৭ আশ্বিন ১৪২৫, রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

এবার গিয়াস ও জাফরকে ধাক্কার চেষ্টায় মান্নান


সোনারগাঁ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৮ শনিবার


এবার গিয়াস ও জাফরকে ধাক্কার চেষ্টায় মান্নান

সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে রাজনীতি করার অপরাধে সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আমির হোসেন।

১১ আগস্ট শনিবার বিকেলে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। তিনি জানান, তাকে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির পদ থেকে গঠনতন্ত্র বিরোধীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমার বিরোদ্ধে একটি অপপ্রচার করা হয়। আমি বর্তমান সরকারের প্রতিহিংসার মামলা থেকে বাঁচার জন্য সাদিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সাদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রশিদ মোল্লার কাছ থেকে একটি প্রত্যায়ন পত্র নিয়েছি। ওই প্রত্যয়নে আমাকে বিএনপির কেউ না বলে উল্লেখ করা হয়। আমার বিএনপির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। ওই প্রত্যায়নে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দাবি করা হয়। প্রকৃত পক্ষে আমি বিএনপির রাজনীতিতে একজন সৈনিক। আমি ও আমার ছেলে মামলার শিকার হয়ে জেলহাজতে দীর্ঘদিন কারাবাস করেছি। বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে ৫-৭টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও আমি সোনারগাঁও থানা তাঁতী দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ওই প্রত্যয়নটি ভুয়া ছিল। কোন কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সীল জালিয়াতি করে আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার করেছে। আমি ওই প্রত্যয়নের বিরুদ্ধে নতুন আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করবো।

তিনি আরো জানান, ওই প্রত্যায়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান ও রিয়াজউদ্দিন কোন যাচাই না করেই আমাকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দিয়ে হাজী সেলিম সরকারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করে। তবে রিয়াজউদ্দিনের দেওয়া অব্যাহতি কোন মূল্য নেই।

আমির হোসেন আরো জানান, আমাকে রিয়াজউদ্দিন জ্যনক এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে শুক্রবার রাতে ফোন করে বলে আমি যাতে এ বিষয়ে চুপ হয়ে যাই। আমাকে আগামীতে তিনি থানা বিএনপির বড় পদ পাইয়ে দিবেন।

সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর জানান, রিয়াজউদ্দিনকে লিখিতভাবে বা কোন সভা করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। রিয়াজ উদ্দিন ৫নং সহ-সভাপতি, তার আগে আরো ৪জন সহ-সভাপতি রয়েছেন। কমিটিতে মোস্তাফিজুর রহমান মামুন সিনিয়ন সহ-সভাপতি রয়েছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মামুন এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন শাহ আলম মুকুল। এ অব্যাহতির বিষয়ে কেউ জানেন না। মান্নান ও রিয়াজউদ্দিন কাউকে না জানিয়ে নিজেদের মন গড়া মতো এ অব্যাহতি দিয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালে সোনারগাঁয়ের ১০ ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল মান্নান এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ৭১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেন। সভায় সাদিপুর ইউনিয়নে কামরুজ্জামান ভূইয়াকে সভাপতি ও আমির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির অনুমোদন দেন।

২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে সোনারগাঁয়ে এনে শোডাউন করেছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন। আজহারুল ইসলাম মান্নানকে ছেড়ে গিয়াসউদ্দিনকে নিয়ে শোডাউন করায় ওইসময় থেকেই মান্নান থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনের উপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। ওই ক্ষুদ্ধ হওয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন আমির হোসেনের উপর।

সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমির হোসেন আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সদস্য এমন কোন প্রত্যায়ন আমি দেইনি। আমির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করেন। সে আওয়ামীলীগের কেউ না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ