২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:১০ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

কালাম পন্থীরাই ভোল পাল্টানোতে


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৪ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার


কালাম পন্থীরাই ভোল পাল্টানোতে

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আবুল কালামের অনুগামী নেতারাই এখন ভোল পাল্টানোর দলে ভীড় করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচিত কাউন্সিলর রয়েছেন। আছেন আবুল কালামের চাচাতো ভাই বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলও।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা রকমের হিসেব নিকেশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যানারে প্রায় ডজনখানেক নেতা ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে সকল হিসেব নিকেশের ঊর্ধ্বে থেকে সাবেক তিন বারের এমপি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পথ ছিল অনেকটা পরিস্কার। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে আবুল কালামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কম। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা কম থাকলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে এমপি হিসেবে দেখন চান না বিএনপির দলীয় ব্যানারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই।

২৬ জুন বিকেলে শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে সড়কে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে এমন দাবীই উঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হিসেবে সেলিম ওসমানের ৪র্থ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল পর্যায়ের জনপ্রতিধিদের মধ্যে বিএনপির দলীয় ব্যানারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও ছিলেন।

এমনকি সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ভাই ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলও স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। তিনি একইসাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও আতাউর রহমান মুকুল বেশ কৌশলীভাবে সেলিম ওসমানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া বাকী সকলের বক্তব্যেই আগামীতেও সেলিম ওসমানকে এমপি হিসেবে পাওয়ার দাবী উঠে এসেছে।

মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল বলেন, ‘গত উপজেলা নির্বাচনের আগে আমাকে সেলিম ওসমান ডেকেছিলেন। তখন বলেছিলেন তার জন্য যেন আমি খেয়াল রাখি। আমিও তখন বলেছিলাম আমার জন্য তিনি যেন খেয়াল রাখেন।

মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার হলেন আবুল কালামের ঘনিষ্ঠজনদের একজন। তিনিও এখন আওয়ামী লীগ ও সরকারের বন্দনা করছেন। তিনি বলেন, সেলিম ওসমান একের পর এক উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন। অনুদান ছাড়াও স্কুল কলেজ নির্মাণ করেছেন। আগামীতে আবারও তিনি নির্বাচন করবেন। আমরা তার পক্ষে কাজ করবো এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। কারণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেলিম ওসমান একজন মডেল।

২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সুলতান আহমেদও কালামের অনুগামী। তিনি বলেন, আমি গত ৪ বছরে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে সেলিম ওসমান দল মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেছেন। সেলিম ওসমান জনগণের জন্য কাজ করছে বিধায় তাঁর জন্য আজ আমি মঞ্চে এসেছি। আমার এলাকার লোকজন আমাকে চাপ দেয় যে কেন এমপি সেলিম ওসমানের কাছে যাই না। এলাকাবাসীর কথামত আমি সেলিম ওসমানের কাছে এসেছি। আমি এলাকাবাসীর দাবীর মতে ওয়াসার পানি সমস্যার জন্য এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এমপি সাহেব ওয়াসাকে বলে দিলে সমস্যার সমাধান হবে। তখন এলাকাবাসী সেলিম ওসমানের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। আগামীতে সেলিম ওসমানকে নিয়ে এগিয়ে যাবো।

বিএনপি নেতা ও ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ বলেন, সেলিম ওসমান উন্নয়ন ও অনুদানে কোন দল দেখেনি। এতে আমি অভিভূত। আমি সেলিম ওসমানের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ