২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , ১২:১১ অপরাহ্ণ

rabbhaban

মহাজোট থাকলে এমপি প্রার্থী সেলিম ওসমান ও খোকা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০১:৫৯ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


মহাজোট থাকলে এমপি প্রার্থী সেলিম ওসমান ও খোকা

মহাজোট থাকলে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে দুটি আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা আবারও মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। প্রভাবশালী দৈনিক কালের কণ্ঠ ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে এমপি হলেন সেলিম ওসমান। আর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা।

খবরটিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান এমপিদের আসনগুলো ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও সরকারি মহলে এ বিষয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র কালের কণ্ঠকে এই তথ্য জানিয়ে বলেছে, এর বাইরে আরো সর্বোচ্চ ২১ আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমান দশম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সরাসরি নির্বাচিত ৪৯ সদস্য রয়েছেন। এর বাইরেও সংরক্ষিত আসনে তাদের এমপি রয়েছেন আরো আটজন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দলগুলো নিজেদের মতো করে নির্বাচন প্রস্তুতির কাজও গুছিয়ে এনেছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের কেউ কেউ প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ১৪ দলের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রায় এক ডজন নেতা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের ২০-২২টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। জাতীয় পার্টিকে সর্বোচ্চ ৪৫-৫০টি আসন দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে ১৪ দলের শরিকরা আরো বেশ কটি আসন পাবে।

সূত্রগুলো জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে আগামী মাসের প্রথম দিক থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৪ দলের শরিক সব রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠক করেছেন। সেখানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ১৪ দলের শরিক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জেপি ও তরীকত ফেডারেশনের নেতাদের দু-এক দিনের মধ্যে অনুরূপ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন বণ্টনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তাহলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন বণ্টন, সমঝোতা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সব কিছু নির্ভর করছে মেরুকরণ কিভাবে হবে, সেভাবেই অ্যালায়েন্সের সমীকরণ হবে। জোটগতভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে।

এর আগে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন মনোনয়ন তালিকা নিয়ে বিতর্ক তখন একটি জাতীয় দৈনিক আবারো ৬৭ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শাজাহান খান নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে ১০০ এমপির তালিকা প্রস্তুত ও সেটা পত্রিকায় দেখা যাবে বলেছিলেন। তখন তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের নাম ঘোষণা করেন। যদিও পরদিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অবশ্য সে তালিকার বিষয়টি সত্য না জানান।

এ অবস্থায় যখন সকলে ধোঁয়াশাতে তখন ১২ সেপ্টেম্বর দৈনি কালের কণ্ঠে ৬৭ এমপির একটি তালিকা প্রকাশ পায়। ওই সংবাদটিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ গুছিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তাতে কাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এসব বিষয়ে অবস্থান চূড়ান্ত করেছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়। নির্বাচনে শতাধিক আসনের জন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৭ জনের নাম জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ওই সব আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ গোছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ