৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

UMo

শামীম ওসমানের এলাকাতে ‘হরিলুট’


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১২ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৮ সোমবার


শামীম ওসমানের এলাকাতে ‘হরিলুট’

বাংলাদেশের প্রভাবশালী এমপিদের একজন শামীম ওসমান। কিন্তু তার এলাকাতেই চলছে হরিলুট। সরকারকে একের পর এক রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। লুটপাট করে খাওয়া হচ্ছে পরিবহন সেক্টর, লোড আনলোড সেক্টর। সরকারের রাজস্ব ফাঁকিতে লুটে নেওয়া হচ্ছে মাসে লাখ লাখ টাকা। আর এ চক্রের কাছে রীতিমত অসহায়ত্ব দেখা যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানদের যাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। আবার কেউ সরাসরি এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী সমর্থক।

কিন্তু এসব আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ক্রমশ কোনটাসা। তাদের কথায় কোন কাজ হচ্ছে না। এখানে মূলত চলছে ‘উলট পালট করে দে মা লুটেপুটে খাই’ বচনের মতই লুটপাট।

জানা গেছে, ফতুল্লায় এখন ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয় শ্রমিক সংগঠনের কাছ থেকে। বিনিময়ে নেওয়া হয় ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আবার প্রতিদিন দিতে হয় এক শ টাকা করে চাঁদা। কখনো কখনো এ চাঁদার হার বেড়ে যায়। ওই চক্রকে টাকা নিয়ে রিকশা চলাচল করা যায় না। এখানে প্রশাসনও কার্যত ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকাতে।

রিকশা, ভ্যান ও এ জাতীয় পরিবহনের লাইসেন্স সাধারণত দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। আর এগুলো বিক্রি ও নবায়ন বাবদ সরকারের আসে মোটা অংকের একটি রাজস্ব। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ এ কাজটি করতে পারছে না। এখানে এসব রিকশার লাইসেন্স দিয়ে থাকে শ্রমিক সংঠনগুলো।

ইতোমধ্যে ফতুল্লায় ইজিবাইকে চাঁদাবাজীর সময়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলা হয়েছে পলাশের সেকেন্ড ইন কমান্ড খ্যাত আজিজুলের বিরুদ্ধেও।

ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন বলেছেন, ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিকশা থেকে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ বছরে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই ট্যাক্স আদায়ে ইতোমধ্যে এ নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু জানান, যেহেতু ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশায় হাজার হাজার লোক জীবীকা নির্বাহ করছে সেহেতু এটি এখন বন্ধ করা মানে বড় ধরনের বেকারত্ব সৃষ্টি হওয়া। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই এ বাহনকে নিয়ম শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা জরুরী। এতে এ বাহনের মালিক ও চালকরা চাঁদাবাজদের কাছ থেকে স্বস্তি পাবে এবং সরকার পাবে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান জানান, সরকারের রাজস্ব বাড়াতে এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে ইজিবাইক ও রিকশাগুলোর আপাতত বৈধতা দিতে ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব দিতে হবে। এতে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজী বন্ধ হবে শতভাগ। সন্ত্রাসীদের কারণে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে কেউ রিকশার লাইসেন্স নবায়ন ও গ্রহন করেনা। এনিয়ে আমরা জনপ্রতিনিধিরা চিন্তিত আছি।

ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও প্যাডেল চালিত রিকসার মালিক ও চালকেরা জানান, কাউছার আহমেদ পলাশ প্রভাব খাটিয়ে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও প্যাডেল চালিত রিকসার মালিক এবং চালকদের জিম্মি করে প্রকাশ্যে শ্রমিক উন্নয়নের নামে চাঁদাবাজী করেন। রিকশার লাইসেন্স দেন ইউনিয়ন পরিষদ। সেই লাইসেন্স টেনে ফেলে দিয়ে পলাশের সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের নিজস্ব টিন দিয়ে তৈরী করা প্লেট লাগাতে বাধ্য করে। তাদের প্লেট কিনতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। একই সঙ্গে ইজিবাইক ও রিকশা প্রতি দৈনিক ৩০ টাকা প্রশাসন ও যানজট নিরসনের নামে এবং মাসে দিতে হয় ৩০০ টাকা। আর নয়তো সড়কে রিকশা চলতে দেয়না। যারা তাদের প্লেট ছাড়া রিকশা চালাবে তাদের ধরে নিয়ে আলীগঞ্জ খেলার মাঠ সংলগ্ন ক্লাবসহ কয়েকটি স্থানে নিয়ে বেধরক মারধর করা হয় এবং রিকশা আটকিয়ে রাখেন। পরে তাদের ধার্য্য করা জরিমানা দিয়ে ইজিবাইক ও রিকশা ছাড়িয়ে আনতে হয়। এভাবেই প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর ধরে চলছে দরিদ্র মানুষের উপর নির্যাতন।

মালিক ও চালকরা আরো জানান, ইজিবাইক ও রিকশায় চাঁদাবাজী করেন পলাশের ছাত্রছায়ায় থাকা আজিজুল হক। সে কথায় কথায় বলেন, পলাশ নেতাকে দেশের সব মন্ত্রীরাই ভালোবাসেন। যখন তখন তার বাসায় চলে আসেন এমপি মন্ত্রীরা। আর প্রশাসনের অনেক অফিসারই নেতার সাথে মাস শেষে সাক্ষাত করেন। আগামীতে ইজিবাইক ও রিকশার প্লেটের ভাড়া বাড়ানো হবে। এনিয়ে চিন্তিত অনেক ইজিবাইক ও রিকশার মালিকরা।

প্যাডেল চালিত রিক্সা (ব্যাটারী চালিত) মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আজিজুল হক জানান, ফতুল্লায় প্যাডেল চালিত রিক্সা (ব্যাটারী চালিত) মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নামে ১৯টি কমিটি রয়েছে। এ কমিটির অধিনে রয়েছে ৪ হাজার রিক্সা। আর ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের মালিক শ্রমিক ঐক্য জোট নামে ৪টি কমিটি রয়েছে। এ কমিটির অধিনে ইজিবাইক রয়েছে ৮০০। এদুটি কমিটির আহবায়ক শ্রমিক লীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশ। প্রতিটি রিক্সা থেকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা ও ইজিবাইক থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। আজিজুল হকের দাবী তাদের সংগঠন দুটির সরকারী কোন অনুমোদন নেই। ফলে সরকার কোন টাকা বা রাজস্ব পায়না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে আছে প্রচুর অবৈধ স্থাপনা। কয়েকদিন আগে এগুলো উচ্ছেদ করা হলেও ফের দখল করা হচ্ছে।

জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে কয়েক বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লার পোস্ট অফিস থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার এলাকায় কোটি টাকা ব্যায়ে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সীমানা পিলার স্থাপন করা হলেও হাইকোর্টের নির্দেশের কোন তোয়াক্কাই করেনি প্রভাবশালী মহল। বরং প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওয়াকওয়েই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আলীগঞ্জে টিসিবির ভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে পিডব্লিউডি খেলার মাঠ পর্যন্ত এলাকাটি নিয়ন্ত্রন করে থাকেন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশ। এই এলাকাতেই মূলত ওয়াকওয়ের ত্রাহিদশা। আলীগঞ্জ মাদরাসা সংলগ্ন ঘাট থেকে কয়েক শ’ ফুট ওয়াকওয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেখানে এখন ওয়াকওয়ের চিহ্ন বলতেই নেই। অনেক স্থানেই ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ