৯ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

মনোনয়ন যুদ্ধে আওয়ামীলীগ, অনিশ্চয়তায় বিএনপি!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৬ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার


ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের শরীক দলের নেতার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। কিন্তু প্রত্যেকটি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের একধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় তাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ সহ দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। আর আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টি জোটবন্ধ হয়ে নাকি এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বেশ ধোঁয়াশায় রয়েছে। কারণ এই শরীক দল যদি মহাজোটে থাকে তাহলে ফের আসন ভাগাভাগির দৃশ্য দেখা যাবে; যেকারণে বিগত দিনের মত অনেক আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীর কপাল পুড়তে পারে। তাই আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী সহ শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথেও দ্বন্দ্ব কোন্দলে লিপ্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে হামলা, মামলা, জেল, জুলুমে কোনঠাসা বিএনপি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে রয়েছে। এই অবস্থায় বিএনপি দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রায় অনিশ্চিত বলা চলে।

এদিকে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর তাই ক্ষমতাসীন সহ শরীক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে রাজনীতিক এরুপ পরিস্থিতিতে বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারছেনা।

নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই একের পর এক বিএনপি নেতাদের উপর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এতে করে হামলা, মামলা, জেল, জুলুমের ভয় দেখিয়ে দলের নেতাকর্মীদের অনেকটা কোনঠাসা করে রাখা হচ্ছে। এমনকি দলীয় কর্মসূচি পালনেও বাধা দিচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে প্রেরণের পর থেকে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জেও মামলার হিড়িক পড়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, বিএনপি নেতাকর্মীদের দমাতে ক্ষমতাসীনরা পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভুতুড়ে মামলা দেয়া হচ্ছে।ৎ

সম্প্রতি রূপগঞ্জ থানায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। নাশকতার অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৪৪ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নাশকতার অভিযোগ এনে বিএনপি ও তার সহযোগি সংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নাশকতার অভিযোগে এরুপ দফায় দফায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। যদিও বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, ভুতুরে মামলা দিয়ে তাদেরকে দমন পীড়নের মিশন শুরু হয়েছে। তাইতো বিদেশে অবস্থানরত ও মৃত ব্যক্তির নামেও নাশকতার মামলা দেয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রমাণও প্রদর্শিত হচ্ছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারী মাসে বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭ টি থানায় মোট ১৩ টি নাশকতার মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে করে দফায় দফায় ধরপাকড়ের দৃশ্য দেখা যায়।

এরুপ পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘নির্বাচনে যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারি তাই এরুপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। আর আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া আমরা নির্বাচনের কথা চিন্তা করতে পারছিনা।’

তাই বিএনপি দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেখানে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়ে প্রশ্নই আসেনা। তবে এরুপ অনিশ্চয়তার বিষয়টিতে নির্বাচন ফের প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী বছরের শুরু থেকে মাঠ গরম করে রেখেছে। তারা মাঠ চড়ে বেড়াচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মী সহ জনগণের কাছে পৌঁছে তাদের অভিযোগ, অনুরোধ ও পরামর্শ শুনছেন। তবে প্রত্যেকটি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। কখনো প্রত্যক্ষ বাকযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন আবার কখনো পরোক্ষভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছেন। এতে করে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দল বাড়ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ টি আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। এমনকি কোন কোন আসনে হালি খানেক নেতা রয়েছে। আর কয়েকটি আসনে আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি সেলিম ওসমান। এছাড়া জাপা নেতা হিসেবে আবির্ভুত আরেক বিতর্কিত নেতা আল জয়নালও এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে এই আসনেটিতে সবচেয়ে বেশি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের নাম রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত এমপি শামীম ওসমান রয়েছেন। তার আসনে শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ বিগত কয়েক নির্বাচন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া হাইব্রিড নেতা  হিসেবে পরিচিত কামাল মৃধার নাম প্রথম দিকে শোনা গেলেও পরবর্তীতে তিনি থমকে যান।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তার আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা হুসাইন মৌসুমি এই আসনে মনোনয়নের প্রত্যাশা করেছেন। আর নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার, আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান কালামও চাচ্ছেন মনোনয়ন।

নারায়ণগঞ্জ-২ তথা আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। আর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন কেন্দ্রীয় জাপা নেতা আলমগীর শিকদার লোটন। তবে এই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা গেছে। তবে অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন জাপা মনোনয়ন প্রত্যাশী।

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।

এই ৫টি আসনের মধ্যে (নারায়ণঞ্জ-৩ ও ৫) এই ২টি আসনের জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পত্যাশী সহ ্আওয়ামীলীগের একধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। এছাড়া বাকি আসনগুলোতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়ন ইস্যুতে বাকযুদ্ধ সহ অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে।

সম্প্রতি আওয়ামীলীগের ৩শ আসনের মধ্যে ১শ আসনের প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে বলে কেন্দ্র তাদেরকে গোপনে সবুজ সিগনাল দিয়েছে। দলের যেসব প্রার্থীরা বিতর্ক এড়িয়ে রয়েছে তাদেরকে দল থেকে সবুজ সিগন্যাল দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকার কারণে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই তথ্য অনেটকা গোপন রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আওয়ামীলীগ দলের প্রত্যেকটি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রার্থী থাকার ফলে তারা রীতিমত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিচ্ছে। যেকারণে ক্ষমতাসীন দলটির সক্ষমতা কমে গিয়ে দুর্বল দিকগুলো ফুটে উঠছে। অন্যদিকে বিএনপি দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা সত্ত্বেও দলের প্রধান জেলে থাকায় তারা বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। তার উপরে পুলিশি হামলা, মামলা, জেল, জুলুমের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ