৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

UMo

স্বপন হত্যায় ৪ ঘণ্টায় ৮ পাতার জবানবন্দী ঘাতক পিন্টুর


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২০ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার


স্বপন হত্যায় ৪ ঘণ্টায় ৮ পাতার জবানবন্দী ঘাতক পিন্টুর

কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহাকে ৭ টুকরো করে হত্যার পরে শীতলক্ষ্যা লাশ ফেলে দেয়ার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বন্ধুরূপী ঘাতক পিন্টু।

রোববার ২২ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীনের আদালতে পিন্টুর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। প্রায় ৪ঘণ্টায় ৮ পাতার জবানবন্দীতে স্বপন হত্যার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন পিন্টু।

এর আগে গত ১৯ জুলাই স্বপন হত্যা মামলার আসামী পিন্টুর বান্ধবী রত্না রাণী কর্মকার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে স্বপন হত্যার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। একইদিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনও।

প্রবীর ও স্বপন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এস আই মফিজুল ইসলাম জানান, গত ১৪ জুলাই স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ৭ টুকরো করে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিল গ্রেফতারকৃত ঘাতক বন্ধু পিন্টু দেবনাথ। রোববার অপর বন্ধু কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহাকে ৭ টুকরো করে হত্যার পরে শীতলক্ষ্যা লাশ ফেলে দেয়ার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে পিন্টু। গত ২০ জুলাই শীতলক্ষ্যায় যে স্থানে ৩টি বস্তায় থাকা স্বপনের ৭ টুকরো লাশ ফেলা হয়েছিল সেখানে তল্লাশী চালানো হয়েছিল। তবে স্বপনের লাশ পাওয়া যায়নি। নিহত কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে।

আদালতে পিন্টু জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাজার কাজী বাড়ির প্রবাসী আজহারুল ইসলামের ৪ তলা ভবনের ২য় তলায় হত্যার পূর্বে যৌন মিলনের প্রলোভন দেখিয়ে পিন্টু তার প্রেমিকা রত্মা রানীকে দিয়ে স্বপনকে ডেকে নেয় মাসদাইরের ওই ফ্ল্যাটে। এরপর বিছানায় বসিয়ে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে পূর্বে থেকে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাখা ফ্রুটিকা জুস স্বপনকে পান করায় রত্মা রানী। এতে ঘুমিয়ে পড়ে স্বপন। এরপর শীল পাটা দিয়ে স্বপনের মাথায় আঘাত করে পিন্টু। পরে বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে লাশ গুমের জন্য ৭ টুকরো করে বাজারের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ফেলে দেয় পিন্টু দেবনাথ। ওই খন্ডিত লাশের ব্যাগের উপরের দিকে সবজি বোঝাই করে নিয়েছিল পিন্টু দেবনাথ যাতে কেউ বুঝতে না পারে ভেতরে লাশের টুকরো রয়েছে।

এর আগে রত্না আদালতকে জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী ও পাসপোর্ট অফিসের দালাল স্বপন কুমার সাহা, আমলাপাড়া এলাকার স্বর্ণব্যাবসী পিন্টু ও স্বর্ণব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ ছিলেন একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর রত্মা রানী ছিলেন পিন্টুর ঘনিষ্ঠ বান্ধুবী। বিয়ে আশ্বাস দিয়ে রত্মা রানীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার নেয় পিন্টু। এরপর থেকে রত্মা রানী প্রায় সময় পিন্টুর ফ্ল্যাটে যাতায়াত করত এবং তাদের মধ্যে অবৈধ যৌন মেলা মেশা চলত। পিন্টুকে ভারতে বাড়ি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখায় স্বপন। এরপর ভারতে নিয়ে একটি ফ্ল্যাটও পিন্টুর টাকায় স্বপন তার ভাগ্নির নামে কিনে দেয়। তখন পিন্টুকে স্বপন বলে ছিল ভারতে নাগরিত্ব করিয়ে তার ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু তা না করে পিন্টুকে ঘুরাতে থাকে স্বপন। একই সঙ্গে প্রবীর ঘোষের সাথে মিলে পিন্টুকে নানা ভাবে হয়রানী করতে পরামর্শ করে স্বপন। এদিকে ভারতের ওই ফ্লাট পিন্টুকে বুঝিয়ে না দেয়ায় আমলাপাড়া এলাকার বড় ভাই হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মোল্লা মামুনকে টাকা তুলে দেয়ার কন্ট্রাক্ট দেয় পিন্টু। তখন পিন্টুর পক্ষ নিয়ে স্বপনকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ নানা ধরনের হুমকীও দিত মোল্লা মামুন। কিন্তু তাতেও কোন ধরনের কাজ না হওয়ায় স্বপনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। পরে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে রত্নার ফ্ল্যাটে স্বপনকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ওই কিলিং মিশনে ছিল রত্না ও তার প্রেমিক পিন্টু দেবনাথ।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ