৮ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ১২:১০ অপরাহ্ণ

বিএনপির এক সময়ের ডাকসাইটে নেতাদের অপমৃত্যু!


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:২৫ পিএম, ১৬ জুন ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৪:৫৫ পিএম, ১৯ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার


বিএনপির এক সময়ের ডাকসাইটে নেতাদের অপমৃত্যু!

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে হাল ধরা নেতাদের বেশীরভাগকেই নানা ধরনের অবজ্ঞা অবহেলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রয়াত হওয়া ও বর্তমানে জীবিত অনেক নেতারা পরিণতিও হয়েছে সে ধরনের। শুরুতে এসব নেতারা দোর্দান্ড প্রতাপে রাজনীতি করলেও জীবনের শেষ বয়সে এসে তারা প্রকৃত মূল্যায়ন পায়নি। বরং নানা ধরনের অবজ্ঞা অপমান মাথায় নিয়েই ছাড়তে হয়েছে দল।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ছিলেন কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম। তিনি ছিলেন জেলা বিএনপির নির্বাচিত সেক্রেটারী। তাঁর সময়ে সভাপতি ছিলেন আবদুল মতিন চৌধুরী। দুইজনই এখন প্রয়াত। মতিন চৌধুরী পরে বিএনপির মন্ত্রীসভায় স্থান করে নেন। আর নারায়ণগঞ্জ ছিলেন কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম। তবে জীবনের শেষে এসে তিনি কোন পদে থাকতে পারেনি। মূল্যায়ন করা হয়নি সজ্জন এ রাজনীতিককে। বরং গ্রুপিংয়ে ফেলে তাকে বার বার অবজ্ঞা করা হয়েছে। অথচ একাত্তরের রণাঙ্গনের এ যোদ্ধার রয়েছে নানা অবদান।

মঞ্চে বক্তৃতার আগে সুন্দর কবিতা শোনাতেন আতাউর হোসেন সামসু। রাজনৈতিক ওই কবিতায় যেমন শ্রোতারা বিমহিত হতেন তেমন তার দরাজ কণ্ঠের বক্তব্যেও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা পুলকিত হতেন। তবে মৃত্যুর আগে তাকেও ফেলা হয় গ্রুপিয়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিগত কমিটির সভাপতি ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। এর আগের কমিটিতে রেজাউল করিম যখন সভাপতি তখন তৈমূর ছিলেন সেক্রেটারী। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকে পুলিশের লাঠিপেটা আর মারধরে শিকার তৈমূরের শেষও ভালো হয়নি। তাঁকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হলেও জেলা বিএনপির নতুন কমিটি করার সময়ে নেওয়া হয়নি কোন ধরনের মতামত।

জেলা বিএনপির সহ সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস ওয়ান এলেভেনের পর ছিলেন সক্রিয়। তাঁর বাসায় একাধিক সভা হয় তখন যেখানে মুঠোফোনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন মামলারও আসামী। জেলা বিএনপির সহ সভাপতি করা হলেও তিনি মূল্যহীন।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম। সজ্জন এ রাজনীতিককেও অনেকটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন ফতুল্লার বিএনপির গডফাদার খ্যাত শিল্পপতি শাহআলম।

নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম মহানগর বিএনপিকে আগলে রেখেছিলেন। ছিলেন মহানগর যুবদলের আহবায়কও। কিন্তু এক আক্ষেপ নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাঁকে।

জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক কমিশনার আব্দুল মজিদ, বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা জামালউদ্দিন কালুসহ বেশ কয়েকজন ডাকসাইটে বিএনপি নেতা এখন গাটছাড়া। তাদের দেওয়া হয়নি যোগ্যতা সম্পন্ন স্থান।

তবে অনেকেই মনে করছেন রাজনীতিতে শেষ বলে যেমন কোন কথা নেই তেমনি বর্তমানে রাজনীতিতে শঙ্কায় থাকা ওই সকল ডাকসাইটে বিএনপি নেতারাও হয়তো একসময় ঘুরে দাড়াতে পারেন বলে মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল। এজন্য তাদেরকে দূরদর্শিতার সঙ্গে রাজনীতিতে এগুতে হবে বলে মনে করছেন সকলে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ