২৮ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

UMo

গাজী রফিকের ‘বাড়া ভাতে ছাই’ দিচ্ছে এরশাদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৩ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার


গাজী রফিকের ‘বাড়া ভাতে ছাই’ দিচ্ছে এরশাদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের শরীক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আসন্ন জতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পোস্টারিংয়ে রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি হয়ছে। যদিও এই আসনে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা বেশি কিন্তু একটি দলের চেয়ারম্যান যখন একটি আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তার জয়ের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা।

এতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘এই আসনে আওয়ামীলীগ দলের এমপি নেতাদের ‘বাড়া ভাতে ছাই’ দিতে এসেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।’

জেলার রূপগঞ্জ আসনে বর্তমানে এমপি হিসেবে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী রয়েছেন। সেই আসনে গাজীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামীলীগের রফিকুল ইসলাম রফিক রয়েছেন যিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব কোন্দল সহ প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়ানোর নানা ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে আসনটিতে প্রায় সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। তবে এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির এরশাদের পোস্টারিংয়ে সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের গুঞ্জন চলছে।

স্থানীয়রা জানান, এরশাদ প্রার্থী হবেন কী না সেটা নিশ্চিত না। তবে এরশাদ প্রার্থী হলে কপাল পুড়তে পারে বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর।

জানা গেছে, পূর্ব পুরুষদের স্থানীয় বাসিন্দা না হলেও রূপগঞ্জে বর্তমানে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন শিল্পপতি এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক। ১৯৯৬ সালে সাবেক সেনা প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কেএম সফিউল্ল¬াহ (বীর উত্তম) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীকে পরাজিত করে রূপগঞ্জ আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে নেন। ৯৮ সালের দিকে এক শ্রেণির হাইব্রিড নেতাদের প্ররোচনায় জেনারেল সফিউল্লাহর সাথে শাহজাহান ভূইয়ার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এতে রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগ পুনরায় দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ সুযোগে গাজী গ্রুপের প্রধান গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়ার সাথে আতাঁত করে রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে নজির বিহীন আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপির গদীতে ঝাঁকুনী দিয়ে দেশের একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি পান।

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রত্যেকটি আসনে নৌকার পক্ষে রব তুলেন। নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে জাতীয় পার্টিকে বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তাদেরকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরপর থেকে প্রেক্ষাপট পাল্টে যেতে থাকে।

জানা গেছে, জেলার দুইটি আসনে জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছে। আর বাকি ৩টি আসনে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে এই ঘোষণার পর থেকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একেবারে থমকে যায়। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী  ও নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠে।

রাজনীতির এরুপ সমীকরণের মাঝে রূপগঞ্জে হঠাৎ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পোস্টারিংয়ের ঘটনা বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এতে করে দিন দিন রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটের সমীকরণ পাল্টাচ্ছে।

এর মধ্যে জাতীয় পার্টি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সাথে মহাজোটে থাকবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সম্প্রতি বলছেন ৩শ আসনেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এদিকে এই পোস্টারিংয়ের ঘটনাতে এই আসনে তার নির্বাচন করার বিষয়টা নিয়ে অনেকের মাঝে বেশ রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনায় কেউ কেউ বলছেন, ‘হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে পোস্টারে কিছু বলেননি। তাছাড়া এই পোস্টারিং তিনি করিয়েছেন তার নিশ্চয়তা কতটুকু। তিনি তার নিজ আসন ছেড়ে হঠাৎ এই আসনে কেন নির্বাচন করতে যাবেন। যেখানে তার গ্রামের বাড়ির নিজ আসনে সব সময় নিশ্চিত জয়ী হয়ে আসছেন। সেই আসন ছেড়ে এখানে কেন আসবেন। আর যদি এখানে আসেন তাহলে সেই আসনটির কি হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ‘জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানো হলেও তারা মূলত ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ। তাই ক্ষমতাসীন একটি দলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এরুপ মিথ্যা প্রচারণা নিশ্চই কেউ করবেনা। যেখানে কোন এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে রেহাই পাওয়া যায়না। সেখানে ক্ষমতাসীন একটি দলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কিভাবে মিথ্যাচার করবে। তাছাড়া এরুপ মিথ্যাচার করে কারো কোন লাভ দৃশ্যমান হচ্ছেনা। তাছাড়া এই ঘটনায় ওই নেতার কোনরুপ ক্ষতি হচ্ছেনা। তাহলে কেন তার বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যাচার করতে যাবে।

তবে যদি এই বিষয়টি বাস্তবায়িত হয় তাহলে নির্বাচনী মাঠে অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে। আর এ জেলাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের তুলনায় জাতীয় পার্টির দাপট তখন অনেকটা বেড়ে যাবে। তবে রুপগঞ্জের আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা বলছেন, রূপগঞ্জের এই আসনে এমপি গাজী ও কায়েত পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের মধ্যে বেশ দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা দুজনই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। তাদের ক্ষমতার জানান দিতে প্রায় সময় শো ডাইন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু মধ্যেখানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ যদি এই আসনে নির্বাচন করেন। তাহলে আওয়ামীলীগের এই দুই নেতার ‘বাড়া ভাতে ছাই দেয়ার মত অবস্থা তৈরি হবে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ