৮ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ১২:১০ অপরাহ্ণ

উপ নির্বাচনের ৪ বছর, রাজনীতিতে নাই সেই আকরাম


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৯ পিএম, ২৪ জুন ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ১১:০৯ পিএম, ২৬ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার


উপ নির্বাচনের ৪ বছর, রাজনীতিতে নাই সেই আকরাম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়া এস এম আকরামকে আর তেমনভাবে দেখা যায়নি এ জেলাতে। ২০১ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া উপ নির্বাচনের আগে বক্তব্যে সাবেক এ সরকারী কর্মকর্তা বেশ দৃঢ়ভাবেই প্রত্যয় করেছিলেন তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থাকবেন। গত চার বছরে বড় কোন কোন অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাকে।

রাজধানী ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলাটি বন্দর নগরী ও প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসাবে পরিচিত। অবস্থানগত কারণে, যোগাযোগের সুব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় নারয়ণগঞ্জের রাজনৈতিক চাঞ্চল্যতা বরাবরই দেশের রাজনৈতিক পরিমন্ডলকে প্রভাবিত করেছে।

উপ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বহুল আলোচিত নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮২২ ভোট। বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্য ১ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ ভোট। অনিয়মের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়। ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪০ কেন্দ্রের ফলাফলে সেলিম ওসমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের এস এম আকরাম পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (গামছা প্রতীক) ১৩শ ৯৬ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের মামুন সিরাজুল মজিদ পেয়েছেন ৭৪৩ ভোট।

এদিকে সম্প্রতি এসএম আকরাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আমাকে যে কোন প্রয়োজনে যে কোন সময়ে ডাকলে পাবেন। যে কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকলে আমি যাবো। আর নিয়মিত আমি নারায়ণগঞ্জে আসি। এলাকার লোকজন আত্মীয়স্বজনদের সাথে কথা হয় যোগাযোগ করি। যাদের সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি তাদের সাথে নিয়মিত কথা হয় যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে সকল খোজ খবর নিচ্ছি। আর সাধারণ মানুষের যে কোন সমস্যা বিপদ আপদে আমি পাশে থাকব।

প্রসঙ্গত ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ছিলেন এস এম আকরাম। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির এমপি হন আবুল কালাম। ওয়ান এলেভেনের পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টির নাসিম ওসমান মহাজোটের প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। কিন্তু ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নানা নাটকীয়তার পর তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় শুরু হয় নির্বাচনের উত্তাপ। পরে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি, সাবেক এমপি এস এম আকরাম,  মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সে উত্তাপ আরো বেড়ে যায়। শেষতক রাব্বির মনোনয়ন পত্র বাতিল ও আনোয়ার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নির্ধারণ হয়ে যায় দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। আর তারা হলেন এস এম আকরাম ও সেলিম ওসমান। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলেন মামুন সিরাজুল মজিদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে সেলিম ওসমান উপ নির্বাচনের সময়েই প্রথমবারের মত সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তিনি লড়েন নির্বাচনে।

আনারস প্রতীকের আকরামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এম এ এল এল বি। ১৯৯৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগের যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামীলীগের এমপি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি পক্ষ নেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর। নির্বাচনে আইভী জয়লাভের পরদিন তিনি জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে। হলফনামা অনুযায়ী এস এম আকরাম বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক। তবে এগুলোর বেশীরভাগই তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। তার বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ নেই। এক কথায় তিনি ক্লীন ইমেজের লোক হিসেবে পরিচিত।

সম্প্রতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এস এম আকরাম বলেন, নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। জনগণ যাকে চায় সে নির্বাচন করবে। তবে নির্বাচনপদ্ধতি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক ঐক্য হতে হবে। বর্তমানে যে অবস্থা চলছে সেটা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নয় বলে আমরা নাগরিক ঐক্য মনে করি। ১৪ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হলে অংশগ্রহণ করবো না। যদিও আমি আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি কিংবা নাগরিক ঐক্য থেকে নির্বাচন করবো সেটা এখনো স্পষ্ট না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ নগরী এখনো সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবেই পরিচিত। বিগত দিনে সংঘটিত হত্যাকান্ডের বিচার যতদিন পর্যন্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত সন্ত্রাসের জনপদই থেকে যাবে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ