৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ

UMo

দশ কর্মীর হাতে ফতুল্লা থানা বিএনপি!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০০ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮ শনিবার


দশ কর্মীর হাতে ফতুল্লা থানা বিএনপি!

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও আওয়ামীলীগের দালাল হিসেবে ঘোষিত অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। এ থানা এলাকা থেকেই নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে জেলা বিএনপিকে। অনেক আগেই ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতি শিল্পপতি শাহআলমের ফ্যাক্টরীর টেবিলের নিচে চলে গেছে। এখানকার বিএনপির কতটা দৈনদশা তা শুক্রবার ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশেই প্রমান মিললো।

নেতাকর্মীরা বলছেন, কল্যাণপার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করেই বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। নির্বাচনে সারাহ বেগম কবরীর কাছে তিনি পরাজিত হন। তবে তিনি কখনই মাঠের রাজনীতি করেননি। মানববন্ধন কর্মসূচিতেও তিনি থাকেন না। তার বিএনপির রাজনীতির দীর্ঘ এক যুগ পর একটি মামলায় আসামী হন তিনি। তবে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর তার আরেক সহচর আওয়ামীলীগের দালাল হিসেবে ঘোষিত হওয়া অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি জিডিও হয়নি জেলার কোন একটি থানায়। তিনি সারাক্ষন মৌজে আছেন সরকারি দলের প্রসংশায়।

গত বছর ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে সরকারি দলের এমপি মন্ত্রীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আজাদ বিশ্বাসও। সেখানে আজাদ বিশ্বাস বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, আমি বিএনপি নেতা হয়ে শামীম ওসমানকে স্যালুট জানাই। আমার নেতা শামীম ওসমান। এছাড়াও সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বসিয়ে দিয়েছিলেন আজাদ বিশ্বাস। এমন অভিযোগ নিয়ে মাসদাইরে তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আজাদ বিশ্বাসের সামনেই জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রহিমা শরীফ মায়া বলেন, এই আজাদ বিশ্বাস আওয়ামীলীগের দালাল, সে শামীম ওসমানের দালাল। ওই নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা রহস্যজনক কারনে সরে দাড়ান। যে কারনে মুহাম্মদ শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাসকে শোকজ করেছিলেন তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু কোন জবাব দেননি।

এ জেলায় শাহআলম নিজেকে দাবি করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন ডোনার হিসেবে। তিনি নেতাকর্মীদের সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন কোন আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। সময়মত তিনি মনোনয়ন পাবেন। তখন নির্বাচনের জন্য ভোটের জন্য কাজ করলেই হবে। তার মনোনয়ন নিশ্চিত।

গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কমিটিতে ফতুল্লার কুতুবপুরের একটি ইউনিয়ন থেকেই তিনজনকে রাখা হয় শীর্ষ পর্যায়ে। যাদের ইউনিয়ন পর্যায়েও নেতৃত্বে দিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন। কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান খোকা, এমএ আকবর ও সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লা। প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে সমালোচনায় পড়েছিলেন পান্না মোল্লা। তিনি কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি। এমএ আকবরকে গত নির্বাচনে ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে মনোনয়ন দিলেও তিনি নির্বাচনে মনোনয়ন পত্রই দাখিল করেননি। একই অবস্থা লুৎফর রহমান খোকার। মুলত তারা শাহআলমের চাটুকার হিসেবে জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন তিনটি পদ ভাগিয়ে নেন।

এক সময় থানা বিএনপির সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম মনির ও সেক্রেটারি ছিলেন মনিরুল আলম সেন্টু। সেন্টু এখন আওয়ামীলীগার হয়ে গেছেন। অধ্যাপক মনির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও তাকে পদে রাখা হয়নি। ফতুল্লা বিএনপির এতটাই নড়বড়ে অবস্থা যে গত শুক্রবার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় বিএনপির আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে সমাবেশে যোগদান করেনি ফতুল্লা থানা বিএনপির একজন নেতাও। এমনকি জেলা বিএনপিতে থাকা ওই তিন নেতাও যোগদান করেননি। ফতুল্লা থানা বিএনপির ব্যানার হাতে দেখা গেল অপরিচিত দশজন কর্মীর হাতে। যেখানে পরিচিত একজন কর্মীও ছিল না। সুতরাং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যায়নি ফতুল্লা থানা বিএনপির কেউ। দশজন কর্মীর হাতে থানা বিএনপির ব্যানার ধরিয়ে দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ