প্রবাসীর স্ত্রীর জমি দখলের অভিযোগে আল জিডি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আল জয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখলকৃত জমি থেকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে উচ্ছেদ করতে নানা ধরনের হুমকি দেয়ার কারণে থানায় সাধারন ডায়েরী দায়ের করেছে। ১০ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লার হরিহরপাড়া গুলশান রোড এলাকার আব্দুল ওহাবের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে আল জয়নালের বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী দায়ের করে।

সুরাইয়া বেগম জানান, তার স্বামী কাতার থাকা অবস্থায় চর বক্তাবলীর মৌজার সি.এস-১৭৪৪,এসএ-১৮১৭, আর এস ২৬৫৩ দাগের ১৪ শতাংশ জমি সাব কবলা মূল্যে ক্রয় করে গত কয়েক বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছে। হঠাৎ একদিন উক্ত জমিতে শহরের টানবাজারের চিহ্নিত ভূমিদস্যু জয়নাল আবেদীন ওরফে আল জয়নাল ওই জমিতে লোক পাঠিয়ে নিজের জমি দাবি করছে। তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী সস্তাপুরের হারুন অর রশিদ লোক নিয়ে জমিটি আল জয়নালের দাবি করছে এবং জমিটি দখলের পায়তারা করছে। এতে করে জয়নালের ভাড়াটিয়া লোকজনদের জমিতে এসে নানা ধরনের হুমকি প্রদান করে চলছে। আর জমি ছেড়ে চলে না গেলে সুরাইয়া বেগমসহ তার স্বামী ও আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেই তবে জমি দখলের হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া প্রতিনিয়ত আল জয়নালের লোকজন পূর্ব গোপালনগর এলাকায় উক্ত জমিতে মহড়া দিয়ে চলছে এবং জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার আশঙ্কা করছে সুরাইয়া বেগম। এতে করে প্রবাসীর স্ত্রী অসহায় সুরাইয়া বেগম বিচারের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ছুটে বেড়াচ্ছে।

জয়নাল সহ ৪জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট
ফতুল্লায় জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে আম মোক্তার নামা দলিল করে  জমি দখলের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামের পৃষ্ঠপোশকতাকারী আল জয়নাল সহ তার অনুগামী ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতারনা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। উপেন্দ্র চন্ত্র সাহা বাদী হয়ে মামলা করলে গত ৪ এপ্রিল জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিবাদী আল জয়নাল সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ‘বাদী উপেন্দ্র চন্দ্র সাহা দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখল করে আসলেও কিছু সম্পত্তি দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য বাদীর বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে আম মোক্তার নামা দলিল দ্বারা আম মোক্তার নিযুক্ত করেন। এদিকে বিবাদী আল জয়নাল বিগত ৩ মার্চ বাদীর দখলীয় পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত তফসিলের সম্পত্তি অপর দুই বিবাদী শঙ্কর লাল ও কিংকর লাল হতে প্রাপ্ত হয়েছে বলে নিজের বলে দাবী করেন। বাদী উপেন্দ্র সাহা এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তাকে মৃত দেখিয়ে তার কন্যা মীরাবাঈ সাহার সন্তান সাজিয়ে প্রতারণা করে বিবাদী আল জয়নালের যোগসাজসে এই সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করে। এসময় তারা প্রকৃত মালিককে মৃত দেখিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ দেখিয়ে ভুল কাগজপত্র তৈরি করে। এ প্রতারণা করে সম্পত্তি হতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে আদালতের শরানপন্ন হলে গত ৪ মার্চ ৬ জন আসামীর মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে।

পীরের বিরুদ্ধে ওসির জিডি, জয়নালের হুমকি
২০১৪ সালের নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওই সময়কার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এ মঞ্জুর কাদেরকে টেলিফোনে পীর জাকির শাহ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সময়ে এ ঘটনায় প্রথম আলো সহ জাতীয় দৈনিকগুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, এ ঘটনায় ওসি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে ওসি অভিযোগ করেন, সদর মডেল থানার বিপরীতে অবস্থিত বহুতল আবাসিক ভবন আল জয়নাল প্লাজার মালিক জয়নাল আবেদীন প্রতি রাতে এশার নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাইক লাগিয়ে উচ্চ স্বরে জিকির প্রচার করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানান। সদর থানার কর্তৃপক্ষ দুই মাস আগে পুলিশ সুপারের নির্দেশ অনুযায়ী জয়নাল আবেদীনকে ডেকে বাইরে মাইক লাগিয়ে শব্দদূষণ না করে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। কিন্তু জয়নাল আবেদীন তাতে কর্ণপাত করেননি। এলাকাবাসীর অনুরোধে গত সপ্তাহে জয়নাল আবেদীনের মাইক জব্দ করা হয়। শনিবার পীর জাকির শাহর এক ভক্ত ওসিকে মুঠোফোনে জাকির শাহকে ধরিয়ে দেন। পীর জাকির শাহ ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘কীভাবে থানায় ওসিগিরি করবি, তা দেখিয়ে দেব। মন্ত্রীসহ অনেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আমার মুরিদ।’ তিন দিনের মধ্যে ওসিকে বদলিসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন বলে হুমকি দেন পীর।

জামায়াত শিবিরের পৃষ্ঠপোশক
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে প্রথমবারের মত মামলা হয়। মামলায় ১১ জনকে আসামী করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২০০৯ এর ৬(২)/১০/১৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘঠন, গোপন ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংঘঠেন পরস্পর সহযোগিতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামীরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে অস্থিতিশীল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিরুদ্ধে গোপন সন্ত্রাসের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। আসামীদের বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোশকতা ও আর্থিক সহায়তাকরী হিসেবে খবিরউদ্দিন, জয়নাল, আলমাস ও ইব্রাহিম সহ অনেকেই সক্রিয়ভাবে সম্পৃকত রয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধীতা
সবশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও জয়নালের ছিল ভিন্ন আচরণ। ভোটের আগে আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমান যখন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জুয়েল মোহসীন পরিষদকে জয়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান তখন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী আল জয়নাল এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরিষদকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছিলেন অভিযোগ তুলেছিলেন আইনজীবীদের মধ্যে থেকে।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ফতুল্লায় সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলের বাবা তার জীবনের শেষ আয়ের টাকা দিয়ে ৪শতাংশ জমি কিনেন। কিন্তু আল জয়নাল সেই জমির চার দিকের জমিগুলো ক্রয় করে জুয়েলের এ জমি দখলের চেষ্টা করেন। প্রভাব খাটিয়ে জুয়েলের কাছ থেকে জমি ক্রয় করারও প্রস্তাব দেয় জয়নাল। জমিটি বিক্রি করতে সম্মত না হওয়ার কারণে জোর করে জয়নাল দেয়াল নির্মাণ করেন। ওই সময় জয়নালের সন্ত্রাসী বাহিনী জুয়েলের আপন ভাইকে মারধর করে চোখ উপড়ে ফেলেছিল। এ নিয়ে জুয়েল আদালতে মামলা করলে সেই মামলায় জয়নালের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে একই দিন জয়নাল মীমাংসার প্রস্তাবের শর্তে জুয়েলের জিম্মায় জয়নালকে জামিন দেন আদালত। ওই ঘটনা নিয়ে জুয়েলের বিরুদ্ধে বিষোদাগার শুরু করে জয়নাল।

কারাগারে গিয়েও বিকেলে মুক্তি
২০১৫ সালের এপ্রিলে জমিসংক্রান্ত একটি মামলায় জয়নালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার বাদী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ওই সময়কার সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচএম শফিকুল ইসলামের আদালতে স্বশরীরে জয়নাল আবেদীন হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বিকালে ‘সমঝোতায়’ তিনি ছাড়া পেয়েছেন। বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের আদালত জয়নালকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিলেও কোর্ট পুলিশ তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে ‘সমঝোতার’ জন্য আদালতের গারদে রেখে দেয় বিকাল ৪টা পর্যন্ত। অবশেষে বিকালে বাদীর সঙ্গে আপস ও সমঝোতার ভিত্তিতে বাদী অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের জিম্মায় জামিন পান জয়নাল আবেদীন।

ওই দিন আদালত পাড়ায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতা। জমিসংক্রান্ত মামলা ছাড়াও ফেরদৌসের ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা ও চোখে আঘাত করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও দায়ের করা মামলায় জয়নালকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ওই মামলায় জয়নাল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।

জয়নালের বক্তব্য
সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী আল জয়নাল বলেছেন, আমাকে জামায়াতে ইসলামী বানাতে একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছিল, তারা সফল হয়নি। একটি ক্ষমতাধর চক্র আমাকে জামায়াত শিবির ও নাশকতার মামলায় জড়িয়ে ছিল। আমি এ ব্যাপারে এসপি’র সাথে কথা বলেছিলাম, যে যদি আমি জড়িত হই আমাকে শাস্তি দিন। আমি কখনো তাতীঁলীগের কোন পদে ছিলাম না, কোন কমিটিতেও ছিলাম না। আমাকে বেকায়দায় ফেলতেই তাতীঁলীগের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ছোটখাটো ব্যবসা করে আমি মানুষের সেবা করে যাচ্ছি, সে সেবাকে আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আমি ৩০ মে এরশাদ সাহেবকে ফুল দিয়ে যোগ দিয়েছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আল জয়নাল বলেন, আমাকে যোগদানে কাউকে ব্যবহার করেনি। এরশাদ সাহেবের সাথে আমার আগে থেকে বাসায় আসা যাওয়া ও যোগাযোগ ছিল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ