২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

rabbhaban

চাষাঢ়া আ.লীগ অফিসে বোমা হামলার আসামী হান্নানের ফাঁসি কার্যকর


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:২১ পিএম, ১৫ জুন ২০১৮ শুক্রবার


চাষাঢ়া আ.লীগ অফিসে বোমা হামলার আসামী হান্নানের ফাঁসি কার্যকর

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ে বোমা হামলার বিচার শেষ হওয়ার আগেই ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে ওই মামলার প্রধান আসামী জঙ্গী নেতা মুফতি হান্নানকে। গত বছর তথা ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে কাশিমপুর কারাগারে ওই ফাঁসি কার্যকর হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের উপর বোমা হামলার মামলায় আলোচিত এ জঙ্গী নেতার ফাঁসি হলেও চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলায় বিচার শেষ না হওয়ায় ও তার কী সাজা হবে সেটা জানতে না পারাটা আক্ষেপ ওই ঘটনায় আহতদের।

এদিকে আলোচিত সাত খুন মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে মাত্র পৌনে ৩ বছরে। সাক্ষী ছিল ১২৭জন। মাত্র ৩৮টি কার্য দিবসেই শেষ হয় সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক সহ বিচারিক আনুসাঙ্গিক কাজ। কিন্তু বহুল আলোচিত চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জনের নিহতের বিচার হয়নি ১৭ বছরেও। ৭খুনের প্রধান আসামী নূর হোসেনকেও ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় দেড় বছরের মাথায়। আর ২০ হত্যার অন্যতম দুই আসামীকে বছরের পর বছর ঘুরলেও আনা হয়নি ভারতেরই কারাগার থেকে।

চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা

২০০১ সালের ১৬ জুন শহরের চাষাঢ়াস্থ আওয়ামীলীগ অফিসে দেশের ভয়াবহ নৃশংস বোমা হামলায় মারা যান ২০ জন হতভাগ্য। সেদিন আহত হয়েছিলেন ওই সময়ের ও বর্তমান এমপি শামীম ওসমান সহ অর্ধ শতাধিক, অনেকেই বরণ করে নিয়েছে পঙ্গুত্ব, কেঁদে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। ঘটনাস্থলে ১১ জন ও পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু ঘটে মোট ২০ জনের। এদের মধ্যে ১৯ জনের পরিচয় সনাক্ত করা হলেও পরিচয় মেলেনি একজন নারীর।

বোমা হামলার পর দিন বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দুইটি মামলায় (একটি বিস্ফোরক অন্যটি হত্যা) জেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারন সম্পাদক (বর্তমানে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা) অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে প্রধান করে বিএনপি ও এর অঙ্গ দলের মোট ২৭ জনকে আসামী করা হয়। ঘটনার দীর্ঘ ২২ মাস পর ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে বোমা ট্রাজেডি মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্টে বলা হয়, ‘উল্লেখিত ২৭ জনের কেউই চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ অফিসে ১৬ জুন ২০০১ সালের বোমা হামলায় জড়িত নয়। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর মামলাটি হিমাগারে থাকার পর সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারকে আদেশ দেয়।

ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর দু’টি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে ৬ জনকে অভিযুক্ত ও ৩১ জনকে অব্যাহতি প্রদান করে দু’টি মামলার প্রত্যেকটির ৯৪৭ পাতার চার্জশীট দাখিল করা হয়। চার্জশীটে অভিযুক্ত ৬জন হলেন নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভোট ভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, ভারতের দিল্লী কারাগারে আটক সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু যিনি একই সঙ্গে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। অভিযুক্তদের মধ্যে জামিনে থাকা কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ওবায়দুল্লাহ রহমান ছাড়া অন্যরা গ্রেপ্তার রয়েছে।

২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী ভারতের রাজধারী দিল্লীর একটি রেলস্টেশন হতে হরকাতুল জিহাদের দুই জঙ্গি সহোদর আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। তারাও বোমা হামলার ঘটনা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে দিল্লী কারাগারে বন্দী রয়েছে। কিন্তু তাদের এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয় হরকাতুল জেহাদের অন্যতম নেতা মুফতি আবদুল হান্নান। গ্রেপ্তারের পর সে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার নিকট দেওয়া জবানবন্দিতে চাষাঢ়া বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

বিলম্বের কারণ ও মুফতি হান্নান ইস্যু

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনার প্রধান আসামী হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৫১টি মামলা থাকায় যথা সময়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ হাজির করা যায়নি। এ কারণেই মামলায় দীর্ঘসূত্রিতা হয়েছে।

মামলার বাদী মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা জানান, আমরাও চাই মামলাটির দ্রুত নিস্পত্তি হউক। জটিলতা এড়িয়ে যাতে দ্রুত কাজ শেষ হয় সে দাবী আমাদের।

তিনি আরো জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে হত্যা মামলার রায় আমি মনে করি সুষ্ঠু বিচার ও রায় হয়েছে। সেখানে মুফতি হান্নানের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আমি এতে সন্তোষ প্রকাশ করছি। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং চলবে। চাষাঢ়ার বোমা হামলার রায়েও দৃষ্টান্তমূলক সুষ্ঠু বিচার পাবো বলে প্রত্যাশা করি।

১৬ জুন বোমা হামলায় দুই পা হারানো মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি চন্দন শীল জানান, ফাঁসির আদেশ হলেও আমি তত খুশি হতে পারিনি। আমি আরো বেশী খুশি হতাম যদি আমাদের ১৬ জুন বোমা হামলা মামলায় তার সাজা হতো। তার পরেও বিচার তার নিজস্ব গতিতে চলছে।

 

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ