৭ আশ্বিন ১৪২৫, রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির বিরুদ্ধে ১৪ মামলায় আসামী ৮৫৮


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৩ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


বিএনপির বিরুদ্ধে ১৪ মামলায় আসামী ৮৫৮

নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে আসামী করা হয়েছে ৮৫৮ জনকে। এর মধ্যে জ্ঞাত আছে ৪৭৬ জনকে। ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ৩২জন। তবে মামলার ভয়ে আত্মগোপনে আছেন শত শত নেতাকর্মী। একের পর এক ধারাবাহিক মামলার কারণে এসব নেতাকর্মীরাও জামিন নিতে আদালতে যাচ্ছেন না। বরং আরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রায় দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগে ও পরে নারায়ণগঞ্জে ১৩টি মামলায় শত শত নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। অনেকেই তখন আত্মগোপনে থাকেন। কারাভোগ করতে হয় জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ অনেকেই কারাভোগ করেন। কিন্তু এখন আবার নতুন করে ১১টি মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্রাহি দশা। আগামী নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীর যে সহজেই আবার মাঠে নামতে পারছেন না এটাও নিশ্চিত। তাছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতার বিরুদ্ধেই মামলা করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির যেসব সক্রিয় নেতা তাদেরকেও আসামী করা হয়েছে। এতে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা কার্যত রাজনীতি বিচ্ছিন্ন হতে চলেছেন। সহসাই তাদের ফেরার কোন লক্ষণ নাই। কারণ তাদের একেকজনের বিরুদ্ধে একাধিক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। ফলে কতগুলো মামলাতে তারা জামিন নিবেন সেটা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন।

ফতুল্লায় ২ মামলা
৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মো: শফিউল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন, হাজী আ: কাদের ও ইসমাইল হোসেন। তাদের কাছ থেকে ৫টি ককটেল, ১৮ পিছ লোহার রড ও ১৯টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলো জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আকরাম প্রধান, যুবদল নেতা সরকার আলম, জাহাঙ্গীর আলম, রানা মজিদ, সরদার আলম, আকরাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, মো: আনোয়ার হোসেন, তারিকুল ইসলাম তারেক, পরান, জীবন, জাকির, শহীদুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, মো: মিরাজুল ইসলাম, মো: আসলাম দেওয়ান, রহিম, মো: আক্কাস মিয়া, মো: কামাল, মো: জয়নাল আবেদীন, স. ম শহীদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান শাহীন, মো: সেলিম মিয়া, জাহাঙ্গীর, সেলিম সর্দার, ছানোয়ার হোসেন, আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, উমর আলী, মাইনুল হোসেন রতন, সফি দেওয়ান, মোহাম্মদ হোসেন, সিরাজ মাদবর, সাইদুল মিয়া, মো: দেলোয়ার হোসেন, সৈকত হোসেন, সোহেল আব্দুল্লাহ, শাহীন মুন্সী, হাফিজুল ইসলাম, মো: জাকির হোসেন ও শফিউল সরদার খোকন। অজ্ঞাত আরো ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

আসামীদের বিরুদ্ধে ৮ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার জামতলা ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে রাস্তার উপর ১০০/১২০জন নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-সস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যে সজ্জিত হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্য সমবেত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, পাওয়া হাউজ, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ২ জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়।

৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানার এস আই কাজী এনামুল হক বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ওই মামলাটি দায়ের করেন। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম এ আকবর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি সহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় ৩জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলো দুলাল ভূইয়া, রাজীব হোসেন ও সোহেল মোল্লা। তাদের কাছ থেকে ৪টি ককটেল উদ্ধার, ২২ পিছ লোহার রড ও ১৭টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়।

আসামীদের বিরুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর ভূইগড় এলাকাতে একত্রিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ৩জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়।

চাষাঢ়ায় সরকার উৎখাতের চেষ্টা মামলায়
জেলা ও মহানগর বিএনপির ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা সরকার উৎখাত ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ৮ সেপ্টেম্বর চাষাঢ়া বালুর মাঠের তিতাস গ্যাসের অফিসের সামনের নাশকতার পরিকল্পনা করে জড়ো হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে ২ টি কচটেপ মোড়ানো ককটেল ও ৬টি ভাঙ্গা ইটের টুকরা উদ্ধার করে।

৯ সেপ্টেম্বর মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন পিএসআই প্রবীর কুমার রায়। মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হাসান (১৮), আফজাল হোসেন (৩০), হাবিবুর রহমান (৩২) ও মফিজুল (৩৫)।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাস বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুম কবির, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাগফুরুল ইসলাম পাপন, সদর থানা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম আপন, জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর বিএনপি নেতা ফারুক চৌধুরী, মনির হোসেন খান, অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, হাজী নুরুদ্দিনসহ অজ্ঞাত ২০ জন।

সিদ্ধিরগঞ্জে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছে পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুজনকে ড়েুফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জিয়াউদ্দিন বিজয় (৩৫) ও রমজান ভূঁইয়া (৩৮)। মামলায় আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, নুর উদ্দিন, আলী আহমেদ লালা ব্যাপারী, আলী আকবর হোসেন, নাসিক কাউন্সিলর জিএম সাদরিল, টি এইচ তোফা, আব্দুল হাই রাজু, ইকবাল হোসেন, তৈয়ব আলী, আখিল উদ্দিন ভূঁইয়া, মাজেদুল ইসলাম,  মমতাজ উদ্দিন মন্তু, জুয়েল রানা, মনিরুজ্জামান রবি, মানিক, মোক্তার হোসেনসহ অজ্ঞাত ২১ জন।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, ৮ সেপ্টেম্বর সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডস্থ গিয়াসউদ্দিনের নির্মানাধীন একতলা ভবনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২৫ থেকে ৪০ জন বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র ও বিস্ফোক দ্রব্য নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার গোপন বৈঠক করছিল। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাবার সময় দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে ৫টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ১০টি বাঁশের লাঠি ও ৮টি কাঠের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপগঞ্জে ৪মামলা
৯ সেপ্টেম্বর রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব উপ-পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন ভূইয়া, সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম সায়েম ও সেক্রেটারী মাহবুবু রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন দেওয়ান সহ ৮৩ জন নামীয়সহ আরো অজ্ঞাত নামা ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানাযায়, ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া মস্তাপুর এলাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরীর বাসভবনের ভিতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্য সমবেত হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫টি ককটেল বিস্ফোরন ঘটনায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কাঞ্চন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও মোজ্জাম্মেল নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেন।

রূপগঞ্জে গত ৩ সেপ্টেম্বর নাশকতার অভিযোগ এনে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু, আনোয়ার সাদাত সায়েম, আমিরুল ইসলাম ইমন সহ নামীয় ৩৫ জন ও অজ্ঞাত ২২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।

৫ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জে বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন, নুরুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান হুমায়ন, বশির উদ্দিন বাচ্চু ও ওমর ফারুক, নাসির উদ্দিন ভূইয়া, শফিকুল ইসলাম চৌধুরীসহ নামীয় ৪৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। এসময় বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন ও নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। রূপগঞ্জ থানার (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ভুলতার গাউছিয়া মার্কেটের সামনে বিএনপির ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে বলে পুলিশের কাছে খবর ছিলো। পরে নাশকতার অভিযোগ এনে ভুলতা ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাদিরুজ্জামান বাদী হয়ে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিএনপি নেতা আব্বাস উদ্দিন ও নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়।

রূপগঞ্জ থানার এস আই আল আমিন সরকার বাদী হয়ে ৩০ আগস্ট রূপগঞ্জে বিএনপির ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সহ নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় কেন্দ্রীয় ওলামাদলের সহ-সভাপতি ও জেলা ওলামাদলের সভাপতি মুন্সি সামসুর রহমান খাঁন বেনু, জেলা ওলামাদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন, উপজেলা ওলামাদলের সহ-সভাপতি নাছির মোল্লা ও ওলামাদল নেতা আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় গ্রেফতারকৃত জেলা ওলামা দলের সভাপতি সামসুজ্জামান খান বেনু সহ ৪জন সহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, সেক্রেটারী মাহাবুবুর রহমান, কাজী আহাদ, নুর মোহাম্মদ, লিপন, মতিন ভূঁয়া, মামুন ভূঁইয়া, হাসান খান, শফিকুল ইসলাম স্বপন, আল-আমীন মিয়া, আলী আকবর, হাবিবুর রহমান, আব্দুল্লাহ, সেলিম, ওয়াসিম ভূঁইয়া, কাইয়ুম খান, নয়ন, হাবিবুর, রুবেল ভূবয়িা, রমজান খান, আজিজুর হক, নজরুল মিয়া, নাসিরউদ্দীন, রিপনের নাম উল্লেখ করা হয়।

সোনারগাঁয়ে ২মামলা
২৯ আগস্ট দুপুরে সোনারগাঁও থানার পিএসআই সেন্টু সিংহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এর আগের দিন সোনারগাঁও উপজেলা কাঁচপুর এলাকা থেকে থানা ছাত্রদলের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো জাকারিয়া সারোয়ার হিমেল, রুহুল আমিন রুবেল, আবদুল হালিম, বিল্লাল হোসেন, ফরহাদ হোসেন, ওমর ফারুক ইকবাল, মোরশেদ আলম, শাহাজউদ্দিন, আবুল বাশার, মোজাম্মেল হক, কাজী হিমেল, ইউনুস, সাইদুর রহমান। তাদের কাছ থেকে ৪টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কাঁচপুর মোড়ে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছিল গ্রেফতারকৃত ১৩ জন সহ ৩৩জন জ্ঞাত ব্যক্তি। এছাড়া তাদের সঙ্গে অজ্ঞাত আরো ৩৩ জন ছিল।

অপর আসামীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, মনির হোসেন, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম টিটু, শামীম, আমানউল্লাহ আমান, হাজী শাহজাহান মেম্বার, নূরে ইয়াসিন নোবেল, সেলিম হক, মোমেন খান, আপেল, মজিবুর রহমান, হানিফ, সালাউদ্দিন সালু, হাবিবুর রহমান হবু, বজলুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ অতু, কাজী নুরুল, বিল্লাল প্রমুখ।

৯ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানার তালতলা বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো: মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় আরো ২০-৩০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম সরকারকে মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গনতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত ও বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের করছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ মামলায় আসামী করা হয় সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম সরকার, নানাখী দক্ষিন পাড়া গ্রামের রুস্তম আলী ডাক্তারের ছেলে মনিরুজ্জামান লিটন, ছাত্রদল নেতা নানাখী মধ্য পাড়া গ্রামের অলিউল্লাহর ছেলে  মো. কাউসার, নয়াপুর কাঠালিয়া পাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে  মো. আল আমিন হোসেন অভি, নানাখি গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে মো. আজিজুল ইসলাম আজিজ, ভারগাঁও গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে সোনারগাঁও তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, খিদিরপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের ছেলে লিটন মিয়া, চৌরাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. শাহিনুল ইসলাম, গঙ্গাপুর কালিবাড়ি গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে  জসিমউদ্দিন, বরাব গ্রামের পরশ আলীর ছেলে সোহেল, একই গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে নাজমুল, বাইশটেকী গ্রামের মৃত মান্নান ভূইয়ার ছেলে সালাম ভূইয়া, ভারগাঁও গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে জামাই সেলিম, চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামের নাসিরউদ্দিন,  কোনাবাড়ি গ্রামের কফিলউদ্দিনের ছেলে  রোকন, সাদিপুর গনকবাড়ি গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম, গজারিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোস্তফা, সাদিপুর শিকদার বাড়ি গ্রামের আব্দুল লতিফ শিকদারের ছেলে রিপন শিকদার, মামুন শিকদার, সাদিপুর গ্রামের কাছিম উদ্দিনের ছেলে  হাফিজুল ইসলাম, সাদিপুর গ্রামের কামরুজ্জামান মোল্লার ছেলে রিয়াজ মোল্লা, নানাখী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে অ্যাডভোকেট  খোরশেদ আলম, নানাখী গ্রামের জসিমউদ্দিন,  বেলপাড়া গ্রামের অহেদ আলীর ছেলে আঃ সালাম, শিরাব গ্রামের হাজী হাবিবুর রহমানের ছেলে মাওলানা মো. ইকবাল হোসেন, সাদিপুর গ্রামের আবু জাফরের ছেলে জুবায়ের,  নয়াপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ইসহাক মাওলানা, নানাখী গ্রামের আঃ লতিফের ছেলে শফিকুল ইসলাম,  নেকবর আলীর ছেলে সামসুদ্দিন, নানাখী দক্ষিন পাড়া গ্রামের ওসমান ভূইয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, নানাখী গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ইব্রাহিম, সাদিপুর মোল্লাবাড়ির  মোতালেব মোল্লার ছেলে মোমেন, মৃত আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে মাইনউদ্দিন, কাজরদী গ্রামের সোহবানের ছেলে আবু বকর,  কোনাবাড়ি গ্রামের রমজান, সাদিপুর মোল্লা বাড়ির শফিকুল মোল্লার ছেলে  সুমন মোল্লা,  নানাখী দক্ষিনপাড়া গ্রামের ওহাব আলীর ছেলে রমজান আলী, নানাখী দক্ষিন পাড়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে  আবু বকর, নয়াপুর কাছিমউদ্দিনের ছেলে হাফিজুল, সাদিপুর মোল্লা বাড়ির নাজমুল মোল্লা, ও সাদিপুর গ্রামের শফিক বিহারী। এছাড়াও আরো ২০-৩০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

৭আড়াইহাজারের ৩ মামলা
আড়াইহাজার থানা পুলিশ নাশকতার পরিকল্পনা কালে ৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ৩১ আগস্ট গভীর রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার লক্ষীবরদী চৌরাস্তায় তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশ জানায়। আড়াইহাজার থানার উপÑপরিদর্শক (এস আই) রাকিবুল জানান, গোপনে সংবাদ পেয়ে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং সকালে একই অভিযোগে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৫/৩০  জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো লক্ষীরবদী গ্রামের তারাজুদ্দীনের ছেলে আঃ জলিল (৫০), উত্তর কলাগাছিয়া গ্রামের ওয়েজকরণীর ছেলে মাসুম (৩৬), দুপ্তারা গ্রামের আঃ হামিদের ছেলে আমির হোসেন (৪৫) ও বাঞ্ছারামপুর এলাকার আঃ কালেকের ছেলে সোহেল (৩৫)।

২৫ আগস্ট সকালে আড়াইহাজার থানার এস আই আবুল কাশেম বাদী হয়ে একটি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় ২৪ আগস্ট বিকেলে উপজেলার পাঁচরুখীতে নজরুল ইসলাম আজাদের বাড়িতে অবৈধভাবে সংঘঠিত হয়ে শান্ত রাজনৈতিক পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছিল। তখন সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে অনেকেই পালিয়ে যায়। গ্রেফতার করা হয় কামাল হোসেন, সোহেল মিয়া ও তারেহ আলীকে। মামলায় এ তিনজন সহ নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি লুৎফর রহমান আবদু, সাদেক, সুন্দর আলী, ইকবাল, নাঈম, সালাউদ্দিন, মজিবুর, আবদুল মতিন সহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় আজাদকে নাশকতাকারীর মূল হোতা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২৩ আগস্ট আড়াইহাজারের আরো একটি মামলায় আজাদ ও তার অনুগামীদের আসামী করা হয়। সেদিন গ্রেফতার করা হয় উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান হাবুকে।

বন্দরে ককটেল সহ বিএনপি নেতা মোসলেউদ্দিন গ্রেপ্তার
বন্দরে নাশকতার প্রস্তুতিকালে ২টি ককটেল সহ বিএনপি নেতা মোসলেউদ্দিনকে (৫৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেলে পালিয়েছে অজ্ঞাত আরো ৩০ থেতে ৪০ জন। ১ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বন্দর থানার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কেওঢালা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতা মোসলেউদ্দিন বন্দর উপজেলা লাঙ্গলবন্দ নগর এলাকার তালেব হোসেন মিয়ার ছেলে। বন্দর থানার পিএসআই আব্দুল আলিম বাদী হয়ে বন্দর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করেছে।

নাশকতা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হুসাইন জানান, গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বিধায় তাকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে রোববার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ