৫ শ্রাবণ ১৪২৫, শুক্রবার ২০ জুলাই ২০১৮ , ২:১৯ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ : জন্ম জেলা নারায়ণগঞ্জ, কালের সাক্ষী বায়তুল আমান


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ২২ জুন ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:১৩ পিএম, ২৪ জুন ২০১৮ রবিবার


আওয়ামী লীগ : জন্ম জেলা নারায়ণগঞ্জ, কালের সাক্ষী বায়তুল আমান

রাজধানী ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেক আন্দোলনে সে সময়ে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্বাধীকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত যুগ্ম আহবায়ক মফিজুল ইসলাম জীবদ্দশায় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতার কথা বলতে গেলে নারায়ণগঞ্জ ও আওয়ামী লীগের নাম আসবেই। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এ দু’টি নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ, এ নারায়ণগঞ্জেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে। শহরের চাষাঢ়ায় শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব ওসমান আলীর মালিকানাধীন ‘বায়তুল আমান’ নামের বাড়িতে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষানী বিভিন্ন সময়ে এসে থেকেছেন। এ বায়তুল আমানেই হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রথম বৈঠক।

সাংবাদিক মোমতাজ আহমেদ একটি কলামে লিখেছেন, বাঙালীর মহানভাষা আন্দোলনেও নারায়ণগঞ্জ সগৌরবে পালন করেছে সেই অভিধা ‘নারায়ণগঞ্জ ইজ দ্যা পলিটিক্যাল হান্টিং গ্রাউন্ড অব দ্যা বেঙ্গল’।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূমিকা ছিল গৌরবময়। এ আন্দোলনে এ শহরের সাহসী মানুষ ও নেতাগন নেতৃত্ব দিয়েছেন অবিচল নিষ্ঠায়। আর এ জন্য রাজধানী ঢাকার পর সে সময় পূর্ব বঙ্গের একমাত্র নারায়ণগঞ্জ শহরেই চলে সবচেয়ে বেশি সরকারের নির্মম নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার ও গ্রেফতার। ঢাকার নিকটতম শহর হবার কারণে প্রতিটি আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাব ফেলে এ শহরে। এই শহর হয়ে ওঠে আন্দোলন মুখর। উত্তাল আন্দোলন দেখে শহরবাসী।

নারায়ণগঞ্জ শহরে ঠিক কোন সময় থেকে ভাষা আন্দোলন শুরু হয় এবং এ আন্দোলনের ব্যাপকতা নিয়ে পরিপূর্ণ কোন গবেষণা আজো হয়নি। তবে বলা যায় ১৯৪৮ সাল থেকে ভাষার জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপী যে আন্দোলন শুরু হয়, নারায়ণগঞ্জ ছিল ঢাকার পরই সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকায়। সাবেক এম এল এ খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ মরহুম খান সাহেব ওসমান আলীর চাষাঢ়া এলাকার তৎকালীন বৈশিষ্ট্যময় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বাসভবন ‘বায়তুল আমান’ ছিল নারায়ণগঞ্জ শহরে ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। এ বাসভবনকে ঘিরেই এ শহরে আন্দোলন সু-সংগঠিত হয়। একই সাথে উত্তর চাষাড়ার এ কে এম সামসুজ্জোহার (জোহাভাই বা জোহাদা নামে শহরময় সর্বমহলে ব্যাপক সু-পরিচিত) বাসভবন ‘হীরামহল’ ছিল মাঠ পর্যায়ের নেতা ও কর্মীদের জন্য ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত বিফ্রিং কেন্দ্র। বিফ্রিং দিতেন একেএম সামসুজ্জোহা নিজেই। ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এ কে এম সামসুজ্জোহার যোগাযোগ ও সখ্য ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে শহরের অনেক স্থানে সভা হয়েছে আন্দোলনকে বেগবান করতে। কিন্তু ‘বায়তুল আমান’ ছিল মূল কেন্দ্রস্থল। আন্দোলনের বিভিন্ন স্তর পর্যায়ের কৌশল ও নির্দেশনার উৎস স্থল ছিল ‘বায়তুল আমান’। এ কারণেই পাক শাসক গোষ্ঠির নির্দেশে ভাষা আন্দোলনের এক চরম পর্যায়ে এ বাসভবনটিতে (২৯ ফেব্রুয়ারী) তৎকালীন ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস্্ (ই পি আর) ও পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে নির্মম আক্রমন চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, টাকা-পয়সা ও সোনাদান লুটতরাজ এবং খানসাহেব ওসমান আলীসহ কয়েকজন ভাষা সৈনিককে অমানবিকভাবে গ্রেফতার করে। এ বর্বর হামলা ও গ্রেফতারের খবর দেশী ও বিদেশী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে রহমতউল্লাহ্ ইন্সটিউটে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র প্রতিষ্ঠানের মিলিত উদ্যোগে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের নির্দেশ অনুসারে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। এ কে এম সামসুজ্জোহা (বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের পিতা) সভাপতি ও মফিজউদ্দিন আহমেদ আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। পূর্ব পাক ছাত্র লীগের সভাপতি শামসুল হক চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় রাষ্ট্রভাষার দাবি এবং নিরাপত্তা বন্দী শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রস্তাব ড়্রহণ করা হয়। এর আগে ৩১ জানুয়ারী যে ৪০ সদস্য নিয়ে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয় তাতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলিম লীগের দু’জন সদস্য ছিলেন। এরা হলেন আলমাস আলী ও আব্দুল আউয়াল। এ কে এম শামসুজ্জোহা পরবর্তীকালে ১৯৭০ এর নির্বাচনে এমএনএ ও পরে বাংলাদেশ অর্জিত হবার পর সাংসদ নির্বাচিত হন। নারায়ণগঞ্জের সকল ভাষা সৈনিকই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অংশ। আর এই ইতিহাসের সাথে যুক্ত হয়ে এক গৌরবময় কালের স্মৃতি জাগানিয়া স্বাক্ষী হয়ে আছে খান সাহেব ওসমান আলীর বাসভবন ‘বায়তুল আমান’।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ