৯ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের সামনে ফাঁকা মাঠ, বিএনপি শিবিরে মামলার হানা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৫ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

ছবিগুলো আসন কেন্দ্রীক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনেকটা মারমুখি ভঙ্গিতে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। যেকারণে রাজনীতিক মাঠ অনেকটা ফাঁকা হয়ে পড়ছে। আর মাঠ ফাঁকা হয়ে পড়লে কোন রাজনৈতিক দল লাভবান হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এদিকে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের নির্দেশনায় দফায় দফায় হামলা, মামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি নেতারা।

নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে আসামী করা হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মী। ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ৩২জন। তবে মামলার ভয়ে আত্মগোপনে আছেন শত শত নেতাকর্মী। একের পর এক ধারাবাহিক মামলার কারণে এসব নেতাকর্মীরাও জামিন নিতে আদালতে যাচ্ছেন না। বরং আরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রায় দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগে ও পরে নারায়ণগঞ্জে ১৩টি মামলায় শত শত নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। অনেকেই তখন আত্মগোপনে থাকেন। কারাভোগ করতে হয় জেলা বিএনপির সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ সহ অনেকেই কারাভোগ করেন। কিন্তু এখন আবার নতুন করে ১৩টি মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্রাহি দশা। আগামী নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীর যে সহজেই আবার মাঠে নামতে পারছেন না এটাও নিশ্চিত। তাছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতার বিরুদ্ধেই মামলা করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির যেসব সক্রিয় নেতা তাদেরকেও আসামী করা হয়েছে। এতে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা কার্যত রাজনীতি বিচ্ছিন্ন হতে চলেছেন। সহসাই তাদের ফেরার কোন লক্ষণ নাই। কারণ তাদের একেকজনের বিরুদ্ধে একাধিক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। ফলে কতগুলো মামলাতে তারা জামিন নিবেন সেটা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের জেলে পাঠিয়ে মাঠ খালি করতে চাইছে। আর তাতে যেন বিগত নির্বাচনের মত ফাঁকা মাঠে এবারো ক্ষমতাসীনরা গোল দিতে পারে।

সম্প্রতি কোরবানির ঈদের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ টি মামলা হয়েছে। আর সেসব মামলায় বিএনপি দলের নেতাকর্মীদের নাম দেয়া হয়েছে। তবে এসব মামলায় ভুতুরে মামলা দায়েরের অনেক প্রমাণ সহ অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশ থাকা ও মৃত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এসব ভুতুরে মামলা দায়ের করার নানা অভিযোগ ও প্রমাণও রয়েছে।

এদিকে বিএনপি দলীয় কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে আটক করা হয়েছে চারজনকে। পুলিশের বাধার কারণে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচী প- হয়ে যায়।

অপরদিকে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির নেতারা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ কড়া এ্যাকশন দেখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। তারই অংশ হিসেবে আজকে আমরা শান্তিপূর্ণ পালন করতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন আমাদের দাঁড়াতে দেয়নি। আমাদেরকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এভাবে আমাদেরকে দাঁড়াতে না দিলে আমরা কোথায় যাবো।

এদিকে ঘটনা ছাড়াই একের পর এক পুলিশ মামলা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, কোথাও কোন ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রীয় কোন কর্মসূচি ছিল না। এমন কি শান্তিপূর্ণ কোন কর্মসূচিও নেতাকর্মীরা করেনি। তারপরও পুলিশ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঘটনা ছাড়া মামলা দিচ্ছে। শুধুমাত্র আগামী দিনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে এসব মামলা করা হচ্ছে। এছাড়াও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে আর আবার একতরফা নির্বাচন করার জন্যই এসব করা হচ্ছে।

এছাড়া বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, ‘ভুতুরে মামলা দিয়ে একের পর এক বিএনপি নেতাদের জেলে পাঠাতে চাইছে এ সরকার। আর নয়তো বিদেশে অবস্থান করা ও মৃত ব্যক্তির নামে মামলা কি করে হয়। আর এসব মামলার মধ্য দিয়ে রাজনীতিক মাঠ ফাঁকা করতে চাইছে এ সরকার।’

জানা গেছে, ‘নির্বাচনী বছরের শুরুতে বিএনপি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা ইস্যুতে সারা দেশের মত এ জেলার ৭ টি থানায় মোট ১৩ টি মামলা দায়ের করা হয়। আর সেই মামলায় দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা, জেল, জুলুমের খড়গ নেমে আসে। এমনকি দলীয় কর্মসূচিগুলোতেও বাধা দেয় পুলিশ। সেই থেকে হামলা, মামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকলে অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের নিদের্শে পুলিশ প্রশাসন হামলা, মামলা, জেল, জুলুমের মত ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তাছাড় পুলিশ প্রশাসন যে সরকারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তা একেবারে স্পষ্ট। আর সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এর আগে দশম নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। আর সেই নির্বাচনের প্রভাব এই নির্বাচনে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বিএনপি দলটি এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পুরো প্রস্তুতি নেয়ার অনেক খবরও প্রকাশ পেয়েছে। এই অবস্থায় ফের ক্ষমতায় টিকে থাকলে রাজনীতিতে কৌশল ব্যবহার না করলে মাঠ ফাঁকা করা সম্ভব হচ্ছেনা। এর মধ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভায় বিশাল শো ডাউনের চিত্র দেখা গেছে যা দেখে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা রীতিমত চমকে গেছেন। কারণ হামলা, মামলা ও পুলিশের ভয়কে উপেক্ষা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিশাল শো ডাউন করে জনসভাকে সফল করেছে। আর যদি এদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা পুলিশের ভয় না থাকতো তাহলে আরো কত বিশাল জনসমুদ্রের চিত্র দেখা যেত।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ