২৯ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

UMo

নির্বাচনী এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৬:৫৪ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮ সোমবার


নির্বাচনী এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের

আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উল আযহা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দল থেকেই দলীয় নেতাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদের সময় থেকে জনমত তৈরী করতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে এমনটাই আভাস পাওয়া গেছে।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা তাদেরকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তাদের সাথেই ঈদ উদযাপন ও পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে নিয়ে জনমত গঠনে কাজ করতে বলছেন। নেতারা এতদিন তাদের খোঁজ খবর না রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নিয়েই দলীয় বিভিন্ন কাজ করছেন। নেতাদের এমন সক্রিয়তাকে ভালো দিক হিসেবেই দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, বিগত আন্দোলন সংগ্রামেও দলের অনেক নেতারা ছিলেন চুপ। মাঠে নামা তো দূরের কথা দলের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ পর্যন্তও করেননি তারা। রেখেছেন নিজেদের ফোন বন্ধ। কিন্তু সামনে নির্বাচনের আভাস পেয়ে দলের এসব নেতারাই এখন মাঠে সবচেয়ে বেশী সক্রিয় দলের কাজে। ঈদকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন দলের নেতারা।

এদিকে নির্বাচনে এবার দলের সাবেক সাংসদদের পাশাপাশি রয়েছে কিছু নতুন মুখ। এসব নতুন মুখের নেতারাও মাঠে দলের নেতাকর্মীদের সাথে মিশে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন। অনেকেই মানুষের সাথে মিশে দেশের বর্তমান অবস্থা, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাসহ নানা দিক তুলে ধরে জনমত তৈরিতে কাজ করছেন। তবে সবকিছু মিলিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের আশা এবং নির্বাচনে না গেলেও মাঠে কাজ করার ব্যাপারে এ ধরনের প্রবনতা দেখা যাচ্ছে যা বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে খুবই কম দেখা গেছে।

বিএনপির সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আগামীতে আবুল কালামের মনোনয়ন বেশ কষ্টকর হবে। কারণ দলের অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে। রাজনীতি বিমুখ এ নেতাকে দিয়ে আন্দোলন হবে না সেটাও প্রতীয়মান। তাছাড়া তিনি কোন সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না। পারছেন না মাঠ কাপাতেও। এ আসনে আগামীতে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে বিএনপির জোট হলে আওয়ামী লীগের পদত্যাগী সাবেক এমপি এস এম আকরাম পেতে পারেন মনোনয়ন। তাছাড়া আলোচনায় আছেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান। বিগত ওয়ান এলেভেনের পর আবুল কালামের বিরুদ্ধে সংস্কারবাদীর তকমা লেগেছিল। এ আসনে এমপি নির্বাচন করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও তিনবারের টানা কাউন্সিলর নির্বাচিত মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে যাদের মধ্যে জেলা কমিটির সহ সভাপতি শাহআলম ও গিয়াসউদ্দিন। আলোচনায় আছেন কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুও। তাদের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ গিয়াসউদ্দিন মূলত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদৃষ্টিতে আছেন। আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনে ইতোমধ্যে বাজিমাত দেখিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি তাঁর এলাকাতে গত কয়েক মাসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন। বিগত দিনে আন্দোলনেও ছিলেন তিনি। এ আসনে দ্বিতীয় নাম্বারে রয়েছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অলিউর রহমান আপেল। সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম রাজনীতির মাঠে না থাকায় তিনিও হারাতে বসেছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও আছে সংস্কারবাদীর তিলক। এ আসনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালের নামও আছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ তথা আড়াইহাজার আসনে আলোচনার শীর্ষে আছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপিতেও তিনি প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন। সহযোগি সংগঠনগুলোও নিজের আয়ত্বে নেওয়ার চেষ্টা এ তরুণ নেতার। জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এ নেতার সুযোগ রয়েছে মনোনয়নের। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছেন সংস্কারবাদী নেতা সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর।

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে উপজেলা ও জেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলে সে আশা গুড়েবালি হতে পারে। কারণ ইতোমধ্যে তাকে জেলার সভাপতি পদে পদায়ন করা হয়েছে। সেখানে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনতে প্রয়োজন স্থানীয় জনপ্রিয় ও ভোট টানতে পারে দল ছাড়াও এমন নেতার। সে হিসেবে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। ঐতিহ্যবাহী ভূইয়া পরিবারের উত্তরাধিকারী হওয়ায় এলাকাতে প্রভাবের কারণেও ভোট টানতে পারবেন তিনি। অপরদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি হলেও নেতৃত্ব প্রদানে ইতোমধ্যে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। একজন সহ সাংগঠনিক সম্পাদককে শারীরিক লাঞ্ছনা ছাড়াও তাঁর ডাকে আর সমবেত হয় না ২৬ জনের কমিটির বেশীরভাগই। সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না কাজী মনিরের পাশে। তালিকাতে আছেন তৈমূর আলম খন্দকারও। তবে রূপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনেই জনপ্রিয় তৈমূর।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ