২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

ব্রিফকেসে বোমা এনেছিল দুই ভাই, শামীম ওসমানের সামনে চাপড়ায় টেবিল


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:২৫ পিএম, ১৫ জুন ২০১৮ শুক্রবার


ব্রিফকেসে বোমা এনেছিল দুই ভাই, শামীম ওসমানের সামনে চাপড়ায় টেবিল

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল আবু মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিম নামের সহোদর ভাই। হরকাতুল জিহাদের এ দুইজন জঙ্গী ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া বোমা হামলার ঘটনার আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।

চাষাঢ়া বোমা হামলার পর ২০১৩ সালের ২ মে আদালতে দেওয়া চার্জশীটে এ দুইজন সহ ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়। চার্জশীট জমার দিন প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার এএসপি এহসানউদ্দীন বলেছিলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন তাকে বলেছেন যে ২০০১ সালের ১৬ জুন বিকেলে চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে এসেছিলেন ওবায়দুল নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি শহরের চাষাঢ়ায় চকলেট ফ্যাক্টরী মোড় এলাকাতে। তিনি সহ আরও ২জন মোট ৩জন এসেছিলেন আওয়ামী লীগ অফিসে। রাত ৭টার দিকে তিনি সহ ২ জন শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত কক্ষে গিয়ে কথা বলেন। তারা এসেছিলেন আমেরিকার ভিসার জন্য সুপারিশ করতে। ৩জন এলেও মূলে ছিলেন উবায়দুল। তিনিই মূলত আমেরিকা যাওয়ার জন্য বেশ কিছু কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। শামীম ওসমানের সঙ্গে তিনি কথা বলে ওই কাগজপত্রে সুপারিশ চান। কিন্তু শামীম ওসমান তা দিতে প্রথমে অনীহা প্রকাশ করেন। ওই সময়ে উবায়দুল হঠাৎ করেই শামীম ওসমানের সামনের টেবিল চাপড়ে উঠে বলেন, ‘আমার জন্য কেন সুপারিশ করবে না, দিবে না কেন, আমরা তোমার মহল্লার লোক। আমাদের জন্য না করলে কার জন্য করবে?’

শামীম ওসমান তাঁকে বলেন, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সাংসদদের সুপারিশে ভিসা দেয় না। তার পরও উবায়দুল হক সুপারিশের জন্য পিড়াপিড়ি করতে থাকেন।

উবায়দুলের সঙ্গে আসা ২ জনের একজনের হাতে ছিল কালো ব্রিফকেস। দুই যুবক ফটোকপি করা একটি আবদেনপত্রে শামীম ওসমানের সুপারিশসহ সই চান। এর মধ্যে ওবায়দুল হক দ্রুত বেরিয়ে যান। সে সময়ে শামীম ওসমানের প্রভাব ছিল দোর্দান্ড। কিন্তু ওই মুহূর্তে শামীম ওসমানের টেবিল চাপড়ে ওবায়দুল এর মত একজন ব্যক্তির সে আচরণে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উঠেন রুমে থাকা অন্যরা। তারা অনেকটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন উবায়দুল এর দিকে।

ওবায়দুল অনেকটা উত্তেজিত থাকলেও অন্য ২ জন ছিলেন বেশ নীরব। তারা বসে শুধু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। টেবিল চাপড়ানো ওবায়দুল পরে গ্রেপ্তার কলেও সে জামিনে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে পুরাতন ঢাকা এলাকাতে বসবাস করেন। উবায়দুলের সঙ্গে আসা দুইজনই মোরসালিন ও মুত্তাকিম ছিলেন।

২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী ভারতের রাজধারী দিল্লীর একটি রেল ষ্টেশন হতে হরকাতুল জিহাদের দুই জঙ্গি সহোদর আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। তারাও বোমা হামলার ঘটনা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে দিল্লী কারাগারে বন্দী রয়েছে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি নারায়ণগঞ্জ অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার এহসান উদ্দীন চৌধুরী জানান, তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন তথা ১৬জুন রাতে মোরসালিন ও মুত্তাকিম একটি ব্রিফকেস হাতে নিয়ে চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে প্রবেশ করে। তখন তারা শামীম ওসমানকে দিয়ে কয়েকটি কাগজ স্বাক্ষরের চেষ্টা করে। ওই সময়ে চাষাঢ়া এলাকার ওবায়দুল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শামীম ওসমান ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তখন শামীম ওসমানরে টেবিল চাপড়ে দিয়েছিলেন তিনজন। তাদের সঙ্গে আনা ব্রিফকেসটিতেই বোমা রাখা ছিল। তবে এটা টাইম বোমা নাকি রিপোর্ট কন্ট্রোল বোমা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বোমা হামলায় এছাড়াও মুফতি আবদুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ জড়িত ছিল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ