২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

rabbhaban

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জটিলতায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৫৭ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার


ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  সামনে রেখে বেশ জটিলতায় পড়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। জেলার ৫টি আসন থেকে প্রায় ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশি। এখানে রয়েছে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দল জাতীয়পার্টির দুজন এমপি। জাতীয়পার্টির টার্গেট আগামী নির্বাচনে এখানে ৫টি আসনেই লাঙ্গলের প্রার্থী দাবি করা হবে। এখানে দুটি আসনের জাতীয়পার্টির দুজন এমপি আবারো মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একদিকে মহাজোট ঠেকাতে আওয়ামীলীগের চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে এখানে বিএনপিরও রয়েছে একটি ঘাটি। ফলে আগামী নির্বাচনে এখানে আওয়ামীলীগের হিসেবে নিকেষে জটিলতা রয়েছে। মহাজোটের সঙ্গে তাদের যোজন যোজন দুরুত্ব।

অন্যদিকে এমন জটিলতায় এখন আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের মধ্যে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে। বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন এলাকা জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ উভয়ে নিজেদের দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে মীমাংসা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়ে ওঠেনি এখনও। দিপুমনির দ্বারস্থও হয়েছিলেন নেতারা। এমন জটিলতার মাঝে আরো জটিল করে তুলেছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে যার যার অবস্থান পোক্ত করতে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এলাকা দাবি করে আসছে মহানগর আওয়ামীলীগ। মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটি গঠনকল্পে কর্মীসভাও করে গেছেন ওইসব এলাকায়। এ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ দাবি করেছেন ওই ইউনিয়ন এলাকাগুলো মহানগর নয় জেলা কমিটির আওতাধীন। গত বছর মুছাপুর ইউনিয়ন এলাকায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা কর্মী সভা করেছেন। এ নিয়ে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। জেলা  আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল দাবি করেছেন ওই ইউনিয়নে মহানগরীর কোন কর্তৃৃত্ব নেই। যদিও ওই এলাকাগুলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওতাভুক্ত। এ আসনকে লক্ষ্যে রেখেই খোকন সাহা সেখানেও কাজ শুরু করে দেন। কিন্তু বাধ সাধে খোকন সাহারই বন্ধু শহীদ বাদল।

ওই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় খোকন সাহার বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকার ভিতরে নানা কুৎসা রটিয়েছিলেন শহীদ বাদলের কর্মী আলমগীর। খোকন সাহা শহীদ বাদলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে দুজনের মধ্যে আওয়ামীলীগের নেতারা মিলিয়েও দেন। কিন্তু সেই মিল যে বেশিদিন গেল না তা বুঝা গেল ওই বছর কদিন পরই। কারন খোকন সাহা নিজেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি দাবি করার দুদিন পর শহীদ বাদল দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। শহীদ বাদল বলেছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগ প্রার্থী ঘোষণার মালিক না। প্রার্থী ঘোষণা দিবে কেন্দ্র।’

মূলত এ আসনে শহীদ বাদলেরও আশা রয়েছে বলে তার কর্মীরা জানিয়েছেন। এছাড়াও এ আসন নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুুর সমর্থকরাও পোস্টার করে প্রচারণায় চালাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলে তুমুল সমালোচনায় শহীদ বাদল।

নেতাকর্মীদের দাবি, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় যা এখনও সেই বিষয়টির সুরহা হয়নি। জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তবে এসব ঘটনার পরেও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবি করেন দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বন্দরের ৫টি ইউনিয়ন এলাকা মহানগর কমিটির আওতাভুক্ত। তবে জেলা কমিটিও দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের মধ্যে এক প্রকার বিরোধই সৃষ্টি হয়েছে। মুলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই এসব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কারন মনোনয়ন প্রত্যাশিরা চাচ্ছেন যার যার অবস্থান পোক্ত করতে। তাই নিজের বলয়ে এলাকাগুলোর নেতাদের রাখতেও তারা একে অপরকে কোনঠাসা করতে নানা কৌশল অপকৌশলও চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন খোকন সাহার বিরুদ্ধে শহীদ বাদলের কর্মী আলমগীরের মাধ্যমে নানা কুৎসা রটানো হয়। রহস্যজনক কারনে খোকন সাহা শহীদ বাদলের কর্মী আলমগীরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

জানাগেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন থেকে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদকে। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামীলীগের সমযোতায় এ আসনটি জাতীয়পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামীলীগ। শুক্কুর মাহমুদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় এমপি নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। পরে বছর দুয়েক পর নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর এখানে জাতীয় পার্টি থেকে সেলিম ওসমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ওই নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ কাউকে মনোনিত করেনি। ফলে সেলিম ওসমান নির্বাচিত হন। ওসমান পরিবারের অনুগত তিনজন আওয়ামীলীগ নেতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে খোকন সাহা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশাও করছেন। তবে খোকন সাহার এমন প্রত্যাশার ঘোষণায় দ্বিমত পোষণ করেছেন শহীদ বাদল।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ