৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ , ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

হঠাৎ বদলে গেছে রাজনীতি, কোনঠাসা হতে পারে আইভী


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:০২ পিএম, ১৭ জুন ২০১৮ রবিবার


হঠাৎ বদলে গেছে রাজনীতি, কোনঠাসা হতে পারে আইভী

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই পরিবর্তন এসেছে। আর এ পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে পটভূমি। আর এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হচ্ছে যে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার বলয় অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে যেতে পারেন। কারণ আইভীর পক্ষ অবলম্বন করা দুটি বলয় এখন ক্রমশ দূরে সরতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের ইফতার অনুষ্ঠিত হয় গত ২৯ মে। সেখানে যারা বয়কট করেছিল আইভীর সঙ্গে তারা আবার ৪জুন বন্দরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুফিয়ানের ইফতারে উপস্থিত হননি। ওই গ্রুপটি আবার নিজেরাই একটি বলয় করার চেষ্টা করছেন।

বিপরীতে জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল হাইকে দেখা যাচ্ছে এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে। টানা দুইদিন দুইজনকে একত্রে দেখা গেছে। আগামী ঈদের পর একটি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে যেখানে শামীম ওসমান ও আবদুল হাই দুইজনই থাকবেন ধারণা করা হচ্ছে।

সবশেষ ৯ জুন শামীম ওসমানের পরোক্ষ উদ্যোগে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ সহ সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ইফতারে আবদুল হাইকে দেখা গেছে।

ওই সময়ে আবদুল হাইয়ের পক্ষেই কথা বলতে দেখা গেছে শামীম ওসমানকে। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এখন নেতার অভাব নাই। সবাই আওয়ামী লীগার। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের যে যেই পদে আসীন হয়েছেন শামীম ওসমানের প্রেসক্রিপশনেই হয়েছেন। আমার প্রেসক্রিপশন ছাড়া হন নাই। আমি প্রেসক্রিপশন দিয়েছি তার পরেই হয়েছেন।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ইফতার পার্টিকে ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগকে যেভাবে কলংকিত করা হয়েছে তাতে আমি নিজেও লজ্জিত। সভাপতি ও সেক্রেটারীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাঁদের সিদ্ধান্তকে বয়কট করার ক্ষমতা কারো নাই।’

এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে আবারও দেখা গেছে তাঁর গুরু হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে। ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনের আগে তাদের মধ্যকার চমৎকার বোঝাপড়া ও মিলের মধ্যে ছেদ ঘটে ২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে। তবে মর্গ্যান স্কুলের একটি ভবন ভাঙা নিয়ে শুক্রবার ৮ জুন এক মঞ্চে দেখা গেছে দুইজনকে। কথাও বলেছেন একই সুরে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ করেই সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কিছু কর্মকান্ডের কারণেই বিরোধীতা করা গ্রুপগুলো আবারও এক মঞ্চে আসতে শুরু করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ মেরুকরণ রীতিমত চমক লাগানোর মত।

জানা গেছে, গত ২৯ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলের আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন মোড় নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল একক সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠিত ওই ইফতার মাহফিল আয়োজনের শুরু থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল জেলা আওয়ামীলীগ। ওই ইফতার মাহফিলের যারা বিরোধী ছিলেন তারা সকলেই ছিলেন আইভী বলয়ের। ফলে জেলা কমিটি সহ সিনিয়র সহ সভাপতি পদে থাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী সহ তার বলয়ের নেতাকর্মীরা ইফতার মাহফিল বয়কট করেন। তবে তারা বয়কট করলেই ইফতার মাহফিলে আধিক্যতা ছিল শামীম বলয়ের নেতাকর্মীদের।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল মূলত ওসমান বলয়ের লোক হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি রয়েছে। তিনি এমপি শামীম ওসমান বন্ধু হওয়ার কারণে জেলার সেক্রেটারী পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল কোন কোন সময় প্রত্যক্ষভাবেই মেয়র আইভীর পক্ষে কাজ করেছেন। ফলে শামীম বলয়ের আড়চোখা দৃষ্টি ছিলো আব্দুল হাইয়ের প্রতি। এক টক শো অনুষ্ঠানেও তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইভীর পক্ষে তথা নৌকার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেকের রোষানল ও আড়চোখের সম্মুখীন। তবে প্রধানমন্ত্রী জানেন আমি দলের জন্য তাঁর নির্ধারিত প্রার্থীর জন্য কি করেছি।’ এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে আরেকটি বলয় গড়ে উঠেছিল যা মেয়র আইভী কেন্দ্রীক লোকদের নিয়ে গঠিত। আর সেই বলয়ে জেলার সভাপতি সহ আরো অনেকগুলো পদে নেতাকর্মী ছিল। কিন্তু সম্প্রতি কযেকটি ঘটনা সহ গত ২৯ মে তারিখের ইফতার মাহফিলে এই দুই বলয়ের প্রধান সভাপতি হাই ও সেক্রেটারি শহীদ বাদলের একক সিদ্ধান্তের ফলে মেয়র আইভী বলয়ের নেতারা বিরোধীতা করে অনুষ্ঠান বয়কট করেন।

পরে ৪ জুন আবার বন্দরে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের উদ্যোগে একটি ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেখানে আবার আবদুল হাই বা বাদলকে দেখা যায়নি। এসব নিয়ে যখন রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ তখন আবদুল হাই ওই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মেয়র আইভীকে ফোনে বলা হয় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। তখন তিনি জানতে চেয়েছে কে আয়োজন করছে? পরে বললাম, আমি আর সেক্রেটারী আয়োজন করছি। তখন তিনিও বলেন যে তিনি ফাইনান্স করবেন। তখন আমি বললাম সাধুবাদ জানাই। তখন আমি তারও সম্মতি পেয়েছি। কিন্তু এর পর কি হয়েছে সেটা আমি বলতে পারছি না। কার্যকরী কমিটির প্রেসিডেট সেক্রেটারী এক মত হয়ে যেকোন অনুষ্ঠান করতে পারে। সেটা শুধু মাত্র আমাদের দলে না সব দলের বেলায় প্রযোজ্য। আর এটাই নিয়ম।’

এরই মধ্যে জেলা পরিষদের এফডিআরের টাকা নিয়েও সম্প্রতি সেলিম ওসমান কথা বলেন। পরে আবার হাই এ ব্যাপারে ব্যাখাও দেন। এদিকে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের ইফতার পার্টি। সেখানে আবদুল হাই, সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন। ইফতার পার্টি ও পরে আবদুল হাইকে শামীম ওসমানের সঙ্গে একান্তে আলোচনা করতেও দেখা যায়।

একই দিন মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সেলিম ওসমান উপস্থিত ছিলেন। স্কুলের একটি ভবন ভাঙা নিয়ে উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে আন্দোলনও হয়। তবে মেয়র বলেছিলেন তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ওই জায়গার মালিক সিটি করপোরেশন। কিন্তু শুক্রবারের মতবিনিময় সভায় আনোয়ার হোসেনকেও বেশ ক্ষুব্ধ মনোভাব দেখা গেছে। কেন স্কুল ভাঙা হলো আর সেটা কেন রাতের আঁধারে সে প্রশ্নও তুলেন আনোয়ার হোসেন ও সেলিম ওসমান।

সেলিম ওসমান আরো বলেন, আমি আগেও বলছি আবারো বলছি এই মাসে কোন রাজনীতি নয়। কোন উত্তেজনা নয়। আমি আনোয়ার ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ রাখবো আপনি উত্তেজিত হবেন না। যদি স্কুলের কাছে কাগজপত্র থাকে তাহলে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। আইনগত ভাবেই সমাধান করা যেতে পারে।

সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি বলেন, স্কুলটির ভবনটি যদি সিটি কর্পোরেশনের জমিতে হয়েও থাকে তবুও আমি বলবো এভাবে রাতের আঁধারে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা উচিত হয়নি। ভবনটি ভাঙার আগে আলোচনা করা যেত। আর যদি কেউ মনে করেন আমি মেয়র, আমি ক্ষমতায়। তাহলে বলবো ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ