২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ৮:৪১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

বিতর্ক ছাড়ছে না গডফাদারের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার


বিতর্ক ছাড়ছে না গডফাদারের

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে একক কব্জাবন্দী করা দলের ভেতরের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শাহআলমের বিতর্ক ছাড়ছে না। কর ফাঁকির অভিযোগ যেতে না যেতেই এবার উঠেছে তাঁরই একজন ক্যাডারের গ্রেফতারের ঘটনা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে শাহআলম ‘ডন’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর দাবী, তিনি যেভাবেই চাইবে সেভাবেই দলের কমিটিগুলো হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কমিটিও হয়েছে। আর সে কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারাও নিজেদের প্রটোকল ভেঙে দুই ডনকে খুশী করতে ছুটে চলেন তাদের বাড়িতে করেন লেজুরবৃত্তি। এসব নিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা।

সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে রয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ও মুহাম্মদ শাহআলম। এর আগে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুধু ফতুল্লা এলাকা নিয়ে ছিল একটি আসন। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন মুহাম্মদ শাহআলম। এবারো আশাবাদি শাহআলম এখানে মনোনয়ন পাবেন। শাহআলম কখনই রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে থাকেন না। তিনি দাবি করেন তিনি কেন্দ্রে বিএনপির একজন ডোনার হিসেবে কাজ করেন। যে কারনে তিনি সময়মত মনোনয়ন পাবেন। মূলত শাহআলমের সেই আশার সুবিধার্থেই সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি কেটে নিয়ে জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কারণে নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একজন ডন মুহাম্মদ শাহআলম।

এদিকে বিএনপি নেতা শাহআলমের ক্যাডার ফতুল্লা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী তুষার আহম্মেদ মিঠুকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ১০ জুলাই রাত সাড়ে ৮টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ফতুল্লা স্টেশন রোড এলাকা হতে সন্ত্রাসী মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত তুষার আহম্মেদ মিঠু ফতুল্লা দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার মৃত গফুর সিদ্দিকীর ছেলে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশের তালিকাভুক্ত ৪২ নম্বর সন্ত্রাসী তুষার আহম্মেদ মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৯ টি মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সহ সভাপতি শিল্পপতি শাহআলমের একটি কারখানায় ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানে তুষার আহমেদ মিঠুকে দেখা গেছে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। সে অনুষ্ঠানে শাহআলম নিজে মিঠুকে পাল্টা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে মিঠুকে শ্রমিক দলের রাজনীতি করতেও পরামর্শ দেন শাহআলম।

মুহাম্মদ শাহআলম সহ তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে সরকারের কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। ওইসব ভাইয়েরা শাহআলমদের মালিকানাধীন শাহজালাল স্পিনিং মিল ও শাহ ফতেহউল্লাহ টেক্সটাইল মিলের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

শাহআলম ছাড়াও তাঁর আরো ৫ ভাই এবং জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও শাহ ফতেহউল্লাহ টেক্সটাইল মিলের বিরুদ্ধেও রয়েছে কর ফাঁকির অভিযোগ। সবার ঠিকানা দেওয়া হেেছ রাজধানীর দিলকুশাতে ইউনুস সেন্টারে। আর কারখানার ঠিকানা দেওয়া আছে লালপুর এলাকাতে।

ইতোমধ্যে এনবিআর ও দুদকে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত নথি জমা হয়েছে। সেখানে ৬জনের নাম ও দুটি শিল্প কারখানার বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কিভাবে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে তার আদ্যোপান্তও তুলে ধরা হয়।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির শক্তিশালী সংগঠনগুলোতে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জের একজন শিল্পপতি কাম বিএনপি নেতা শাহআলমের সুবিধার কথা চিন্তা করে নারায়ণগঞ্জে আসন ভিত্তিক বিবেচনায় বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, জেলা বিএনপি সহ সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম, জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস লিমিটেড এবং শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এর পরিচালক। ঠিকানা ১৯ ইউনুস সেন্টার, ৫২-৫৩ দিলকুশা বা/এ, ঢাকা। সার্কেল-৭৩ (কোম্পানীজ), জোন-০৪ ঢাকা। টিআইএন নং- ৫২২০৮৪৪৯০৫১৪, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৬৭১৫৮৩৭৪০০২২৭।

সে শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, টিআইএন নং-৩৬৩২৯১৩৯৮৬২২ থেকে মাসে ৬১ লাখ টাকা পরিতোষিক গ্রহণ করেন আর ৫ লাখ পারিতোষিক দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন প্রদান করেন। সে হিসেবে মাসে যদি ৫৬ লাখ টাকার উপর আয়কর ফাঁকি দেন তবে বছরে আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয় ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বছরে হলে ২০ বছরে হবে ৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকার উপরে। তার নিজের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে অনেক ব্যাংক হিসাব রয়েছে তার প্রতি বছর বিভিন্ন ব্যাংকে ব্যাংক হিসাব খুলে আবার বন্ধ করে। আবার কোম্পানীর নামে হিসাব খুলে ব্যক্তিগত ভাবে হিসাব পরিচালনা করে যাহা কোম্পানরি ব্যালেন্স শীট/ ফিন্যান্সসিয়ালস এ দেখানে হয় না ব্যাংক হিসাব সার্চ দিলেই এসব লোমহর্ষক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জোয়ার সাহারা, বাড্ডা, বারিধারা, বসুন্ধরা এ ব্লক হতে ৫ কাঠা করে তিনটি প্লট ক্রয় করে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিন্তু আয়কর ফাইলে দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৫শ টাকা। এছাড়া তাদের নামে বেনামে আরো অনেক ফ্লাট আছে যা দেখানো হয়নি। স্ত্রী ও সন্তানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে আর এফডিআরও রয়েছে। আর সেসব ব্যাংক হিসাবের কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। তার এক ছেলে এবং দুই মেয়ে লন্ডনে পড়াশোনা করছে যার সমস্ত খরচ মানি লন্ডারিং করে টাকা পাচার করা হয়েছে।

এছাড়াও জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস এবং শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান, সেলিম আহমেদ, শফিউদ্দিন আহমেদ, মো. শহিদ আলম, মো. আশরাফুল আলম সম্পর্কেও বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শাহআলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নিজে আসলে অভিযোগ সম্পর্কে অবগত না। আমি কোন ধরনের নথিও পাই নাই। আর এ ধরনের অভিযোগও সত্য না। কারণ আমি যথা নিয়মে ট্যাক্স ভ্যাট দিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। হয়তো কেউ হয়রানির জন্য এসব করছে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ