৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

UMo

বিএনপির নাকে কাটা লাগাম, পুলিশের হাতে চাবুক শেল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫০ পিএম, ৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার


বিএনপির নাকে কাটা লাগাম, পুলিশের হাতে চাবুক শেল

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলছে। বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা আওয়ামীলীগের এক দালাল খ্যাত বিএনপির নেতার মাধ্যমে চাষাঢা বালুর মাঠের গলিটি বরাদ্দ পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। ঠিক যেমন ঘোড়ার নাকে কাটা লাগাম লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ। যার চাবুক ও জুতোর শেল এখন পুলিশের হাতে। পুলিশের লাগাম ছেড়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির। লাগামের বাইরে গেলেই চাবুকের মার ও জুতোর শেলে টান খাবে বিএনপি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি বানিজ্যিক এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের একটি ভবনে দ্বিতীয় তলায় ভাড়ায় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল বিএনপি। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নিজস্ব মালিকানাধীন কোন ভবন নেই। ওই ভবনটি ভেঙ্গে সিটি কর্পোরেশন বহুতল ভবনের কাজ করছে। এ ভবনটি ভাঙ্গতে আপত্তি জানিয়ে বিএনপি আদালতে মামলাও করেছিল। সেই মামলায় বিএনপির পরাজয় হলে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে সিটি কর্পোরেশন। তারপর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ভাসমান অবস্থায় পতিত হয়।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা পরে যান ডজন ডজন মামলায়। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি। কমিটি গঠনের পর জেলা বিএনপি প্রতিনিধি সভা করেছিল ফতুল্লার হিমালয় চাইনিজ রেস্তোরায় যা নতুন কোর্ট এলাকার উল্টো দিকে। জেলা বিএনপির বর্ধিত সভাটিও করা হয় রূপগঞ্জে জেলা বিএনপির সভাপতি  কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের বাড়িতে। একই পরিস্থিতিতে পড়ে যায় মহানগর বিএনপি। দলীয় কর্মসূচি ও দলীয় সাংগঠনিক মিটিং হয় কালিরবাজার এলাকায় মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের চেম্বারে। ওইদিকে জেলা বিএনপির কিছু কর্মসূচি পালিত হয় সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে। এমনকি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশও পালন করা হতো এসব কার্যালয়ের ভিতরে নামেমাত্র। এসব নিয়ে মিডিয়াতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। কিন্তু পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রেস ক্লাবের সামনে কোন রকমে দুএকটি কর্মসূচিতে ফটোসেশন করেই পালিয়ে যেতে হয় জেলা ও মহানগর বিএনপিকে। এমন পরিস্থিতিতে কৌশুলি ভুমিকা নেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। জেলা বিএনপির একটি কর্মসূচি তিনি প্রেস ক্লাবের পিছনে চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে যান পালনের জন্য। ওই কর্মসূচিতে তিনিই সভাপতিত্ব করেন। তারপর থেকে চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকার বাহিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি সহ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো পালন করেনি। সকল সংগঠনগুলো এই চাষাঢা বালুর মাঠ এলাকায় পালন করে আসছে। বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন সভা সমাবেশ যা হওয়ার তাই হচ্ছে। বিএনপির এমন পরিস্থিতিতে ওই বালুর মাঠ এলাকাটি বিএনপিকে দিয়ে দেয়া হয়েছে বরাদ্ধ। যে কারণে বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির কর্মসূচি পালনের সময় একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন না।

একাধিক নেতাকর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ঠজন আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের মাধ্যমে চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় বিএনপি কর্মসূচি পালনের জন্য বরাদ্দ নিয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি পালনের জন্য সদর থানা পুলিশকে নির্দিষ্ট পরিমাণ হাত মেলাতে হয়। পুলিশের নির্দেশনা ওই চাষাড়া বালুর মাঠের গলিতে বিএনপি নাচানাচি গানবাজনা হৈচৈ করলেও সমস্যা নেই। কিন্তু শর্ত হলো ওই গলি থেকে বাহিরে বের হওয়া যাবে না। তাহলেই পুলিশ এ্যাকশনে যাবে। বিএনপিরও দাবি গলিতেই তারা সীমাবদ্ধ। নামে মাত্র ফটোসেশন ও জোরালো বক্তব্য দিয়েই তারা তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন শেষ করতে চান। যে কারণে বৃহস্পতিবার সকালে যখন জেলা বিএনপির উদ্যোগে চাষাড়া বালুর মাঠের ওই গলিতে বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছিল তখন একজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়নি। অথচ আগে বিএনপির সমাবেশের চারপাশে পুলিশ দেখা যেতো। সুতরাং চাষাঢ়া বালুর মাঠের গলিটিই এখন পুলিশের নির্দিষ্ট করে দেয়া সীমানা। যার বাহিরে এখন বিএনপি বের হতে পারছেনা।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ