৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

UMo

লাঙলে ভোট দেয়া নেতারা সামনে কিসে ভোট দিবেন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১১ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার


লাঙলে ভোট দেয়া নেতারা সামনে কিসে ভোট দিবেন

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের মত নেতারা লাঙল ও নৌকার প্রার্থীদের ভোট দেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলেও বিএনপির এসব নেতাদের ভোট হয়তো ধানের শীষের বাক্সে পড়বে না। শুধু মুকুল নয় রয়েছে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু সহ আর বেশকজন যারা মূলত সরকারি দলের দালালি করেই নারায়ণগঞ্জে টিকে রয়েছেন। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির দালাল শ্রেণির নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিবে কিনা তা নিয়ে বেশ সন্দেহ রয়েছে।

গত বছর ফতুল্লা দেলপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে গিয়েছিলেন আজাদ বিশ্বাস ও সেন্টু। ওইদিন দুজনই সরকারি দলের এমপি ও সরকারি দলের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজাদ বিশ্বাস বলেছিলেন, আমি বিএনপি নেতা হয়ে শামীম ওসমানকে স্যালুট জানাই। আমার নেতা শামীম ওসমান। একই মঞ্চে সেন্টুও প্রশংসা করেন।

এর আগে এক অনুষ্ঠানে সেন্টু বলেছিলেন, শামীম ওসমান উন্নয়ন করে জনগণের পীর হয়ে গেছেন। শামীম ওসমানকে জনগণ আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এছাড়াও গত বছর বন্দরে জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমাবেশে আতাউর রহমান মুকুল উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমি সব সময় এমপি সেলিম ওসমানের পাশে থাকবো। গত ২৬ জুন খানপুরে সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাদের দেখা যায়। যে সব নেতারা বিএনপির পদ বহন করছেন এবং কাউন্সিলর পদে বিএনপির ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সমর্থন নিয়ে তারাও অন্য দলের নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করে সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা দিতে যান।

এদিকে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, গত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তবে বিএনপি জামাতের নেতারা ভোট দিতে বিলম্ব করেনি। আর বিএনপি জামাতের ভোটেই নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের।

ওই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের। আবুল জাহেরকে ভোট দিয়েছেন বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহামুদা আক্তার। তারা তিনজনই জাতীয় পার্টির নেতাকে ভোট দিয়েছেন। বন্দর উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন আতাউর রহমান মুকুল, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন জামায়েত ইসলামীর নেতা সাইফুল ইসলাম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহামুদা আক্তার।

জানাগেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার ২০ দলীয় জোট বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি নূরউদ্দীন আহমেদকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেয়। বন্দরে নূরউদ্দীনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ঘোষণা করেন বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আতাউর রহমান মুকুল বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী। এমনকি ওই ঘোষণা পত্রে আতাউর রহমান মুকুলকে বন্দর থানা বিএনপির সভাপতিও উল্লেখ করা হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করায় নুরউদ্দীন আহম্মেদকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি ঘোষণা করেন। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম সরাসরি জামাতের রাজনীতিতে জরিত। অ্যাডভোকেট মাহামুদা আক্তারও বিএনপির রাজনীতিতে জরিত। বিএনপির সমর্থন নিয়েই গত নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে নির্বাচিত হন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জায়ের। বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন, মুছাপুর ইউনিয়ন, ধামগড় ইউনিয়ন, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ও বন্দর ইউনিয়ন নিয়ে জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় হাজী ইবরাহীম আলম চান স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। মোট ভোটার ছিলেন ৫২জন পুরুষ ও ১৬ জন মহিলা সহ সর্বমোট ৬৮ জন। বন্দরে ৬নং ওয়ার্ডে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের তালা প্রতীকে ৬৮টি ভোট এবং আওয়ামীলীগ নেতা আরজু ভূইয়ার ভাই আলী আজগর ঘুড়ি প্রতীকে কোন ভোট পায়নি। ফলে এখানে বিএনপির নেতারাও জাতীয়পার্টিকে ভোট দিয়েছেন।

এখানে উল্লেখ্য ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রয়েছেন ৪৫ জন ও সংরক্ষিত নারী মেম্বার পদে ১৫ জন। রয়েছেন ৫ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিয়ে মোট ভোটার ৬৮ জন। আর এ ৬৮টি ভোটই পেয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জায়ের। সুতরাং বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল, জামাত নেতা সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মাহামুদা আক্তারও ভোট দিয়েছেন। আর এ তিনটি ভোটও আবুল জাহেরের বাক্সে পড়েছে তা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বিএনপি জামাতের ভোটে নির্বাচিত হলেন জাতীয় পার্টির নেতা আবুল জাহের।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ