২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

rabbhaban

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে আতঙ্কিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৯ পিএম, ২৩ জুন ২০১৮ শনিবার


প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে আতঙ্কিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসন এলাকাতে আগামী নির্বাচনেক সামনে রেখে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন প্রচুর নেতা। আর নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও নীতিবাচক কর্মকান্ডের ব্যাখা অতিতে ভোটারদের সামনে তুলে ধরলেও এবার আর সেইরকম কোন সুযোগ থাকছে না। বরং এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ ঘোষণা কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়েছে।

২৩ জুন শনিবার গণভনে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই হুশিয়ারী দেন। এ ঘোষণার পরপরই নারায়ণগঞ্জের সম্ভব্য প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে। কারণ বিগত সময়ে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও মামলা দিয়ে ইতোমধ্যে তারা এ নিয়ম ভেঙে ফেলেছেন যা সবই কেন্দ্র থেকে অবহিত আছে।

প্রার্থী হতে গিয়ে কেউ আওয়ামী লীগের বদনাম করলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি বিষয় লক্ষ করছি, কেউ কেউ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রার্থী হয়ে গেছেন। প্রার্থী হয়ে তারা বিএনপির লুটপাট-সন্ত্রাসের কথা বলে না, তাদের বক্তব্যে এসে যায় আমার আওয়ামী লীগের এমপির বিরুদ্ধে, সংগঠনের বিরুদ্ধে।’

তিনি বলেন, ‘প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু প্রার্থী হতে গিয়ে আমার দলকে বদনামে ফেলবে, এটা কোনও মতেই মেনে নেবো না। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। আমার সরকার উন্নয়নের কাজগুলোর কথা না বলে কোথায় কার বিরুদ্ধে কী দোষ আছে, সেটা খুঁজে জনগণকে যারা বলবেন, তারা কখনও আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না। এটা পরিষ্কার কথা। আমি এগুলো কিন্তু রেকর্ড করছি। যারা দলের বিরুদ্ধে বদনাম করবে  সে কী বোঝে না যে এতে তার ভোটও নষ্ট হবে। ১০ বছর সরকারে থাকার পর যদি কেউ দলের বিরুদ্ধে বদনাম করে তাহলে জনগণ তো তাকেও ভোট দেবে না। এটা হলো বাস্তবতা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগও এখানে বিভিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমপি গাজীর এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বি শাহজাহান ও রফিকুল। প্রায়শই দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে সম্প্রতি সুমন নামের একজন নিহতও হয়। এর আগেও প্রচুর সংঘাত ঘটেছে। সেখানকার রাজনীতিকদের মতে, গাজী যদি আবারও এমপি হন তাহলে রফিকুল ও শাহজাহানকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। কারণ তখন গাজী প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনাও ঘটতে পারে যে, গাজী মনোনয়ন পেলে সেখানে ভোটের বিরোধীতা করতে পারে প্রতিপক্ষরা। আবার উল্টো চিত্রও হতে পারে। সেখানে গাজী ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়ন পেলে গাজী ও তার লোকজনও বিরোধীতা করতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-২ তথা আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। তবে বাবুর সঙ্গে সরাসরি প্রতিপক্ষ পারভেজ। ইতোমধ্যে তাদের ভেতরে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আড়াইহাজারের লোকজনদের মতে, বাবু ও পারভেজের মধ্যে যিনিই মনোনয়ন পাবেন তিনিই আগামীতে একক রাজত্ব করবেন। ফলে যিনি মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হবেন তার প্রতিদ্বন্দ্বিকে পোহাতে হবে কঠিন পরিস্থিতি। কারণ যিনি এমপি হবেন তিনি তখন প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠবেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। আগামী নির্বাচনে এখানে মহাজোট থাকবে নাকি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে সেটাও নিশ্চিত হয়নি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার নৌকা প্রতীকের জন্য এগিয়ে আছেন। ইতোমধ্যে এ দুইজন বাকযুদ্ধে জড়াচ্ছেন। এখানে কে মনোনয়ন পাবেন সেটাও নিশ্চিত না। তবে যিনি মনোনয়ন পাবেন না তাকে বেশ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন পোহাতে হবে আগামীতে। তখন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এ আসনে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম থাকলেও রয়েছে নানা অভিযোগ।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি ও মহাজোটের। আগামীতে নির্বাচনে মহাজোট থাকবে কী না সেটা এখনো নিশ্চিত না হলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে চলছে জোরালো লবিং। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে প্রচারণা করেছেন। তবে তাদের তরুণ প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বেশ কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকাতে যাচ্ছেন। প্রচারণার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ