৬ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

আবারও আলোচনায় নূর হোসেন পরিবার


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার


আবারও আলোচনায় নূর হোসেন পরিবার

আবারও আলোচনায় এলেন সিদ্ধিরগঞ্জের  নূর হোসেন পরিবার। এ পরিবারটি বরাবরই থাকে আলোচনায়, সমালোচনায়। এবার আবারও আলোচনায় এলেন  গত ৯ সেপ্টেম্বরের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। এ মামলার অন্যতম আসামী নূর হোসেনের ভাই নূর উদ্দিন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আমিনূল ৯ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের  করেন। এ মামলায় নূর উদ্দিনকে করা হয়েছে ৫ নং আসামী। সেই থেকে আবারও আলোচনায় উঠে আসে নূর হোসেন পরিবার।

সাধারণ একজন ট্রাক হেলপার থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির সাথে একই মঞ্চে উঠেছিলেন নূর হোসেন। বরাবরাই তার পরিবারের সদস্যরা থাকে আলোচনা সমালোচনায়। ট্রাক হেলপার থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের আশীর্বাদে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হন নূর হোসেন। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিনের সাথে বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নূর হোসেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে ফিরে আসেন নূর হোসেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হলে সিটি কাউন্সিলর হন নূর হোসেন। চাঁদাবাজী, মাদকব্যবসা, যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজনসহ নানা সমালোচিত কাজ করেছিলেন নূর হোসেন। এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের আসামী হন নূর হোসেন। সেই মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন নূর হোসেন।

তবে তার সা¤্রাজ্য এখনও আগের মতই দেখভাল করছেন তার ভাই, ভাতিজা সহ সহযোগীরা। সেভেন মার্ডারের পর তার ভাই নূর উদ্দিন পলাতক থাকার পর প্রায় দেড় বছর পর এলাকায় আসে। এসেই ভাই নূর হোসেনের সাম্রাজ্য অন্যান্য ভাই ভাতিজা এবং সহযোগীদের নিয়ে কব্জায় নেয়। তার ভাই নূর উদ্দিন এলাকায় এসে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-শিমরাইল মোড়ের লেগুনা থেকে চাঁদা উত্তোলন করে থাকে। প্রতিদিন এ রুট থেকে তার ভাই নূর উদ্দিনের আয় ৬ হাজার টাকা।

এছাড়া শিমরাইল মোড়ের বদর উদ্দিন সুপার মার্কেটের সামনে সরকারী জায়গা মহাসড়ক থেকে ফুটপাথের চাঁদা উত্তোলন করেন নূর উদ্দিন। তার ভাতিজা কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল শিমরাইল মোড়ের ফুটপাথের চাঁদা উত্তোলনের পাশাপাশি ডিএনডি ক্যানেলের পাশে দোকান তুলে ভাড়া দিয়ে আসছে। তার বাবা এলাকায় জমি দখলসহ এলাকার লোকজনকে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে।

নূর হোসেনের আরেক ভাতিজা সোহেলও লেগুনা থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নূর হেসেনের ভাই জজ মিয়া ওরফে ছোট সাহেব শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাশে আবদুল আউয়ালের জায়গায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বালুর ব্যবসা করে আসছে। এতে করে ওই এলাকায় বিশেষ করে শীতলক্ষ্যার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নূর হোসেনের সহযোগী দেলোয়ার ও উজ্জল শিমরাইল মোড়ের ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা উত্তোলন করে আসছে। এতে করে  তারা প্রতিমাসে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা চাঁদা  উত্তোলন করে আসছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের দুইজন নেতা ও প্রশাসনের এক কর্তা ওই চাঁদার ভাগ পেয়ে থাকেন। এছাড়া নূর হোসেনের অন্যান্য সহযোগীরা বিভিন্ন বৈধ অবৈধ কর্মকান্ড করে নূর হোসেনের রাজত্ব দখলে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বরের মামলার পর তারা আবারও আলোচনায় আসে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আমিনূল ইসলাম-২ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। এতে  ৫নং আসামী করা হয় বিএনপি নেতা ও নূর হোসেনের ভাই নূর উদ্দিনকে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৮ সেপ্টেম্বর সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডস্থ গিয়াসউদ্দিনের নির্মানাধীন একতলা ভবনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৩৫ থেকে ৪০ জন বিভিন্ন অস্ত্র শস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার গোপন বৈঠক করছিল। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় আসামীরা। তবে যাবার সময় দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ