সরকারী আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিল পলাশের ক্যাডার বাহিনী

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৮ বুধবার

সরকারী আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিল পলাশের ক্যাডার বাহিনী

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীগঞ্জে নির্মাণ সামগ্রী দিতে না পেরে সরকারী আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশের অনুসারীরা। একই সঙ্গে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের হত্যার হুমকিও দিয়েছে ওই নেতার অনুসারীরা। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর মঙ্গলবার ৮ আগস্ট বিকেলে পুলিশ গিয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে নির্মাণ কাজ চালু করেছে। এনিয়ে পলাশের লোকজন তিন বার নির্মাণ কাজ বন্ধ করেছে বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন অভিযোগ করেছে।

নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢালী কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই আলীগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশের অনুসারী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর মেম্বার, হান্নান, টেরা রমজান, আরিফ হোসেন দলবল নিয়ে কাজের সাইডে এসে প্রথমে নির্মাণ সামগ্রী তাদের কাছ থেকে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়। যদি তাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী না নেই তাহলে কাজ বন্ধ করে দিবে এবং আমার হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়। দ্বিতীয়বার নদীতে নোঙ্গর করা জাহাজে নিয়ে আসা নির্মাণ সামগ্রী নামাতে বাধা দেয় তারা। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী তাদের কাছ থেকে নিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে কাজ করতে দিবেনা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করানো হলে নানা ধরনের সমস্যা বাড়তে পারে। এজন্য তাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী নেয়া হয়নি। বিষয়টি তাদের বুঝিয়ে বলার পরও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বার বার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। দুইবারই পুলিশ দিয়ে তাদের ধাওয়া করা হয়েছে। এরপর ফের তৃতীয়বার সোমবার থেকে আবারো একই দাবীতে নির্মাণ কাজ তারা বন্ধ করে দেয়। অনেকবার তাদের বুজানো হলেও পলাশের লোকজন কিছুতেই আমাদের কথা মানছেনা। উল্টো আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
 
পলাশ অনুসারী জাহাঙ্গীর মেম্বার পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বলেন, কাউছার আহমেদ পলাশ হজে গিয়েছে। আমরা এলাকার ছেলে। আমাদের এখানে ভবন নির্মাণ হলে আমরা নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে থাকি। অন্যদের চেয়ে কম দামেই দেই। কিন্তু ঢালী কনস্ট্রাকশন আমাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী না নিয়ে নিজেরাই আমদানী করেন। এজন্য তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
 
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ আগে পাইনি। যখন অভিযোগ পেয়েছি তখনই ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করেছি। কাউকে আটক করা হয়নি। তবে শেষ বারের মত সন্ত্রাসীদের শতর্ক করেছি।
 
তিনি আরো জানান, হুমকি দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি করা মানে এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এবিষয়ে পরবর্তীতে অভিযোগ পেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে আলীগঞ্জে ১১ দশমিক ৬৫ একর জমিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ৮টি ১৫ তলা ভবনে মোট ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে সেই নির্মান কাজ চলছে। তবে ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মধ্যে ৫ একর ৭০ শতাংশ জমিতে আলীগঞ্জ খেলার মাঠ অবস্থিত।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও