৮ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ২৪ অক্টোবর ২০১৮ , ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

UMo

৩০ সেপ্টেম্বরের পর খেলা হবে, আমরা জিততে চাই : শামীম ওসমান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৫ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার


৩০ সেপ্টেম্বরের পর খেলা হবে, আমরা জিততে চাই : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, সামনে কঠিন খেলা হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর খেলা শুরু হবে। অক্টোবর মাস হতে খেলা হবে। অক্টোবরে যেদিন ক্ষমতা ছেড়ে দিবো তখন হয়ে যাবো বিরোধী দল। তখন অন্য দলও বিরোধী দল হওয়ার পর আমরা হয়ে যাবো সমান সমান। তখন কেউ বলতে পারবে না। আতেল সুশিল, ডেইলী ও প্রথম আলো খেলবে একটি পক্ষের খেলা। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ে খেলবো একটি খেলা। ইনশাআল্লাহ আমরা জয়ী হবো। আমরা এই খেলায় জিততে চাই।

রোববার (২২জুলাই) বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর উত্তর নরসিংপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কাশিপুর ইউনিয়ন ১,২, ৩ ওয়ার্ড নির্বাচনী পরিচালনা কেন্দ্র কমিটির উদ্দেগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমি তৃণমূলের উপর আস্থা রেখে রাজনীতি করতে চাই কোন নেতাদের উপর নয়। তৃণমূল হচ্ছে দলের চালিকা শক্তি। বড় বড় নেতারা সুবিধা পেয়ে অন্য দিকে চলে যাবে। কিন্তু তৃনমূলের নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে কখনো অন্য জায়গায় যাবে না। তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ ভাল বাসে। তারা কখনো সুবিধার দিকে তাকিয়ে থাকে না। আর ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর পর অনেক আওয়ামীলীগের নেতারাই বঙ্গবন্ধুর লাশের উপর পারা দিয়ে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হয়েছে। কিন্তু তৃনমূলের নেতাকর্মীরা কখনো বঙ্গবন্ধুর সাথে বেঈমানী করেনি এবং কখনো করবে না। আর যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবসে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে তাদের প্রতি সুদৃষ্টি রয়েছে শেখ হাসিনার।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির অনেক ভোট আছে আমি অস্বীকার করবো না। বিএনপিকে নিয়ে অনেকে খেলা খেলতে চাইছে। সেই খেলায় খালেদা জিয়া নায়িকা হবে না। খেলার নায়ক হবে অন্য লোক। বিএনপির উপর ভর করে শেখ হাসিনা হটাও রাজনীতি করতে চাইছে। তারা খালেদার কাধে বন্ধুক রেখে খেলা খেলবে। অনেক ডক্টর ফক্টররা খালেদার কাধে বন্ধুক রেখে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবে।  ড. ইউনুছ সহ দেশ বিদেশের অনেকে এদেশকে অনেকেই গিলে খেতে চায়, কেউ সমুদ্র, কেউ ব্যবসা, কেউ সুন্দরবন নিতে চায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার জন্য পারে না। সামনে একটি নির্বাচন হবে, নির্বাচনে খেলা হবে স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষের। নারায়ণগঞ্জের অবস্থা তো আরো করুন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মনোনয়ন দিয়ে দিচ্ছে। যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যেতে পারে না তারাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে মনোনয়ন দেয়। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মনোনয়ন দেয়ার মালিক শেখ হাসিনা। তিনিই ভাল জানেন কাকে কোথায় মনোনয়ন দিবেন।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমি ফতুল্লাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে বাদল ভাই, শওকত ভাই ও আমার দলীয় নেতাকর্মীর কাছে। আমি যখন বিদেশ ছিল তখণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি ভাল লোক চাই। দুনিয়াতে ৪ শ্রেনীর লোক আছে। খারাপ, খুব খারাপ, ভাল ও খুব ভাল। আমি ভাল ও খুব ভাল লোকদেরকে খুব সম্মান করি। এবার আমার নির্বাচনী এলাকায় ৭ হাজার ১’শ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। যা কিনা অতীতে আমার উন্নয়নের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। তাই সবাইকে বলতে চাই উন্নয়নের জন্য চিন্তা করবেন না। কাজের দায়িত্ব আমার।

তিনি আরও বলেন, অনেকে ওসমান পরিবার নিয়ে অনেক কিছু বলছে। যারা বলছে তারা ওসমান পরিবার সম্পর্ক কতটকু জানেন। আমার দাদা বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছে এবং আমার বাবা ঐ আমলে এমপি ছিলেন। আর আমার একটাই মা। যে মায়ের আদর্শে আমরা বড় হয়েছি। তার তিনটি সন্তান এমপি হয়েছে। যেমন আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান ৪ বার এমপি হয়েছে, আর সেই আসনে আমার আরেক বড় ভাই সেলিম ওসমানও এমপি হয়েছে। আর আমি শামীম ওসমান দুইবার এমপি হয়েছি। আমরা কোন পরিবারের সন্তান তা কারো বুঝার বাকী আছে বলে আমার জানা নাই। তাই আমাদের পরিবার নিয়ে কেউ যেন রাজনীতি না করে।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমি আগে নিজের জন্য রাজনীতি করতাম। এখন আর নিজের জন্য রাজনীতি করছি না। রাজনীতিতে ব্যবসা হিসাবে ও রাজনীতি ধান্ধা হিসাবে নিতে পারবো না। বিগত সময়ে অনেকে আমাকে ব্যবহার করে অনেক সুবিধা নিয়েছে। আমার যখন বিপদ ছিলাম তখন যারা আমাকে ব্যবহার করে সুবিধা নিয়েছে তারা আমার কোন খোজ খবর নেয় নাই। বরং তাদেরকে ফোন করার পর তারা আমার ফোনটা রিসিভ করেনি। অথচ তৃনমূলের নেতাকর্মীরা আমার বিপদে সব সময় খোজখবর নিয়েছে। আমি সামনে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজনীতি করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমি মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই। আমার দলে কোন সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের কিছুতেই ছাড় দেয়া হবে না। আমার দলে কোন সন্ত্রাস চাই না। ভাল লোক নিয়ে রাজনীতি করতে চাই। আর মাদক ব্যবসায়ী যদি আমার নিজের সন্তানও হয়ে থাকে তার পরও কোন ছাড় দেয়া হবে না। 

মতবিনিময় সভায় কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন শীল, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারন সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো: জুয়েল হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন মানু, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এমএ সাত্তার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নান, কাশিপর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক শামীম আহম্মেদ, কাশিপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আবুল কালাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ