৮ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ

১৪ মামলাতে সংস্কারপন্থী ও বিতর্কিতরা আসামীর বাইরে


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৫৬ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার


১৪ মামলাতে সংস্কারপন্থী ও বিতর্কিতরা আসামীর বাইরে

নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে আসামী করা হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মী। কিন্তু মামলার তালিকাতে নাই বিগত দিনের ওয়ান এলেভেনর সময়ে সংস্কারাবদী ও বিতর্কিত নেতাদের নাম। আর এ নিয়ে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রায় দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগে ও পরে নারায়ণগঞ্জে ১৩টি মামলায় শত শত নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। অনেকেই তখন আত্মগোপনে থাকেন। কারাভোগ করতে হয় জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ অনেকেই কারাভোগ করেন। কিন্তু এখন আবার নতুন করে ১৪টি মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্রাহি দশা। আগামী নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীর যে সহজেই আবার মাঠে নামতে পারছেন না এটাও নিশ্চিত। তাছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতার বিরুদ্ধেই মামলা করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির যেসব সক্রিয় নেতা তাদেরকেও আসামী করা হয়েছে। এতে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা কার্যত রাজনীতি বিচ্ছিন্ন হতে চলেছেন। সহসাই তাদের ফেরার কোন লক্ষণ নাই। কারণ তাদের একেকজনের বিরুদ্ধে একাধিক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। ফলে কতগুলো মামলাতে তারা জামিন নিবেন সেটা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা হলেও মামলার তালিকাতে নেই ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা কমিটির সহ সভাপতি শাহআলম। মামলাতে আসামী করা হয়নি কুতুবপুরের চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী মনিরুল আলম সেন্টুকে। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মো: শফিউল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম সহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানার এস আই কাজী এনামুল হক বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন যেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম এ আকবর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি সহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর  নরায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ও মহানগর বিএনপির ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন পিএসআই প্রবীর কুমার রায়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাস বিশ্বাস, দুইজন সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল ও মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা সহ ২০ জনের নাম দেওয়া হলেও আসামীর তালিকাতে নেই মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জানা গেছে।

সোনারগাঁয়ে ২টি মামলা হলেও আসামী করা হয়নি সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। অথচ সৌদিতে হজে থাকা অবস্থায় মামলার আসামী হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর। একটি মামলায় মান্নানের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারী খায়রুল ইসলাম সজীবকে আসামী ও তাকেত গ্রেফতার করা হয়।

আড়াইহাজারে ৩ মামলায় কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ সহ অনেককে আসামী করা হলেও সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর রয়েছেন মামলার বাইরে।

১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় বন্দর থানার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কেওঢালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি নেতা মোসলেউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেন। কিন্তু আসামীর তালিকাতে ছিলেন না আবুল কালাম যিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ