৫ শ্রাবণ ১৪২৫, শুক্রবার ২০ জুলাই ২০১৮ , ২:৩৮ অপরাহ্ণ

কপাল পুড়ছে পলাশ ও ইকবাল পারভেজের!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:২৯ পিএম, ৬ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:১৪ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার


কপাল পুড়ছে পলাশ ও ইকবাল পারভেজের!

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন একটি খবর প্রকাশ করেছেন দেশের প্রথম সারির দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। এতে বলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম বাবু মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত। যদিও বর্তমানে এ দুটি আসনে তারাই এমপি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওই খবরে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলীয় পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমনটা ধরে নিয়েই প্রার্থী তালিকা করা হচ্ছে। নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছেন কিংবা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এমন শতাধিক এমপি-মন্ত্রী দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। জনপ্রিয়তায় যারা এগিয়ে রয়েছেন, তাদেরই নৌকায় তুলছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে মনোনীত প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 

দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য ২১০টি আসন। বাকি ৯০টি আসন মহাজোটের জন্য রাখা হবে। ২১০টি আসনকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে এরই মধ্যে ১৩৫টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, সেপ্টেম্বরের আগেই দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। জোটের প্রার্থীদের আসনও বণ্টন করা হবে তফসিল ঘোষণার আগেই। মনোনয়নবঞ্চিতরা যেন দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে না পারে, সে জন্য কেন্দ্র থেকে নানা বিকল্প দেখিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করা হবে এবং সবাইকে দলের মনোনীত প্রার্থীকে পাস করানোর জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করার কথা বলা হবে। ১৩৫টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনে দুজন করে প্রার্থী রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নেওয়া হচ্ছে।

ওই খবর বাস্তবায়ন হলে কপাল পুড়তে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকাতে এমপি বাবুর পরেই ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল পারভেজ। দুইজনই আগামীতে মনোনয়নের জন্য লড়ছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠছে।

এর আগে গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী পরিচালক ইকবাল পারভেজ। এ ঘটনায় সে গ্রেফতারও হন। যদিও পরবর্তীতে মামলাটি উচ্চ আদালতে স্থগিত কর হয়।

তবে দুদক সূত্র জানায়, ২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার ৬০২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইকবাল পারভেজ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেন দুদক উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, ইকবাল ছিলেন রাজউকের একজন সহকারী পরিচালক। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় সেখানে কাজ করেছেন। এর আগে ছিলেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের সহকারী আইন কর্মকর্তা।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সমালোচিত শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ যে আত্মস্বীকৃত ‘চাঁদাবাজ’ সেটা তাঁর স্ব কর্মকা-েই প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। জাতীয় একটি দৈনিক পলাশকে ‘গডফাদার’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর ক্যাডার বাহিনী নামিয়ে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার ফিল্মী স্টাইলে ঘোষণা দেওয়ার পর নিজেই সমাবেশ করেছিলেন তিনি। তাতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বরং একের পর এক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলাও ঠুকে দেন তিনি। তবে আরেকটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক পলাশকে ‘দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করার ২ মাস অতিবাহিত হলেও কোন ধরনের হুমকি, হুশিয়ারী উচ্চারণ করেনি। বরং এক সংবাদ সম্মেলন করে এর আংশিক প্রতিবাদ জানান। সংশ্লিষ্টরা বললেন, পলাশের এ দ্বৈত ভূমিকাই প্রমাণ করে সে একজন আত্মস্বীকৃত চাঁদাবাজ।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া পলাশের কোন নাম না থাকালেও একটি সংবাদের রেশ ধরে সময়ের নারায়ণগঞ্জ, ডান্ডিবার্তা ও অনলাইন নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন ও দুইটি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। একই সঙ্গে আলামিন প্রধান ও নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি ৫৭ ধারায় মামলা করেন।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর শুধু মামলা নয় তার বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লায় মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

পরে ১১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কিছুটা হুশিয়ার করেছিলেন। শ্রমিকদের উপস্থিতিতে ওই সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘আগামীতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে আরো মামলা দেওয়া হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমি ছাড় দেওয়ার মানুষ না।’

গত ৫  মে ‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শিরোনামে ও  নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের নাম তাণ্ডব, চাঁদার জন্য ৩৬ শিল্প-কারখানা বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ বিশেষণে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এ সংবাদ প্রকাশের দুইদিন পর ৭ মে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন পলাশ।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি যুগান্তর সহ বেশ কিছু পত্রিকার বিরুদ্ধে আপনি (কাউসার আহমেদ পলাশ) মামলা করেছেন তবে কেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিরুদ্ধে মামলা না করে সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছেন।

এর প্রেক্ষিতে কাউসার আহমেদ পলাশ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুগান্তর পত্রিকা আমাকে গডফাদার লিখেছে তবে বাংলাদেশ প্রতিদিন গডফাদার লেখে নাই। তাই আমি মামলা করিনি বরং সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছি।’

দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার একটিতে গডফাদার লেখায় নাখোশ হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন কাউসার আহমেদ পলাশ কিন্তু আরেকটি পত্রিকায় চাঁদাবাজ লিখলেও তাতে নাখোশ হননি তিনি।

গত ৫ মে দেশের প্রথম সারির দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতায় ‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয় যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় হয়। ওই সংবাদটিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। সরকার, প্রশাসন, দল- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না তিনি। দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিটশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক পল্লীর শত শত গার্মেন্ট মালিক শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে পলাশের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি। শুধু ফতুল্লাতেই পলাশের ৭৪টি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে; যার সব কটির শীর্ষপদই তার দখলে। আর ফতুল্লা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতির পদটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিজের কব্জায় ধরে রেখেছেন। তার এসব শ্রমিক সংগঠনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কানাডিয়ান নাগরিকের মালিকানাধীন র‌্যাডিকেল গার্মেন্ট, হামিদ ফ্যাশন, পাইওনিয়ার সোয়েটার, আর এস সোয়েটার, মিশওয়ার হোসিয়ারি, এন আর নিটিং, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো নিটের মতো প্রায় ৩৬টি গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছিল। অনেক প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলে গেছে। যারা টিকে আছে তার অনেককেই কৃত্রিম শ্রমিক অসন্তোষের ভয়ে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের সাম্রাজ্যের মতোই ফতুল্লায় গড়ে তুলেছেন আলাদা আরেক সা¤্রাজ্য। যেখানে সব কথার শেষ কথা পলাশ। দিনের পর দিন অপকর্ম করে গেলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পলাশ যেন এখন সন্ত্রাসের মহিরুহে পরিণত হয়েছেন। এক পলাশেই ঘটছে নারায়ণগঞ্জের সর্বনাশ। সরেজমিন জানা গেছে, ফতুল্লার কয়েক হাজার অবৈধ অটোরিকশার চাঁদাবাজিও পলাশের নিয়ন্ত্রণে। এতে ফতুল্লার তিনটি ইউনিয়ন থেকে উঠে গেছে প্যাডেলচালিত রিকশা। ফতুল্লার কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বহমান বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে অবৈধ বালু আর পাথরের ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্যও পলাশের কব্জায়। ইতোমধ্যেই বুড়িগঙ্গা নদী দখলমুক্ত রাখতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। পাগলা থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত ওই ওয়াকওয়ে ভেঙে ফেলায় তার বিরুদ্ধে ৩ মে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্মপরিচালক (বন্দর) এ কে এম আরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় জিডি করেন। তবে এ জিডি পলাশের দখলদারিত্বে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা তার (পলাশ) বাড়িতে আসার পর থেকে যেন বাদশাহ হয়ে উঠেছেন তিনি।

তবে পলাশের দাবী, তার বাসায় গত ২৮ জানুয়ারী আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের আসার পর থেকেই ওই অপপ্রচার শুরু হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো তাই ওই আসনে প্রার্থীরা এ ধরনের সংবাদ কারতে ইন্ধন উস্কে দিচ্ছে।

পলাশ বলেন, বলেন, আগে মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে টুকটাক পক্ষে বিপক্ষে লিখা হতো আলোচনা-সমালোচনা করে কারণ আমি মানুষ আমি ফেরেশতা না। কিন্তু বিশেষ করে জানুয়ারীর ২৮ তারিখের পর থেকে মানে যেদিন থেকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব তার সফরের মধ্যেপথে আমার বাসায় প্রায় ঘন্টাখানিক অবস্থান করেন। এই ঘটনার পর থেকেই কিছু প্রতিপক্ষ তৈরী হয়ে গেছে, যারা সংবাদ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। যেহেতু আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোয়ন চাইবো। আর এ মনোয়ন যাদের বিরুদ্ধে যাবে তারাই আমার প্রতিপক্ষ এবং তারাই আমার বিরুদ্ধে এরকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থীও হতে পারে এবং এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরাও হতে পারে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ