৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

rabbhaban

খালি পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার


খালি পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও গতি ফিরছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে। কমিটি গঠনের পর একের পর এক মাস অতিবাহিত হতে চললেও জেলা আওয়ামীলীগের খালি পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পর পর কয়েকটি মিটিং করেও সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারছেন না জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদে থাকা নেতাকর্মীরা। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালি পদ পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ।

জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পরে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। এর ১৩ মাস পর গত বছরের ২৫ নভেম্বর ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া এই কমিটিতে খালি থেকে যায় ৫টি পদ। এর মধ্যে সহ সভাপতি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকসহ ২জন সম্পাদকীয় পদ ও  ২ জন সদস্য পদ খালি রয়েছে। তাছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণার আগেই একজনের মৃত্যু ঘটে।

এছাড়াও শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক কাওসার আহমেদ পলাশ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে মনিরুজ্জামান মনির পদত্যাগ করায় সবমিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে বর্তমানে ৮টি পদ খালি রয়েছে।

জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর মাসের পর মাস অতিবাহিত হতে চললেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত খালি পড়ে থাকা ৮টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই ৮টি পদ পূরণের লক্ষ্যে একাধিক সভাসহ নানা আলাপ-আলোচনা হলেও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়হীনতার কারণে সকল চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ ৮টি পদ পূরণের লক্ষ্যে গত ২৯ জুলাই ও ৩১ জুলাই পর পর দুইটি জেলা আওয়ামীলীগের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই দুইটি সভাতেই নেতৃবৃন্দরা একে অপরের চরম বিতর্কে লিপ্ত হন। শীর্ষ নেতারা একে অপরের সাথে উচ্চ বাক্যলাপে লিপ্ত হন। একে অপরে বিরুদ্ধে তুলেছেন বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সভাতে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরি সদস্য ৮টি পদ নিয়ে টাকা ছড়াছড়ির অভিযোগ তুলেন। ফলে কোনো সিন্ধান্ত ছাড়াই সভার সমাপ্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ৩১ জুলাইয়ের সভাতেও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সহ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। একে অপরের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। ফলশ্রুতিতে এদিনও জেলা আওয়ামীলীগের খালি পড়ে থাকা ৮টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কোনো সিন্ধান্তে উপনীত হওয়া ছাড়াই শোকের মাস উপলক্ষ্যে পুরো আগস্ট পর্যন্ত সভার মূলতবি করা হয়।

কিন্তু শোকের মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর অর্ধমাস অতিবাহিত হতে চলছে। তারপরেও জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের এব্যাপারে কোন মাথাব্যাথা নেই। তারা যার যার মতো করেই দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এই খালি পদ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া দ্বন্দ্বও দূর হচ্ছে না। যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সুফল বয়ে আনবে না।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা ছিল বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে দুর্বলতাগুলোকে কাটিয়ে উঠা। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। কিন্তু বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরার ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা নেই। সাথে সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রমে পূর্ণতা আনার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামীলীগের খালি পড়ে থাকা ৮টি পদ পূরণেও ব্যর্থ হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, খালি পড়ে ৮টি পদের মধ্যে ৩টি অঘোষিতভাবে পূরণ হয়ে গেছে। বাকী যেগুলো আছে সেগুলো আর কখনোই পূরণ হবে না। এগুলো এভাবেই থেকে যাবে। আর এ ব্যাপারে শীর্ষ নেতারাও মাথা ঘামাতে চাচ্ছেন না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ