৯ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

অনিশ্চিত গাজী!


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪০ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার


অনিশ্চিত গাজী!

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন থেকে। আর সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে চারজনের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। যেগুলো হলে নারায়ণগঞ্জ-২, ৩, ৪ ও ৫ আসন। তবে এখনও অনিশ্চিত নারায়ণগঞ্জ-১। আর সেই আসনের বর্তমান এমপি হলেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তবে গাজীর পরিবর্তে এ আসনে কে হবেন প্রার্থী এ নিয়ে রয়েছেন বিশাল সমীকরণ। গাজীর পরবর্তীতে নতুন মুখ আসবে এমনটাই ধারণা ভোটারদের মধ্যে। ফলে কৌশল ও ভাগ্যের কাছে হেরে যেতে হবে গোলাম দস্তগীর গাজীকে। কিন্তু কথিত রয়েছে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। যেকোন মুহূর্তে দাবার গুটি ঘুরে যেতে পারে এমনটাই ধারণা গাজী সমর্থকদের মধ্যে।

৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ঘটিত। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও ৩ মহাজোটের প্রার্থী ও বাকি ৩টিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়। তবে আগামী নির্বাচনে বর্তমান ৫জনই এমপি প্রার্থী হবেন কিনা নিয়ে ছিল সংশয়। আর তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন তালিকা নিয়ে বিতর্ক তখন ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় আওয়ামীলীগের ৬৭ জন এমপির ছবি সহ তালিকা প্রকাশ পায়। ওই তালিকায় নারায়ণগঞ্জে দুটি আসনের জন্য দুইজনের ছবি সহ নাম প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে একজন হলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। তবে এ তালিকায় ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর নাম।

ওই সংবাদটিতে বলা হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের সার্বিক প্রস্তুতির কাজ গুছিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তাতে কাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এসব বিষয়ে অবস্থান চূড়ান্ত করেছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়। নির্বাচনে শতাধিক আসনের জন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬৭জনের নাম জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারনী পর্যায় থেকে ওই সব আসনে সম্ভব্য দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ গোছানোর নির্দেশান দেওয়া হয়েছে।

১২ আগস্টের প্রকাশিত সংবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয় জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনের এমপির নাম। এর মধ্যে একটি হলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। সংবাদের বলা হয় মহাজোট থাকলে আগামী নির্বাচনে ওই দুটি আসনে তারাই মনোনয়ন পাবেন। ওই সংবাদটিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান এমপিদের আসনগুলো ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছৈ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের অন্য চারটির আসনের তুলনায় ভিন্ন রূপগঞ্জের আসনটি। শিল্প এলাকা হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ওই আসনে এমপি হওয়ার মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। যার মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশার প্রথমে রয়েছেন আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। রাজনৈতিক সহ ব্যবসায়ীক বিরোধ রয়েছেন গাজী গ্রুপ ও বসুন্ধরা গ্রুপের মধ্যে। আর তাই আনভীর রূপগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাছাড়া রূপগঞ্জ আসন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদও নির্বাচন করবেন এমন প্রচারণা চালানো হয়। বেশ কিছু পোস্টার ছাপিয়ে এলাকাবাসীকে জানানও দেওয়া হয়। দুই প্রার্থীর কারণেই কাপাল পুড়তে পারে বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর।

মহাজোট থাকলে হুসাইন মোহাম্মদ এরাশাদের কথা রাখতে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আসনটি ছাড় দেওয়া হলে তখন প্রার্থী হবে এরশাদ। আর কোন কারণ এরশাদ নিজে নির্বাচন না করতে আগ্রহী হয় তাহলে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আনভীর করবেন নির্বাচন। এতে করে আওয়ামীলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে নতুন করে দ্বন্ধ শুর হওয়া সম্ভবনা রয়ে যায়। তাই এ দুই পরিবর্তে নতুন কোন মুখ আসতে পারে এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় ভোটারা।

গোলাম দস্তগীর গাজীর সমর্থকদের দাবি রাজনীতিতে যেকোন সময় যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে। এর উদহারণ হলো নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। যিনি কখনো এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখেনি তিনিও এমপি হয়েছেন। এলাকায় উন্নয়ন ও মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ায় নতুন করে এমপি মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেহেতু রূপগঞ্জের মানুষের কাছে প্রিয় মুখে গোলাম দস্তগীর গাজী। ইতোমধ্যে মানুষের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছেন। যথেষ্ট কৌশলী ভূমিকায় ভোটারদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বিনিময়ে নৌকায় ভোট চেয়ে বেরাচ্ছেন। গণসংযোগও করছেন। আর তাতে তিনিই নৌকার টিকেট পাবেন।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ ১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে ১৯৯১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৫টি জাতীয় নির্বাচনে ৩ বার বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী  ও দুই বার বিজয়ী হয়েছে বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী। যার মধ্যে ২০১৪ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী : গোলাম দস্তগীর গাজী (আওয়ামীলীগ নৌকা) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী : মো. শওকত আলী (স্বতন্ত্র-তালা)। ২০০৮ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী : গোলাম দস্তগীর গাজী (আওয়ামীলীগ নৌকা), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী : কাজী মনিরুজ্জামান মনির (বিএনপি-ধানের শীষ)। ২০০১ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী : আব্দুল মতিন চৌধুরী (বিএনপি-ধানের শীষ) নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেজর জেনারেল (অব:) কেএম সফিউল্লাহ (আওয়ামীলীগনৌকা)। ১৯৯৬ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী : মেজর জেনারেল কেএম সফিউল্লাহ (আওয়ামীলীগ নৌকা) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী : আব্দুল মতিন চৌধুরী (বিএনপি-ধানের শীষ)। ১৯৯১ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী : আব্দুল মতিন চৌধুরী (বিএনপি-ধানের শীষ) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী : আতারুজ্জামান (আওয়ামীলীগ নৌকা)।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

রাজনীতি -এর সর্বশেষ